* দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা*

ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র * সকল প্রকার একাউন্ট খুলতে * * টাকা জমা করতে * টাকা উঠাতে * * বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এর টাকা বোনাসসহ উঠাতে * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে আসুন। * * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা* * প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ 01711-458151* 01700-925241*

বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

টুকরো গল্প : পিতাকে সন্তানের নসীহত: মোশাররফ হোসাইন সাগর

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ এ. কে. এম. বজলুর রহমান সেলিম একজন ইসলামী আদর্শের লেখক, কবি, গীতিকার ও নাট্যকার। তিনি অনেকগুলো ইসলামী গান লিখেছেন, তারমধ্যে নাতে রাসূলও আছে বেশ কয়েকটি। তিনি মাঝে মধ্যে সেই গানগুলো কম্পিউটারে নিজে শোনেন, ছোট মেয়েকেও কাছে ডেকে শুনতে বলেন। সেইসাথে মেয়েকে আরো বলে থাকেন--'দেখো, তোমার আব্বু কত সুন্দর সুন্দর নাতে রাসূল (সা) লিখেছে। শুনে প্রাণ ঠাণ্ডা করো আর রাসূলের আদর্শে নিজেকে গড়ে তোলো।'

সেলিম সাহেবের তিনটি মেয়ে, কোনো ছেলে নেই। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী মেয়েদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দ্বীন-ঈমানদার মুত্তাকী পাত্রের হাতে তুলে দিলে জান্নাত লাভ করা যায়। সেই জান্নাত লাভের আশায়-ই সেলিম সাহেব তার জান্নাতের টিকিট মেয়ে তিনটিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং দ্বীনদার ঈমানদার মুত্তাকী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী মহিলা কামিল মাদরাসায় পড়াচ্ছেন।

মেয়েদের এই মাদরাসায় পড়িয়েই তিনি পড়েছেন গ্যাঁড়াকলে। মেয়েরা এখন তার প্রতিটি কথা ও কাজকে কুরআন-হাদীসের কষ্টিপাথরে যাচাই-বাছাই করে মূল্যায়ন করে থাকে। এরমধ্যে ছোট মেয়েটাই বেশি সোচ্চার ও পিতার ত্রুটি-বিচ্যুতির সমালোচনা করে। কারণ অন্যদু'টি মেয়ে পিতাকে কিছুটা ভয় পায় বলে পিতার অনেক ত্রুটি-বিচ্যূতি দেখে-শুনেও নীরব থাকে। কিন্তু ছোট মেয়ে তা নয়, আদর পেয়ে মাথায় চড়ে বসেছে।

ছোট মেয়েটা লেখাপড়ায় এবং অন্যান্য অনেক দিক দিয়ে ভালো হলেও একটা বদভ্যাস ওর রয়েছে। তাহলো পড়ার টেবিলকে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখে না। এলোমেলো করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে বই-খাতা-কলম সব, যা দৃষ্টিকটু লাগে। এহেন অবস্থা দেখেই সেলিম সাহেব একদিন ছোট মেয়েকে কাছে ডেকে জোরে এক ধমক দিয়ে বললেন--'সুমী, আমি তোমাকে কতদিন না বলেছি পড়ার টেবিল সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখবে! তা রাখোনি কেন? এখন মার দিবো একটা?'

তখন-ই ছোট মেয়ে সুমী রাগে পাল্টা ফুঁসে উঠে সেলিম সাহেবকে বলে--'এ্যাঁ! তিনি আমায় ধমক দেয়, বকা দেয়, মার দিতে চায়। তিনি আবার ইসলামী উপন্যাস লিখেন, গল্প লিখেন, নাটক লিখেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে 'না'ত' লিখেন। রাসূলের শানে না'ত লিখলেই হয় না, তাঁর আদর্শকে জানতে ও মানতে হয়, তাঁর মতো চরিত্রের অধিকারী হতে হয়।'

মেয়ে একটু থেমে দম নিয়ে আবার বলতে থাকে--'তিনি আমার আম্মুকেও ধমক দিয়ে কথা বলেন। কোনোদিন তরকারি একটু কম স্বাদ হলেই ধমক দিয়ে বলেন, এ কী রেঁধেছো, এটা মুখে দেয়া যায়! এত বয়স হলো, তিনটি সন্তানের মা হয়ে গেলে, এখন পর্যন্ত মহিলা ভালোভাবে তরকারি রান্নাটাও শিখতে পারলে না। ধিক তোমাকে!'

সেলিম সাহেব মেয়েকে কিছু বলেন না। তাকে মনখুলে সব কথা বলার সুযোগ দেন। কথা বলে মেয়ের মনের রাগ-ঝালটা একটু কমুক। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে মেয়ে বলতে থাকে--‌'আমরা না হয় আপনার নিজের মেয়ে, আমাদের যা খুশি বলেন, মেনে নিলাম। কিন্তু আমার আম্মু তো পরের মেয়ে, বিনা বেতনে আপনার ঘর-সংসার করছে, আমাদেরসহ আপনাকে রেঁধে-বেড়ে খাওয়াচ্ছে। তার জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া না জানিয়ে আপনি সেই পরের মেয়েকে বকাঝকা করেন কোন অধিকারে?'

সেলিম সাহেবকে চুপ থাকতে দেখে মেয়ের উৎসাহ যেন আরো বেড়ে যায়।পিতার মুখের দিকে বক্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আরো বলে--'আমাদের রাসূল (সা)-এর চরিত্র কেমন ছিল? তিনি কোনোদিন কারো সাথে দুর্ব্যবহার করেননি। জীবনে কোনোদিন কাউকে ধমক দিয়ে কথা বলেননি। এমনকি রাসূল (সা)-এর যারা খাদেম ছিল তারা শত ভুল করলেও তিনি 'উহু' শব্দটি উচ্চারণ করেননি। আব্বু, আপনি হয় রাসূল (সা)-এর আদর্শ মেনে চলুন, না হয় রাসূল (সা)-কে নিয়ে গান-কবিতা লেখা বন্ধ করুন। কথা ও কাজে গড়মিল থাকা চলবে না। এটা মুনাফিকীর লক্ষণ। যেমন আল্লাহ বলেছেন : হে ঈমানদারগণ, তোমরা সে কথা কেন বলো, যা তোমরা করো না। এটা তো আল্লাহর নিকট খুবই ক্রোধ উদ্রেককারী যে, তোমরা বলবে একটা, করবে আরেকটা।'
মেয়ের কথাগুলো সেলিম সাহেব এতক্ষণ স্তপ্ধ হয়ে শুনতেছিলেন। মেয়ের কোনো কথায় বাধা প্রদান বা প্রতিবাদ করেননি।

মেয়ে থামলেপরে তিনি মেয়ের উদ্দেশ্যে বললেন--'আমি তো রাসূল (সা)-এর আদর্শ মেনে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু সব ব্যাপারে হয়তো পারি না। তবে আমি তো ছোটবেলা থেকেই নামায পড়ি, রোযা করি। মাত্র বাইশ বছর বয়স থেকে রাসূল (সা)-এর অন্যতম সুন্নাত মুখে দাড়ি রেখেছি। সৎউপায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আয়-উপার্জন করি। ঈদুল আযহায় কুরবানী দেই। সাধ্যমতো দান-সদকা ও গরীব আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। আমি তোমাদের মতো মাদরাসায় না পড়লেও বাংলা ভাষায় লেখা কুরআনের তাফসীর ও অনেক হাদীসগ্রন্থ পড়েছি। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা শত শত বই পড়েছি। কুরআন-হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য পড়ে যতটুকু জেনেছি-বুঝেছি প্রায় সব-ই মেনে চলার চেষ্টা করি। এটা কি রাসূল (সা)-এর আদর্শের অনুসরণ নয়। আর তোমরা আমার সব কথা মেনে চললে, তোমার আম্মু মজা করে তরকারি রান্না করলে তো আমার মেজাজটা খারাপ হয় না, আর আমার আচরণও রাসূল (সা)-এর আচরণের বিপরীত হয় না।'

সেলিম সাহেবের কথা শুনে মেয়ে উত্তরে বললো--'এটাই তো আপনার সবচেয়ে বড় দোষ, পান থেকে চুন খসলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, ক্রোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আপনার মধ্যে রাগ ও ক্রোধের মাত্রা অনেক বেশি। এটা দমন করতে না পারলে আপনি রাসূলের আদর্শের পূর্ণ অনুসারী হতে পারবেন না। আপনি হাদীসে পড়েননি রাসূল (সা)-এর সেই বাণীটি, তিনি বলেছেন : কুস্তিতে যে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে সে বীর নয়, নিজের ক্রোধকে যে দমন করতে পারে সে-ই প্রকৃত বীর।'

সেলিম সাহেব মেয়ের সাথে আর তর্কে লিপ্ত হলেন না। মনে মনে ভাবতে থাকলেন, মেয়ে যা বলছে তা তো তার বেলায় অনেকাংশেই সত্যি। আর পরকালে জান্নাত লাভের প্রত্যাশায় মেয়েদেরকে মাদরাসায় পড়িয়ে আলেম বানিয়ে তিনি তো ফাঁদে আটকে গেছেন। জান্নাত লাভ করতে হলে এ ফাঁদ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই বুঝি। মুনাফিকীর দুর্নাম ঘুচিয়ে রাসূল (সা)-এর আদর্শের পূর্ণ অনুসারী ও স্ত্রী-সন্তানের নিকট ভালো হতে হলে নিজের চরিত্রে যা দোষ-ত্রুটি আছে একে একে তা সংশোধন করে নিতে হবে। হে আল্লাহ, আমায় তাওফীক দাও!
১৫. ১১. ২০

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গ্রামের মানুষকে মসজিদমুখী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ!

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ সময়ের কাঁটা তখন ভোর ৫টা ছুঁই ছুঁই। সরকারতালুক গ্রামের রাস্তায় সকল বয়সী মানুষের আনাগোনা। সবার গন্তব্য মসজিদে, ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন তাঁরা। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। মহুর্তের মধ্যে মুসল্লীদের পদাচারণায় মসজিদ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। একসাথে নামাজ আদায় করলো প্রায় ২শতাধিক মুসল্লী। এমন চিত্র প্রতিদিন দেখা যায় মিরসরাই উপজেলার ১ নং করেরহাট ইউনিয়নের সরকারতালুক জামে মসজিদে। যে মসজিদে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ১০ থেকে ১২জন মুসল্লী আসতো এখন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুইশ’র বেশি। সবার মাঝে অন্যরকম ভ্রাতৃত্য সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদ নির্মাণের প্রতিযোগিতা আর মসজিদের শোভাবর্ধন নিয়েই আমরা চিন্তিত কিন্তু মসজিদের মুসল্লীদের

আত্মীক উন্নতি, মানুষকে মসজিদমূখী করা নিয়ে নেই কোনো কর্মসূচী। মসজিদের ইমাম সাহেব থেকে কমিটি কেউ দায়ভার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মাওলানা নিজাম উদ্দিন মিয়াজী। মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সরকারতালুক গ্রামের মানুষ।
মাওলানা নিজাম উদ্দিন মিয়াজী সরকারতালুক গ্রামের জামে মসজিদের দায়িত্ব যেদিন নিয়েছেন তখন ফজরের নামাজে মুসল্লীর সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন। গ্রামের এত মানুষের বসবাস ফজরের নামাজে মুসল্লীর সংখ্যা এত নগণ্য তা মানসিকভাবে মেনে নেয়নি ইমাম সাহেব।
তখনই প্রতিজ্ঞা করেন ফজরের নামাজে গ্রমের সব পুরুষদের মসজিদমুখী করবেন। একটু ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নেন তিনি। কোমর বেঁধে নামলেন , প্রতিদিন ৫০ জনকে পালাক্রমে মোবাইলে কল দিতেন, গ্রামের মানুষের দুয়ারে গিয়ে বোঝাতেন। মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে অবহিত করলেন।
পরিশ্রম ব্যর্থ হয়নি ইমাম সাহেবের। গ্রামের মানুষের সদিচ্ছা ইমাম সাহেবের ডাকে সাড়া দিয়ে গ্রামের শিশু থেকে তরুণ, যুবক থেকে বায়োজোষ্ঠ সবার অংশগ্রহণে অন্যান্য ওয়াক্তের ন্যায় প্রতিদিন ফজরের নামাজে মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
নিয়মিত মুসল্লী প্রশিক্ষণ,বিষয় ভিত্তিক বাস্তবসম্মত জীবনাচারণ সম্পর্কে নিয়মিত গ্রুমিং করেন ইমাম নিজাম উদ্দিন।
প্রত্যেক শুক্রবার ফজরের নামাজ আদায়ের পর সব মুসল্লী একসাথে নাস্তা করে মসজিদ প্রাঙ্গনে। ব্যাক্তি উদ্যোগের সপ্তাহের যেকোনো দিন সম্মিলিত ভাবে নাস্তা করানো হয়।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরুল আলম জানান, ফজরের নামাজ মসজিদে পড়া হতো না আমার, এখন রোজ ফজরে মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়। পুরো গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে এখন ফজরের ওয়াক্তে মসজিদ পূর্ণ হয়ে যায়। পুরো কৃতিত্ব ইমাম মাওলানা নিজাম উদ্দিন মিয়াজী সাহেবের। ইমাম সাহেব আলোকিত মানুষ। আলো দিয়ে যাচ্ছেন পুরো গ্রামে।
মসজিদের ইমাম নিজাম উদ্দিন মিয়াজী বলেন, মসজিদ কমিটির সহযোগিতা, গ্রামের মানুষের সদিচ্ছায় সম্ভব হয়েছে। গ্রামে একটা মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। ফজরের নামাজে অংশগ্রহন অল্প কজন বাকি আছে। তারা নামাজে আসলে পুরষ্কৃত করা হবে তাদের। তিনি আরো বলেন, মুসল্লীদের নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক মুসল্লী প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

শীত :মল্লিক মাহমুদ

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ১৮ নভেম্বর’২০

কুয়াশায় ঢাকা শীত এসে গেলো
সবুজের বাংলায়,
টুকটুকে লাল গোলাপের কুঁড়ি
তাই বুঝি হেসে যায়।
ভালোবাসা মাখা শিশির জমেছে
শুভ্র শিউলি ফুলে,
হিমেল বাতাসে ছোট্ট মাচার
পুঁই লতা ওঠে দুলে।
দোয়েল-শ্যামারা সুরে সুরে গায়
সোনালি ভোরের গান,
ডানা ঝিলমিল মাছরাঙা দেখে
ভরে যায় মন-প্রাণ।
খেজুর রসের মৌ মৌ ঘ্রাণে
মুখরিত সারা গ্রাম,
বুকের জমিনে স্বপ্নের নদী
ভেসে যায় অবিরাম।
.
১৮।১১।২০

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর একজন জাবি অধ্যাপক মামুন

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্বাবদ্যালয় (জাবি) এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক  ড. এ.এ. মামুন বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়- ভিত্তিক গবেষকদের প্রকাশিত একটি জার্নালে এ তালিকাবুক্তি হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন আইওনিডিস, কেভিন ডব্লিউ বয়াক এবং ন্যাদারল্যান্ডস-ভিত্তিক জেরোইন বাস  এক গবেষণায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার এক লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৩ জন বিজ্ঞানীর এই তালিকা প্রকাশ করেন।

প্রত্যেক বিজ্ঞানীকে তাদের নিজস্ব গবেষণা কাজের উদ্ধৃতি সংখার ভিত্তিতে এ তালিকায় স্থান দেয়া হয়।

ড. মামুন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন। সারা বিশ্বে বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তার ৪১৭টি প্রকাশনা রয়েছে িএবং তার গবেষণা থেকে ১২ হাজারের বেশি উদ্ধৃত করা হয়েছে।

তার গবেষণার বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্লাজমা ফিজিক্স, কোয়ান্টাম ফিজিক্স ও মেডিক্যাল ফিজিক্স। 

পদার্থবিজ্ঞানে অবদানের জন্য ড. মামুন ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হন।

তিনি ২০০৯ সালে পদার্থবিদ্যায় অসামান্য অবদানের জন্য জার্মানীর আলেকজান্ডার ভন হোমবোল্ড ফাউন্ডেশন থেকে ফেড্রিক উইলিয়ান ‘ব্যাসেল রির্সাস অ্যাওয়ার্ড  অর্জন করেন।

ড. মামুন যুক্তরাজ্যের সেন্ট অ্যান্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি অর্জন করেছেন এবং জার্মানি হোমবোল্ড পোস্টডক ফেলো।

জাবি উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ড. মামুনের অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সৌজন্যে : দ্য ডেইলি স্টার

বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বিবাহিত পুরুষ ‘মানসিক' নির্যাতনের শিকার!!

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বিবাহিত পুরুষ ‘মানসিক' নির্যাতনের শিকার বলে একটি বেসরকারি সংস্থার নিজস্ব গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ মেন'স রাইটস ফাউন্ডেশন নামে ওই সংগঠনটি বলছে, সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই এসব বিষয় প্রকাশ করতে চান না৷

তাদের দাবি, সামাজিক লজ্জার ভয়ে পরিচয় প্রকাশ করেন না অভিযোগকারীরা৷ বিবাহিত অনেক পুরুষের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে একমত মানবাধিকারকর্মীরাও৷ তারা বলছেন, পুরুষদের নির্যাতিত হওয়ার খবর তাদের কাছে আসে৷ তবে যেই নির্যাতিত হোক তার আইনি সুরক্ষার দাবি জানান তারা৷
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালন করছে৷ ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেন'স রাইটস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশে পুরুষ দিবস পালন করছে৷ চলতি বছরও ছোট পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে বলে জানায় সংগঠনটি৷
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শেখ খাইরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নির্যাতিত পুরুষদের' পরামর্শ ও আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা দিতে এই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ৷
তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রতিদিন যে ফোন আসছে তাতে আমরা দেখেছি, নীরবে চোখের জল ফেলছেন অনেক পুরুষ৷ লজ্জায় তারা নির্যাতনের কথা বলতে পারছেন না৷ কোনো নারী নির্যাতিত হলে তিনি তো বিচার চাইতে পারেন৷ অনেক সংগঠন তার পাশে দাঁড়ায়৷ নির্যাতিত পুরুষদের সহযোগিতার জন্য আমরা এ সংগঠনটি করেছি৷
নিজেও এমন নির্যাতনের শিকার দাবি করে তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে আমি অনেক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গিয়েছি৷ তারা কেউই নির্যাতিত পুরুষদের পাশে দাঁড়াতে রাজি হয়নি৷ অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা এই সংগঠন করেছি৷ এখন আমরা নির্যাতনের শিকার পুরুষকে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করছি৷ তাদের পরামর্শ দিচ্ছি৷ জাতীয় সংসদে পুরুষ নির্যাতনবিরোধী আইন করার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি৷ এই আইনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রচারণাও চালাচ্ছি৷
সংগঠনটির গবেষণার বিষয়ে জানতে চাইলে আলম বলেন, আমাদের কাছে প্রতিদিন যে অভিযোগ আসে তার ভিত্তিতেই আমরা গবেষণাটি করেছি৷ তবে সমস্যা হলো, কেউই লিখিত অভিযোগ করতে চান না৷ ফলে আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো দলিলাদি নেই৷
সংগঠনটির দাবি, বিদেশ থেকে ফোন করেও অনেকে তাদের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ করছে৷
বাংলাদেশে পুরুষ নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতার গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের সমাজে পুরুষ একই সঙ্গে কিন্তু নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রেণিভেদে তারা নির্যাতিত হলেও হতে পারে৷
তিনি বলেন, গত বছর আমাদের এখানে (বাংলাদেশে) ছোট পরিসরে পুরুষ দিবস উদযাপিত হয়েছে৷ পুরুষ নির্যাতন নিয়ে আমরা এখনো কোন গবেষণা বা পরিসংখ্যান পাইনি৷ পুরুষরা যত বেশি পুরুষ হিসেবে নির্যাতিত হয়ে থাকেন তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রেণী, অবস্থান ও আর্থ-সামাজিক দুর্বল অবস্থানের কারণে নির্যাতিত হন৷ একই কারণে নারীও নির্যাতিত হন৷ আমি মনে করি সব নির্যাতনেরই আইনী সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন৷

এক সময়ের কোটিপতি আবু জাফরের করুণ মৃত্যু!

 

বাংলাদেশ নিউজ 24 ডেস্কঃ মোহাম্মদ আবু জাফর,চট্টগ্রামের আলকরন এলাকায় পৈত্রিক নিবাস। ভালোবেসে বিয়ে করেন নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার মেয়ে রোজী আক্তারকে। পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারনে তার স্ত্রীকে মা-বাবা মেনে নেয় নি। বলতে গেলে ভালোবেসে বিয়ে করার কারনে নিজ পরিবার- পরিজন ও আত্নীয় - স্বজন থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান আবু জাফর। নিউ মার্কেটে একটি পরিচিত দোকানে চাকুরী করে কোন রকম দুঃখ কষ্টে সংসার চালাতেন।

একসময় ভাগ্যের অন্বেষায় রিজিকের সন্ধানে আবু জাফর পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। প্রথমাবস্থায় চাকুরী ও পরবর্তীতে ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় স্ত্রী'র নামে জায়গা ক্রয় করে বাড়ী নির্মাণ করেন। প্রবাসজীবনে কষ্টার্জিত সমস্ত অর্থ ও সম্পদ সব স্ত্রী'র ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখতেন।।
দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরে আসেন আবু জাফর। নিজস্ব বাড়ী ও ভাড়াঘর এবং ব্যবসা বানিজ্য সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক আবু জাফর। নিজ স্ত্রী, দুই ছেলে যথাক্রমে ফাহিম ও নাইম এবং একমাত্র কন্যা প্রিয়াংকাকে নিয়েই কাজীর দেউড়ির ২নং গলির ১৬১৬ নং বাড়ীতে সুখের নীঢ় গড়ে তোলেন আবু জাফর।।
এ সুখ খুব বেশীদিন স্থায়ী হয়নি আবু জাফরের জীবনে। সংসার জীবনে নেমে আসে এক ঘুর বিভীষিকাময় অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়। স্ত্রী'র সাথে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া- ঝাটি লেগেই থাকত। ১০/১২ বছর আগে পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী যৌতুকের দাবীতে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করে আবু জাফরের বিরুদ্ধে। যাকে ভালোবাসার কারনে নিজের বাবা- মা, ভাই- বোন পরিত্যাগ করেছে এবং নিজের উপার্জিত সব অর্থ যার একাউন্টে জমা করা হয়েছে। যার নামে জায়গা ও বাড়ী করা হয়েছে, সে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন করায় আবু জাফর মনে ভীষন আঘাত পান। স্ত্রী'র এধরনের আচরন সহ্য করতে না পেরে নিরবে আদালতের রায় মেনে নিয়ে জেলেই চলে যান হতভাগা আবু জাফর।
বছর ছয়েক আগে জেল থেকে বের হয়ে কাজীর দেউড়ির বাড়ীতে গিয়ে দেখে স্ত্রী'র নামে কেনা কোটি টাকা দামের জায়গা ও বাড়ী সব বিক্রি করে দিয়ে সন্তানাদি নিয়ে স্ত্রী অন্যত্র চলে গেছে। ক্ষোভে, দূঃখে, অপমানে স্ত্রী ও সন্তানের কাছে আর ফিরে যায়নি। বেচে নেন ভবঘুরে জীবন। ফকির বেশে মাজারে মাজারে ঘুরে চলতে থাকে আবু জাফরের জীবন।।
গত ০৯ নভেম্বর'২০ সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘির পূর্ব পাড়ে হজরত শাহ আমানত শাহ (রা:) মাজারের সামনের রাস্তার পাশেই ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, অচেতন ও সাড়াশব্দহীন অবস্থায় মোহাম্মদ আবু জাফরকে পাওয়া যায়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বাবুল পাল আবু জাফরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষনা করেন।।
পরবর্তীতে মৃতদেহের পকেটে পাওয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড (এনআইডি)'র সূত্র ধরেই আবু জাফরের ঠিকানা ও বৃত্তান্ত পাওয়া যায়।।
এ সমাজে শুধু নারী নির্যাতনই হয় না, কিছু কিছু পুরুষও নির্যাতিত হয়। যা অনেকটা খালি চোখে দেখা যায় না।।
মহান আল্লাহ, ভালোবাসার কাঙ্গাল মরহুম মোহাম্মদ আবু জাফরের জীবনের সমস্ত গুনাহ সমুহ মাফ করে দিয়ে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।।
আমিন।। সুম্মা আমিন।।
(কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি জামাল খান নিবাসী মনজুর আলম ভায়ের প্রতি, যিনি তথ্য দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন)

বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

শুধু ছেলেদেরই নয়, মেয়েদেরও সঠিক সময়ে বিয়ে দেওয়া জরুরি


বাংলাশে বার্তা ডেস্কঃ যৌন ক্ষুধা কি সাধারণ ক্ষুধার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ? ক্ষুধা লাগলে খেতে হয়। খাবার না পেলে চুরি করে হলেও মানুষ খাবার সংগ্রহ করে। তাহলে, যৌন ক্ষুধা নিবারণ করার সুযোগ করে না দিলে তো মানুষ স্বাভাবিকভাবেই হারামের দিকে পা বাড়াবে। দেখুন! বিয়ে কত সহজ ছিলো সাহাবাদের সময়ে!

সাহল বিন সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, একবার এক নারী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার নিজেকে আপনার জন্য উপহার দিতে এসেছি (পরোক্ষ ভাষায় বিয়ের প্রস্তাব)।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করে মাথা নিচু করলেন।
সেই নারী যখন দেখলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ফায়সালা দিচ্ছেন না, তখন সে বসে পড়লো। এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের একজন বললো, ‘যদি আপনার কোন প্রয়োজন না থাকে, তবে এই নারীর সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার কাছে কি (মোহর দেওয়ার মতো) কিছু আছে?’’ সে বললো, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! কিছুই নেই।’
তিনি বললেন, ‘‘তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও এবং দেখো কিছু পাও কি না!’’ এরপর লোকটি চলে গেলো এবং ফিরে এসে বললো, ‘আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কিছুই পেলাম না।’ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘দেখো, একটি লোহার আংটি হলেও!’’ তারপর সে চলে গেলো এবং ফিরে এসে বললো, ‘আল্লাহর কসম! একটি লোহার আংটিও পেলাম না। কিন্তু এই যে আমার লুঙ্গি আছে।’ সাহল (রা.) বলেন, তার কোন চাদর ছিলো না।
অথচ লোকটি বললো, ‘এটাই আমার পরনের লুঙ্গি; এর অর্ধেক দিতে পারি।’ এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমার লুঙ্গি দিয়ে সে কি করবে? তুমি পরিধান করলে তার গায়ে কোনো কিছু থাকবে না। আর সে পরিধান করলে তোমার গায়ে কোনো কিছু থাকবে না।’’ তখন লোকটি বসে পড়লো এবং অনেকক্ষণ সে বসেছিল। তারপর উঠে গেলো।

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফিরে যেতে দেখে ডেকে আনলেন। যখন সে ফিরে আসলো, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তোমার কতটুকু কুরআন মুখস্থ আছে?’’ সে গুণে বললো, ‘অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তুমি কি এ সকল সূরা মুখস্থ তিলাওয়াত করতে পারো?’’ সে বললো, ‘হ্যাঁ!’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘যাও, তুমি যে পরিমাণ কুরআন মুখস্থ করেছো, এর বিনিময়ে এ মহিলার সাথে তোমার বিবাহ দিলাম।’’ [সহিহ বুখারি: ৫০৩০, সহিহ মুসলিম: ১৪২৫]
.
অথচ, এখন ছেলেকে এস্টাবলিশড হতে হয়, ক্যারিয়ার গঠন করতে হয়, বিয়ের আগেই টাকাওয়ালা হতে হয়, সরকারি চাকরিজীবী হতে হয়! কত পরিকল্পনা! সেই সোনালী যামানায় এত কিছু চিন্তা করতে হতো না। যদি বুঝা যেতো, ছেলে পরিশ্রম করে বউয়ের চাহিদা পূরণ করতে পারবে এবং এবং সে এ ব্যাপারে আন্তরিক থাকবে, তাহলে সহজেই কণেকে এমন ছেলের হাতে তুলে দেওয়া হতো। তাই বলে কি তারা না খেয়ে থাকতো? জি না, আল্লাহই তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করতেন। আবার বর্তমানে যেভাবে ‘আগুন সুন্দরী’ খোঁজা হয়, ৫ ফুট ৩/৪ ইঞ্চি খোঁজা হয়, দুধেআলতা দেখা হয় এগুলো তখন ছিলো না। কিংবা এখনকার মতো তখন যৌতুকের জন্য ছেলেপক্ষ দিওয়ানা ছিলো না।
.
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন: ‘‘আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কিছু যুবক ছিলাম, যাদের কিছুই ছিলো না। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্য রাখো, তাদের উচিত বিয়ে করে ফেলা। কেননা বিয়ে দৃষ্টি অবনতকারী ও লজ্জাস্থানকে হেফাযতকারী। আর যার সামর্থ্য নেই, তার উচিত রোজা রাখা। কেননা রোজা যৌন-উত্তেজনা প্রশমনকারী।’’ [সহিহ বুখারি: ৫০৬৬, সহিহ মুসলিম: ১৪০০]
.
মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই কথা। কারণ ছেলেদের যৌন-চাহিদার কথা অনেক সময় দৃশ্যমান হলেও মেয়েরা লজ্জায় কিছু বলতে পারে না। আবার মেয়েদের যতটা-না যৌন চাহিদার প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন একজন উত্তম জীবনসঙ্গী, যার সাথে সে একান্তে সময় কাটাতে পারে। এজন্য মেয়েরা যখন বিয়ের মাধ্যমে এই সুযোগটি লাভ করতে পারে না, তখন হারাম রিলেশনে জড়ায়। কিন্তু দিনে দিনে তার থেকে লাজুকতা ও কোমলতা হারিয়ে যেতে থাকে। অনেক সময় সে ছেলে বন্ধুর প্ররোচনায় অশ্লীল চ্যাট করে, ন্যুডিটি আদান-প্রদান করে আবার অনেক সময় নিজেই এসবে অভ্যস্ত হয়ে যায়, ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে দেয়। তাই, শুধু ছেলেদেরই নয়, মেয়েদেরও সঠিক সময়ে বিয়ে দেওয়া জরুরি।
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা যে ছেলের দ্বীনদারি ও চরিত্রের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারবে, সে যদি প্রস্তাব দেয়, তাহলে তার কাছে (তোমাদের মেয়েকে) বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে মহা-বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।’’ [তিরমিযি: ১০৮৪, হাদিসটি হাসান]
.
সম্মানিত অভিভাবক, আপনি বাস্তবতায় আসুন। নিজের অবিবাহিত (ব্যাচেলর) জীবনকে স্মরণ করুন। আপনার সন্তান এখন সেই সময়টি অতিবাহিত করছে। আপনি সেই সময়টিতে যা কামনা করতেন, আপনার সন্তান এখন সেটি কামনা করে। আপনি তখন যেভাবে মন খারাপ করে থাকতেন, আপনার সন্তান এখন তেমনটা করে। আশা করি, বুঝেছেন। না বোঝার তো কিছু নেই। দয়া করে সমাজের দোহাই দিয়ে নিজের সন্তানকে হারামে জর্জরিত করে রাখবেন না। সন্তানের প্রতি এই অবহেলায় সন্তানের গুনাহের দায় আপনি এড়াতে পারবেন না। আল্লাহর কসম! আল্লাহর পাকড়াও থেকে রেহাই পাবেন না।
.
ফাতেমা খাতুন, কেশরহাট, মোহনপুর, রাজশাহী ।

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিলেন জো-বাইডেন

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ জো বাইডেন আমেরিকার ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 
সেই সাথে বিদায় নিলেন বিশ্বের তুমুল আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তিনি ছিলেন বিশ্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব’র ইতিহাসে সমালোচনার শীর্ষে । 
রাজনীতিসহ  অন্যান্য সকল গুরুত্বপূর্ন অঙ্গনে তার অদ্ভুদ বিচরণ, কথা, আকষ্মিক দিকনির্দেশনা ও  আক্রমণমূলক সিদ্ধান্ত দেশ ও বিশ্ব দরবারেও করেছে প্রশ্নবিদ্ধ ও জনমনে সৃষ্টি হয় মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।

ট্রাম্পের পরাজয়ের ফলে বিশ্বনেতৃত্বে ও আমেরিকার ইতহাসে ইতিবাচক ও নীতিবাচক তুমুল ঝড়ের যেন অন্ত নেই।
আমেরিকার নেতৃত্বের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে তেমনি বিশ্ব নেতৃত্বেও। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম উৎকন্ঠা, উত্তেজনা অবশেষে বিজয়ের মুকুট পেলেন বিশ্ববরেণ্য প্রবীন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বর কেন্দ্রবিন্দু জো বাইডেন।
জো-বাইডেন হলেন ইতিহাসে দীর্ঘ ৫০ বছর অতিবাহিত করা একজন অতুলনীয় রাজনীতিবিদ ও বহুল আলোচিত ব‍্যাক্তিত্ব। সারা বিশ্ব আশাবাদী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনার ভূমিকাও যেন হয় অতুলনীয়। আমেরিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন।

তিনি ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্বের সকল প্রান্তের গ‍ন্যমান্য শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দের প্রাণঢালা উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত ও বিশ্ব শান্তিতে অনন্য অবদান রাখবেন বলে সকলেই আশাবাদী। আবারও জানাই ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন নব নির্বাচিত বিশ্বের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন।

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০

১১৪ টি সূরার নাম ও বাংলা অর্থ

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  
১. সুরা ফাতিহা = সূচনা
২. সুরা বাক্বারাহ = গাভী
৩. সুরা আলে-ইমরান= ইমরানের পরিবার
৪. সুরা নিসা = নারী জাতি
৫. সুরা মায়িদাহ = খাদ্যপরিবেশিত টেবিল
৬. সুরা আন'আম= গৃহপালিত পশু
৭. সুরা আ'রাফ = উচ্চস্থানসমূহ
৮. সুরা আনফাল = যুদ্ধলব্ধ ধনসম্পদ
৯. সুরা তাওবা = অনুশোচনা
১০. সুরা ইউনূস = হযরত ইউনুস (আঃ)
১১. সুরাঃ হুদ = হযরত হুদ (আঃ)
১২. সুরা ইউসুফ = হযরত ইউসুফ(আঃ)
১৩. সুরা রা'দ = বজ্রপাত
১৪. সুরা ইব্রাহীম = হযরত ইবরাহীম(আঃ)
১৫. সুরা হিজর = পাথরের পাহাড়
১৬. সুরা নাহল =মৌমাছি
১৭. সুরা বনী ইসরাইল = ইসরাইলের বংশধর
১৮. সুরা কাহফ = গুহা।
১৯. সুরা মারইয়াম = ঈসা (আঃ) এর মাতার নাম
২০. সুরা ত্ব-হা = দুটি আরবি হরফ
২১. সুরা আম্বিয়া = নবীগণ
২২. সুরা হাজ্জ = মহাসম্মেলন
২৩. সুরা মু'মিনুন =বিশ্বাসীগণ
২৪. সুরাঃ নূর =জ্যোতি
২৫. সুরা ফুরক্বান = পার্থক্যকারী
২৬. সুরা শু'আরা = কবিগণ
২৭. সুরা নামল = পিপীলিক
২৮. সুরা ক্বাসাস = কাহিনী
২৯. সুরা আনকাবূত = মাকড়সা
৩০. সুরা রূম = রোমান জাতি
৩১. সুরা লুকমান = একজন প্রজ্ঞাবান অলির নাম
৩২. সুরা সাজদাহ = সিজদা
৩৩. সুরা আহযাব = সংযুক্ত শক্তিসমূহ
৩৪. সুরা সাবা =একটি নগরের নাম
৩৫. সুরা ফাতির = আদিস্রষ্টা
৩৬. সুরা ইয়াসিন = ইয়াসিন
৩৭. সুরা সাফ্ফাত =সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো
৩৮. সুরা সোয়াদ =একটি আরবি হরফ
৩৯. সুরা যুমার =দলবদ্ধ জনতা
৪০. সুরা মুমিন =বিশ্বাসী
৪১. সুরা ফুসসিলাত (হামীম সিজদাহ)=সুস্পষ্টবিবরণ।
৪২: সুরা শূরা =পরামর্শ
৪৩. সুরা যুখরূফ =স্বর্ণালংকার
৪৪ সুরা দুখান =ধোঁয়া
৪৫ সুরা জাছিয়াহ =নতজানু
৪৬. সুরা আহক্বাফ =বালুর পাহাড়
৪৭. সুরা মুহাম্মদ =সর্বশেষ নবী ও রাসূলের নাম
৪৮. সুরা ফাত্হ =বিজয়
৪৯. সুরা হুজুরাত =বাসগৃহসমূহ
৫০. সুরা ক্বাফ =একটি আরবি হরফ
৫১. সুরা যারিয়াত =বিক্ষেপকারী
৫২. সুরা তূর =তুর পর্বত
৫৩. সুরা নাজম =তারকা
৫৪. সুরা ক্বামার =চাঁদ
৫৫. সুরা আর-রাহমান =পরম করুণাময়
৫৬. সুরা ওয়াক্বিয়া =নিশ্চিত ঘটনা
৫৭. সুরা হাদীদ =লোহা
৫৮. সুরা মুজাদিলাহ = অনুযোগকারী নারী
৫৯. সুরা হাশর =মহাসমাবেশ
৬০. সুরা মুমতাহিনা =পরীক্ষা সাপেক্ষ নারী
৬১. সুরা সাফ =সারিবদ্ধ সৈন্যদল
৬২. সুরা জুমুআহ =সম্মেলন
৬৩. সুরা মুনাফিকুন =কপট বিশ্বাসীগণ
৬৪. সুরা তাগাবুন =মহা বিজয়
৬৫. সুরা তালাক =বিচ্ছেদ
৬৬. সুরা তাহরীম =নিষিদ্ধকরণ
৬৭. সুরা মূলক =সার্বভৌম কর্তৃত্ব
৬৮. সুরা ক্বালাম =কলম
৬৯. সুরা হাক্ক্বাহ =নিশ্চিত সত্য
৭০. সুরা মা'আরিজ=উন্নয়নের সোপান
৭১. সুরা নূহ =হযরত নুহ (আঃ)
৭২. সুরা জ্বিন =জ্বিনজাতি
৭৩. সুরা মুয্যাম্মিল =কম্বল আবৃত নবী
৭৪. সুরা মুদ্দাসসির =চাদর আবৃত নবী
৭৫. সুরা ক্বিয়ামাহ =পুনরুত্থান
৭৬. সুরা দাহর =মানবজাতি
৭৭. সরা মুরসালাত =প্রেরিত পুরুষগণ
৭৮. সুরা নাবা =মহা সংবাদ
৭৯. সুরা নাযিয়াত = প্রচেষ্টাকারী
৮০. সুরা আবাসা =তিনি ভ্রুকুটি করলেন
৮১. সুরা তাকবীর =অন্ধকারাচ্ছন্ন
৮২. সুরা ইনফিত্বার =বিদীর্ণকরণ
৮৩. সুরা মুতাফ্ফিফীন =প্রবঞ্চনা করা
৮৪ সুরা ইনশিক্বাক্ব = চূর্ণবিচূর্ণকরণ
৮৫. সুরা বুরূজ =নক্ষত্রপুঞ্জ
৮৬ সুরা ত্বারিক্ব =রাতের আগন্তুক
৮৭ সিরা আ'লা = সর্বোউপরে
৮৮. সুরা গ্বাশিয়াহ্ =বিহ্বলকারী ঘটনা
৮৯ সুরা ফাজর = ভোরবেলা
৯০. সুরা বালাদ = নগর
৯১. সুরা শামস = সূর্য
৯২ সুরা লাইল = রাত্রি
৯৩. সুরা দোহা =পূর্বাহ্নের সূর্যকিরণ
৯৪. সুরা ইনশিরাহ =বক্ষ প্রশস্তকরণ
৯৫. সুরা তীন =ডুমুর জাতীয় ফল
৯৬. সুরা আলাক = রক্তপিণ্ড
৯৭. সুরা ক্বদর = মহিমান্বিত
৯৮. সুরা বাইয়্যিনাহ =সুস্পষ্ট প্রমাণ
৯৯. সুরা যিলযাল = ভূমি কম্পন
১০০. সুরা আদিয়াত = অভিযানকারী
১০১. সুরা ক্বারি'আহ =মহা সংকট
১০২. সুরা তাকাছুর = প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা
১০৩. সুরা আসর =সময়/যুগ
১০৪. সুরা হুমাযাহ =পরনিন্দাকারী
১০৫. সুরা ফীল =হাতি
১০৬. সুরা ক্বুরাইশ =একটি গোত্রের নাম
১০৭. সুরা মা'ঊন = সাহায্য\ সহযোগিতা
১০৮. সুরা কাওসার = প্রাচুর্য
১০৯. সুরা কাফিরূন =অবিশ্বাসী গোষ্ঠী
১১০ সুরা নাসর = স্বর্গীয় সাহায্য
১১১. সুরা লাহাব = জ্বলন্ত অঙ্গার
১১২. সুরা ইখলাস = একত্ব
১১৩. সুরা ফালাক্ব = নিশীভোর
১১৪. সুরা নাস = মানুষ জাতি

সংগৃহীত

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র শুভেচ্ছা.

  বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তাই এ দিন সকল কালিমা আর কলুষতাক...