* দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা*

ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র * সকল প্রকার একাউন্ট খুলতে * * টাকা জমা করতে * টাকা উঠাতে * * বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এর টাকা বোনাসসহ উঠাতে * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে আসুন। * * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা* * প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ 01711-458151* 01700-925241*
হাদীসের বাণী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হাদীসের বাণী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১

নিশ্চয়ই তোমরা সৎকাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা সৎকাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে।

তা না হলে আল্লাহ্ তা’আলা শীঘ্রঈ তোমাদের উপর তাঁর শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তাঁর নিকট দু’আ করলেও তিনি তোমাদের সেই দু’আ গ্রহন করবেন না।

সহীহ্, সহীহাহ (২৮৬৮), বুখারী, মুসলিম।

শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১

কোন কল্যাণ অর্জন করলে আল্লাহর প্রশংসা করা আর অকল্যান পেলে নিজেকেই দোষারোপ করা

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ রাসুলে করীম (সা.) ইরশাদ করেন : আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজ সত্তার উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম বলে ঘোষণা করছি। অতএব তোমরা একে অপরের ওপর অত্যাচার করো না।

হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ছিলে দিশেহারা, তবে আমি যাকে সুপথ দেখিয়েছি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে হিদায়াত প্রার্থনা কর আমি তোমাদের হিদায়াত দান করব।
হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে খাদ্য দান করি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে খাবার চাও, আমি তোমাদের আহার করাব।
হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই বস্ত্রহীন, কিন্তু আমি যাকে পরিধান করাই সে ব্যতীত। তোমারা আমার কাছে পরিধেয় চাও, আমি তোমাদের পরিধান করাব।
হে আমার বান্দারা! তোমরা রাতদিন অপরাধ করে থাকো। আর আমিই সব অপরাধ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিব।
হে আমার বান্দারা! তোমরা কখনো আমার অনিষ্ট করতে পারবে না, যাতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হই এবং তোমরা কখনো আমার উপকার করতে পারবে না, যাতে আমি উপকৃত হই।
হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর আমাকে সবচাইতে বেশী ভয় পায়, তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাতে আমার রাজত্ব একটুও বৃদ্ধি পাবে না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের সকল মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর সবচাইতে পাপিষ্ঠ তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাতে আমার রাজত্ব কিছুমাত্র হ্রাস পাবে না।
হে আমার বান্দা! তোমাদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন যদি কোন বিশাল মাঠে দাঁড়িয়ে সবাই আমার কাছে আবদার করে আর আমি প্রত্যক ব্যক্তির চাহিদা পূরণ করি তাহলে আমার কাছে যা আছে তাতে এর চাইতে বেশী হ্রাস পাবে না, যেমন কেউ সমুদ্রে একটি সূচ ডুবিয়ে দিলে যতটুকু পানি তা থেকে হ্রাস পায়।
হে আমার বান্দারা! আমি তোমাদের ‘আমলই তোমাদের জন্য সংরক্ষিত রাখি। এরপর পুরোপুরিভাবে তার বিনিময় প্রদান করে থাকি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন কল্যাণ অর্জন করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে অকল্যান পায়, তবে সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে। (সহিহ মুসলিম। ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত। হাদিস নং ৬৩৩৮)

বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

প্রতিবেশীর হক

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আমার প্রতিবেশীর হক কি? একজন সাহাবীর এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ) বললেন, 

১। প্রতিবেশী তোমার সাহায্য চাইলে তাকে সাহায্য করবে।

২। সে তোমার কাছে ধার চাইলে তাকে ধার দিবে।

৩। সে অভাবগ্রস্থ হলে তাকে সাহায্য করবে।

৪। সে অসুস্থ হলে তার শুশ্রুষা করবে।

৫। তার মৃত্যু হলে জানাজাতে যোগ দিবে।

৬। তার সুসংবাদে সন্তোষ প্রকাশ করবে।

৭। তার অনুমতি ব্যাতিত তোমার গৃহ এতা উঁচু করবেনা যাতে তার বাড়িতে বাতাস প্রবেশ করতে বাধা পায়।

৮। তাকে যন্ত্রণা দেবেনা।

৯। যদি কোন ফল ক্রয় করো তবে তাকে কিচু দেবে। যদি ন িদাও তবে গোপনে ঘরে নিয়ে যাবে এবং তোমার সন্তাদের তা বাইরে নিয়ে যেতে দিবেনা। যাতে তার সন্তানদের রাগ না জন্মায়।

-মিশকাত

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

যে ঋণ জান্নাতে নিয়ে যায়!

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বেশি বেশি সওয়াব অর্জন করতে চাইলে ইবাদতের কোনো বিকল্প নেই। ইবাদত বলতে আমাদের মাথায় সবার প্রথমে আসে সালাত পড়া, সিয়াম পালন করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। সন্দেই নেই, এসব খুবই মর্যাদাময় ইবাদত। তবে আরও কিছু কাজ আছে, যেগুলো করলে আল্লাহ তা’য়ালা নিজেই সে আমল বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তেমনই একটি কাজ হচ্ছে, "মানুষকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া"।

★আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন,
কাউকে দুই দিনার ঋণ দেওয়া আমার কাছে এই দুটি দিনার কাউকে সদকা হিসেবে দিয়ে দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রিয়। ” [১]
অনেকে হয়তো ভাবছেন, যদি সে আমাকে ঋণ ফেরত দিতে না পারে? মজার ব্যাপার, দুনিয়া যখন তার দুয়ার আমাদের জন্য বন্ধ করে দেয়, তখন আল্লাহ তা‘য়ালা আমাদের জন্য তার অসীম ভান্ডার উন্মুক্ত করেন। যাকে ঋণ দেয়া হয়েছে, সে যদি তা ফেরত দিতে দেরী করে তখন আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের জন্য সে ঋণের সওয়াব বহুগুণে ফিরিয়ে দেন।
★★রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি-ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“নির্দিষ্ট সময়ে পুরো ঋণ ফিরিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছে এমন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে যে দেনা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সময় দেয়, ওই ব্যক্তিকে এমন সওয়াব দেয়া হবে যেন সে প্রতিদিনই সমপরিমাণ টাকা সদকা করেছে। আর যে সময় চলে যাওয়ার পরেও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে আরও সময় দেয়, তাকে অতিক্রম হওয়া প্রতিদিনের জন্য এমন সওয়াব দেয়া হবে, যেন সে প্রতিদিন ধার দেয়া টাকার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা সদকা করেছে।” [ ২ ]
এ হাদিসে যে কী বিশাল সওয়াবের কথা বলা হয়েছে তা হয়তো অনেকেই ধরতে পারেননি।
▪️একটা উদাহারণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি:
▪️
ধরা যাক, আব্দুর খালিদ আব্দুর করিমকে ২, ০০০ টাকা ধার দিল জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে। তারা একমত হলো যে, জুলাই মাসের ১ তারিখে আব্দুর করিম সে টাকা ফেরত পাবে। তাহলে আব্দুর খালিদ এ ছয় মাসে কত টাকা সদকা করার সওয়াব পেল? এটা বের করতে রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়ার দরকার নেই।
৬ মাসে ১৮০ দিন। ওপরের হাদিস অনুযায়ী,আব্দুর খালিদ প্রতিদিনই ২,০০০ টাকা সদকা দেওয়ার সওয়াব পাচ্ছে।
তাহলে, ৬ মাসে সে পাচ্ছে ➤( ১৮০ × ২,০০০ ) তিন লক্ষ ষাট হাজার টাকা সদকা করার সওয়াব।
কিন্তু কোন কারনে আব্দুর করিম ৬ মাস পর সে টাকা ফেরত দিতে পারলো না। তাহলে এরপরের প্রতিদিনের জন্য খালিদ পাচ্ছে (দু’হাজার টাকার দ্বিগুণ) ৪, ০০০ টাকা সদকা করার সওয়াব।
যদি আরও ৬ মাস পর আব্দুর করিম টাকা ফেরত দেয় তাহলে আব্দুর খালিদ এ ৬ মাসে আরও (১৮০× ৪,০০০) সাত লক্ষ বিশ হাজার টাকা সদকা করার সওয়াব পেয়ে গেল।
আব্দুর খালিদ কিন্তু আব্দুর করিমকে দিয়েছিল মাত্র ২, ০০০ টাকা। দুনিয়ার হিসাব অনুযায়ী, তার ২, ০০০ টাকার পুরষ্কারই পাওয়া উচিত।
কিন্তু ইসলামে সে পাচ্ছে ( ৩, ৬০, ০০০ + ৭, ২০, ০০০) সর্বমোট দশ
লক্ষ আশি হাজার টাকা সদকা করার সওয়াব।
একজন মধ্যবিত্ত মানুষ হয়তো সারাজীবনেও এত টাকা সদকা করতে পারবে না। কিন্তু তার ভাইকে ঋণ দেয়ার মাধ্যমে সে সহজেই সমপরিমাণ টাকা সদকা করার সওয়াব পেতে পারে।
♥“আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তার জন্য বাড়িয়ে দেন।” [ ৩ ]
_________
📚রেফারেন্সঃ
[১] ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং : ২২৬৮২
[২] মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ২৩০৪৬
[৩] সূরা বাক্বারা, ২ : ২৬১

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

স্ত্রীকে ভালোবাসা বিষয়ক ১০ হাদিস সংগ্রহ করলেন অ্যানি খান

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ উম্মে হাবিবা অ্যানি। অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশ করেছেন। কার্যত লকডাউনের সময় ফেসবুক লাইভে এসে পর্দা থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানান। এরপর বিয়ের খবরও জানান। তার কথা অনুযায়ী ঘর-সংসার ও ধর্ম নিয়েই সময় কাটছে অ্যানির। মাঝে-মধ্যে ফেসবুকে নিজের ধর্ম সম্পর্কে যেসব কাজ করেন, সেসব কাজের আপডেট দেন। তারই অংশ হিসেবে এবার জানালেন- নিজের পছন্দের ১০টি হাদিস সংগ্রহ করেছেন।

অ্যানি ফেসবুকে লিখেছেন, 'আমার খুব খুব খুব পছন্দের ১০টা হাদিস কালেক্ট করলাম। যখনই পড়ি হাদিসগুলো, আমি যেন কল্পনায় সেই দুজনকে দেখতে পাই। তাঁদের দুজনের ভালোবাসা অতুলনীয়- কতটা ভালোবাসা নিয়ে একই জায়গা থেকে পানি পান করেন, ঝুটা হাড্ডি চিবিয়ে নেন, মিসওয়াক চিবিয়ে দেন। নবীজির মৃত্যুর সময়ের ঘটনা যখন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করছিলেন, চোখে পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না, ওনার কষ্টটা যেন খুব ফিল করছিলাম। খুব কম বয়সে উনি ওনার হাবিবকে হারিয়েছেন, উনি প্রতিটা মুহূর্ত কতটা মিস করতেন নবীজিকে?'

সাবেক এই অভিনেত্রী বলেন, নবীজির অন্তিম মুহূর্তের কথা ভেবে ওনার খুব কান্না আসত না? নবীজি কতটা ভালোবাসতেন আয়েশা (বা.)-কে - ভরা মজলিসে যখন জিজ্ঞেস করা হলো ওনার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে? উনি বললেন আয়েশা। এই হাদিসের দারসের দিন ম্যাম খুব হেসে বলছিলেন, আজকালকার জামাইরা তো মারাত্মক আয়েব আর কাপুরুষতা মনে করে এই কথা কাউকে বলতে যে আমি আমার বউকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি! অথচ এই শ্রেষ্ঠ মানব একটুও আয়েব মনে করেননি।'
সংগ্রহ করা হাদিসগুলো তুলে ধরেছেন অ্যানি খান- ওনাদের ভালোবাসা প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর জন্য শিক্ষণীয় ও আদর্শ।
১.
আমর ইব্‌নুল আস (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, আয়েশা! আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর পিতা (আবু বক্‌র)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, ‘ওমর ইব্‌নুল খাত্তাব, অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম করলেন।
(সহিহ বুখারি-৩৬৬২)
২.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন : নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি-২৯৭)
৩.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো। (সহিহ বুখারি- ২৫০)
৪.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইতিকাফ করতেন, তখন আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন। আমি তা আঁচড়ে দিতাম। (সহিহ মুসলিম-৫৭১)
৫.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম, তিনিও পাত্রের সেই স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন। (সহিহ মুসলিম-৫৭৯)
৬.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলা করত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
(সহিহ বুখারি- ৬১৩০)
৭.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (সুনানে আবু দাউদ- ২৫৭৮)
৮.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়েছিলেন আর আমি হাবশিদের খেলা দেখছিলাম। মসজিদের কাছে তারা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। (সহিহ বুখারি-৩৫৩০)
৯.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক করে তা ধোয়ার জন্য আমাকে দিতেন। আমি নিজে প্রথমে তা দিয়ে মিসওয়াক করতাম, অতঃপর সেটা ধুয়ে তাঁকে দিতাম। (সুনানে আবু দাউদ-৫২)
১০.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
মৃত্যু রোগকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে? এর দ্বারা তিনি আয়েশা (রা.)-এর ঘরের পালার ইচ্ছা পোষণ করতেন। সহধর্মিণীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যার ঘরে ইচ্ছা অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রুহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে তাঁর মাথা আমার গণ্ড ও সিনার মধ্যে ছিল এবং আমার থুথু (তাঁর থুথুর সঙ্গে) মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, 'এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রা.) আমার কাছে প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ করলাম যে তিনি আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নেব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দেব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালোভাবে মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবি উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন -আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা কঠিন। তারপর দুহাত ওপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হলো আর হাত শিথিল হয়ে গেল। (সহিহ বুখারি- ৪৪৪৯)

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২১

দোআ করলে আল্লাহ খুশী হন

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আল্লাহ তায়ালা মুমিন বান্দাহর সবচেয়ে আপনজন। তাঁর আপনজন কোনো কিছু প্রার্থনা করামাত্রই তিনি কবুল করে নেন। মুমিন বান্দাহ আল্লাহকে ডাক দেয়ার সাথে সাথে তিনি সাড়া দিয়ে থাকেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর আমার বান্দাহরা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে, আমি নিকটেই আছি। আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে’ (সূরা বাকারা : ১৮৬)। ‘আর তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও নীরবে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না’ (সূরা আরাফ : ৫৫)। আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন। আল্লাহর চেয়ে উত্তম দাতা ও সাহায্যকারী মুমিন বান্দাহর জন্য দ্বিতীয় আর কেউ নেই। তিনিই একমাত্র বান্দাহর সব অভাব অভিযোগ পূরণ করতে পারেন। যারা আল্লাহর কাছে চায় না তাদের প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট হন। হজরত আবদুল্লাহ রা: বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত চাও। কেননা আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন’ (তিরমিজি : ৩৫৭১)।

আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। তিনিই অসহায় মানুষের সহায়। বিপদ আপদ থেকে উদ্ধারকারী। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কে আছে অসহায় ও বিপন্নের ডাকে সাড়া দেয় যখন সে ডাকে এবং কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করে দেয়?’ (সূরা নামল : ৬২)। ‘তোমরা ভয় এবং আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী’(সূরা আরাফ : ৫৬)। হজরত আলী রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘দোয়া মুমিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান এবং জমিনের নূর’ (মু. হাদিস : ৪৬৫)।
যারা আল্লাহকে ডাকে কিংবা আল্লাহর কাছে কিছু চায়। আল্লাহ তাদের হাতকে কখনো খালি ফেরত দেন না। হজরত সালমান ফারসি রা: হতে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার অনেক লজ্জা ও আত্মমর্যাদা আছে। সুতরাং যখন মানুষ চাওয়ার জন্য তাঁর কাছে দুই হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি সেই হাত দু’টিকে ব্যর্থ ও খালি ফেরত দিতে লজ্জা বোধ করেন’ (মুসলিম : ৩২১)।
আল্লাহর কাছে চাওয়ার উত্তম পদ্ধতি হলো দোয়া করা। দোয়ার মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। হজরত আবু হোরায়রা রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া অপেক্ষা কোনো জিনিসই অধিক ফজিলত ও সম্মানের নেই’ (তিরমিজি : ৩৩৭)। দোয়া করার পূর্বে করণীয় হলোÑ পাক পবিত্র হওয়া, হালাল খাওয়া, নিয়ত ঠিক করা, আদবের সাথে বসা, হারাম জিনিস বর্জন করা। দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হলো : জুমার রাত, আরাফাতের দিন, ইফতারের পূর্বমুহূর্ত, বাইতুল্লাহ তাওয়াফের সময়, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের পর, শবে কদরের রাতে ইত্যাদি। যাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন : পিতা-মাতা, শিক্ষক, মুসাফির, বুজুর্গ, মজলুম ব্যক্তি ইত্যাদি।
মানুষের যা কিছু প্রয়োজন তা আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। তবে একে অপরের কাছে দোয়া চাইতে কোনো নিষেধ নেই। হজরত আবু হোরায়রা রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ আমি আমার বান্দাহর সাথে তেমন ব্যবহার করি, আমার প্রতি সে যেমন ধারণা রাখে আর সে যখন আমাকে ডাকে তখন আমি তার সাথেই থাকি’ (মুসলিম : ৬৮২৯)। সুতরাং যারা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করতে পারবে নিঃসন্দেহে তারা পরকালে সফলকাম হবে।

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২১

ভয়াবহ কিয়ামতের দিন যে সাত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন!

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন:

“সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর চায়া ছাড়া আর কোন ছায়াই অবশিষ্ট্য থাকবে না। তারনা হলোঃ

(১) ন্যায়পরায়ন শাসক

(২) যে যুবক আল্লাহর ইবাদাতের মধ্যে বড় হয়েছে

(৩) যে ব্যক্তি মসজি থেকে বেড়িয়ে গেলেও তার অন্তর এর সাথে সম্পৃক্ত থাকে

(৪) এমন দ’জন লোক যারা আল্লাহর জন্য পরস্পর ভলোবাসা স্থাপন করেছে; এই সম্পর্কেই একত্র থাকে এবং বিচ্ছিন্ন হয়।

(৫) এমন ব্যক্তি যাকে কোন অভিজাত পরিবারের সুন্দরী নারী (খারাপ কাজে) আহ্বান করেছে কিন্তু সে তাকে এই বলে প্রত্যাখান করেছে; “আমি আল্লাহকে বয় করি”

(৬) এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান-সদকা করেছে যে, তার ডান হাত যা দান করেছে তার বাম হাতও তা জানতে পারেনি যে, ডান হাত কি দান করেছে

(৭) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করেছে এবং তার দু’চোখ বয়ে পানি পড়েছে।”

{বুখারী: ৬৬০, মুসলিম:১০৩১}


শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

হাশরের ময়দানে ৫টি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত এক কদমও নরতে পারবে না কেউ

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন জান্নাত সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরাইল আ.-কে বললেন, যাও, জান্নাত দেখে আস। হযরত জিবরাইল আ. গিয়ে জান্নাত এবং জান্নাতের বাসিন্দাদের জন্য যেই সব জিনিস আল্লাহ তা‘আলা তৈরী করে রেখেছেন, সবকিছু দেখে আসলেন, এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের কসম! যে কেউ এই জান্নাতের অবস্থা সম্পর্কে শুনবে, সে অবশ্যই তাতে প্রবেশ করবে। (অর্থাৎ, প্রবেশের ইচ্ছা করবে)।

অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের চারপার্শে কষ্টসমূহ দ্বারা বেষ্টন করে দিলেন, অতঃপর পুনরায় জিবরাইল আ.-কে বললেন, হে জিবরাইল! আবার যাও এবং পুনরায় জান্নাত দেখে আস। তিনি গিয়ে তা দেখে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! এবার যা কিছু দেখলাম, এর প্রবেশপথ তো খুবই কষ্টকর হয়ে গেছে। আমার আশংকা হচ্ছে যে, এই কষ্ট পার করে একজনও হয়তো তাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যখন জাহান্নামকে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন, হে জিবরাইল! যাও, জাহান্নাম দেখে আসো। তিনি দেখে এসে বলবেন, হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের কসম! যে কেউ এই জাহান্নামের ভয়ংকর অবস্থার কথা শুনবে, সে কখনও তাতে প্রবেশ করবে না। (অর্থাৎ, এমন কাজ করবে, যাতে তা থেকে বেঁচে থাকতে পারে)।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের চারপার্শে প্রবৃত্তির আকর্ষণীয় বস্তু দ্বারা বেষ্টন করলেন, এর প্রবেশপথকে সহজ করে দিলেন এবং পুনরায় জিবরাইলকে বললেন, আবার যাও এবং দ্বিতীয়বার তা দেখে আস।
হযরত জিবরাইল আ. গেলেন এবং এবার দেখে এসে বললেন, হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের কসম করে বলছি, আমার আশংকা হচ্ছে, একজন লোকও জাহান্নামে প্রবেশ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবে না। [আবু দাউদ- হা/৪৭৪৬, তিরমিযী- হা/২৫৬০, নাসাঈ- হা/৩৭৬৩, মিশকাত- হা/৫৪৫২]
রাসুল সা. আরো বলেছেন, ‘আমি জাহান্নামের চেয়ে ভয়ংকর কোন জিনিস কখনও দেখিনি, যা থেকে এর প্রত্যাশিত পলায়নকারীরা ঘুমন্ত। আমি জান্নাতের চেয়ে লোভনীয় কিছু দেখিনি, যার সন্ধানকারীরাও ঘুমন্ত।’ (সহিহ তিরমিযী: ২৫২৬)

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

একজন মুরতাদ

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আবু মামার (র.) .. .. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত,  তিনি বলেন,  এক খৃস্টান ব্যক্তি  মুসলমান হল এবং সূরা বাকারা ও সূরা আলে-ইমরান শিখে নিল। নবী করিম (সঃ) এর জন্য সে অহী লিপিবদ্ধ করত। তারপর সে পুনরায় খৃস্টান হয়ে গেল। সে বলতে লাগল, আমি মুহাম্মদ (সঃ) কে যা লিখে দিতাম তার চেয়ে  অধিক কিছু তিনি জানতেন না। (নাউজুবিল্লাহ) কিছুদিন পর আল্লাহ তাকে মৃত্যু দিলেন। খৃস্টানরা তাকে যথারীতি দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে বাইরে নিক্ষেপ করে দিয়েছে।

তা দেখে খৃস্টানরা বলতে লাগল-এটা মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁর সাহাবীদেরই কাজ। যেহেতেু আমাদের এই সাথী তাদের থেকে পালিয়ে এসেছিল। এ জন্যই তারা আমাদের সাথীকে কবর থেকে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে।

তাই যতদূর সম্বব গভীর করে কবর খুঁড়ে তাতে তাকে পুনরায় দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল, কবরের মাটি তাকে (গ্রহণ না করে) আবার  বাইরে ফেলে দিয়েছে। এবারও তারা বলল এটা মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁর সাহাবীদের কান্ড। তাদের নিকট থেকে পালিয়ে আসার কারণে তারা আমাদের সাথীকে কবর থেকে উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। 

এবার আরো গভী করে কবর খনন করে তাকে সমাহিত করা হল। পরদিন ভোরে দেখা গেল কবরের মাটি এবারও তাকে বাইরে নিক্ষেপ করেছে।

তখন তারা বুঝতে পারল, এটা মানুষের কাজ নয়। কাজেই তারা শবদেহটি বাইরেই ফেলে রাখল।

সহীহ্ বুখারী শরীফ- ৩৩৫৯

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

আল্লাহর রসূল (সাঃ) একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা‘দ (রাঃ) সেখানে বসেছিলেন।


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃআল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা‘দ (রাঃ) সেখানে বসেছিলেন।

সা‘দ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে দিলেন অথচ এক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। অথচ বঞ্চিত সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম।

তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান করা থেকে বিরত থাকলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম।’ তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম।

তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হতে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম।’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম।

তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন।

তারপর বললেনঃ ‘সা’দ! আমি কখনো কখনো আমার প্রিয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়েও অন্য কোনো ব্যক্তিবিশেষকে দান করি। এমনটা আমি এই আশংকায় করি, এত সহজে পেয়ে গেলে এবং তার কাছে সব নেয়ামতের প্রাচুর্যতা চলে আসলে তার মধ্যে ঈমান নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে, এমনকী সে ঈমান থেকে বেরিয়েও যেতে পারে। যার পরিণামে আল্লাহ তা‘আলা তাকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।

(এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা‘মার এবং যুহরী (রহঃ)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।)

(বুখারি: ১৪৭৮; মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০)
★Q.[ইস্তিগফার কি]?
★Q.[ইস্তিগফার কিভাবে করতে হয়]?
★Q.[ ইস্তিগফারের ১৭ টি উপকারিতা কি]?

★★(ইস্তিগফার কি):→

ইস্তিগফার হলো, আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা।
রসূলুল্লাহ (‎ﷺ) বলেন, ❝আল্লাহর ক্বসম!
আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও অধিক ইস্তিগফার করি
(আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) এবং তাওবাহ করি।❞
(বুখারী ৫/২৩২৪)

★★(ইস্তিগফার কীভাবে করবো):→

ইস্তিগফার যে কোন শব্দেই করা যায়। এমনকি ❝ইয়া আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন!❞ - বলে দুয়া করলেও হবে।
•
তবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে বাক্যে ইস্তিগফার করেছেন, সে বাক্যে ক্ষমা চাওয়া নিঃসন্দেহে অতি উত্তম! নিম্নে হাদীসে বর্নিত কিছু ইস্তিগফার দেয়া হলো! মুখস্থ করে নিতে পারেন ইন শা আল্লাহ।
•
১| ﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ (আস্তাগফিরুল্লাহ)। শুধু ❝আস্তাগফিরুল্লাহ❞ বলা।
•
রসূল ‎(ﷺ) নামাজ শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন।
(মুসনাদে আহমদ- ২২৪০৮)
•
২| ﺃﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻟﻌَﻈِﻴﻢَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇﻟَﻪَ ﺇﻻَّ ﻫُﻮَ، ﺍﻟﺤَﻲُّ ﺍﻟﻘَﻴُّﻮﻡُ، ﻭَﺃﺗُﻮﺏُ ﺇﻟَﻴﻪِ
•
রাসূল ‎(ﷺ) বলেছেন, ❝যে ব্যক্তি এই দু‘আ পাঠ করবে সে জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করলেও তাকে ক্ষমা করা হবে।❞
(আবু দাঊদ ১৫১৭)
•
৩| ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﺗُﺐْ ﻋَﻠَﻰَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ
•
রসূলুল্লাহ (‎ﷺ) মাসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে একশো বার এ দু'আ পাঠ করেছেন এবং আমরা তা গণনা করেছি।
(আবু দাঊদ ১৫১৬)
•
৪| ﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺃﺗﻮﺏ ﺇﻟﻴﻪ
•
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ❝আমি রাসূল (ﷺ)-র চাইতে কাউকে অধিক এই ইস্তিগফার বলতে শুনি নি - ❝আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি❞!❞ (নাসায়ী কুবরা ১০২১৫)
•
৫| ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺑِﺤَﻤْﺪِﻩِ ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺃَﺗُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
•
রাসূলুল্লাহ (‎ﷺ) খুব বেশি বেশি এই দুয়া পড়তেন। এমনকি রাসূল ‎(ﷺ) ইন্তিকালের আগেও এই দুয়াটা অনেকবার করেছেন।
(সহীহ মুসলিম ৪৮৪)
•
তবে, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইস্তিগফার হলো, ❝সাইয়িদুল ইস্তিগফার❞।
•
৬| ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ، ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ، ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ، ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ، ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ، ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ، ﺇِﻧَّﻪُ ﻻَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ
•
যেটি সকালে পড়লে ওই দিন সন্ধ্যার আগে মারা গেলে জান্নাতে যাবে। আর সন্ধ্যায় পড়লে সকাল হওয়ার আগে মারা গেলে জান্নাতে যাবে। (সহীহ বুখারী ৬৩০৬)

★★(ইস্তিগফারের ১৭ টি উপকারিতা):→

১। অধিক ইস্তিগফারের কারণে প্রচুর বর্ষণ হয়। বাগান ও শস্যে ভালো ফসল হয়। নদী-নালা থাকে জীবন্ত।
•
২। ইস্তিগফারকারীকে আল্লাহ উত্তম সন্তান, সম্পদ ও জীবিকার দ্বারা সম্মানিত করেন।
•
৩। দ্বীন পালন সহজ হয়। এবং কর্মজীবন হয় সুখের।
•
৪। আল্লাহ ও বান্দার মাঝে যে দূরত্ব আছে, তা ঘুচে যায়।
•
৫। ইস্তিগফারকারীর কাছে দুনিয়াকে খুব তুচ্ছ করে দেয়া হয়।
•
৬। মানব ও জীন শয়তান থেকে তাকে হিফাযত করা হয়।
•
৭। দ্বীন ও ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করা যায়।
•
৮। আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়।
•
৯। বিচক্ষণতা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
•
১০। দুশ্চিন্তা, পেরেশানি দূর হয়।
•
১১। বেকারত্ব দূর হয়।
•
১২। আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জিত হয়। তার তাওবার কারণে আল্লাহ আনন্দিত হন।
•
১৩। মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা তার জন্য সুসংবাদ নিয়ে আসে।
•
১৪। হাশরের মাঠে মানুষ যখন প্রচন্ড গরম ও ঘামের মধ্যে থাকবে, তখন ইস্তিগফারকারী থাকবে আরশের ছায়াতলে।
•
১৫। কিয়ামাতের দিন মানুষ যখন অস্থির থাকবে, ইস্তিগফারকারী তখন ডানপন্থী মুত্তাকিনদের দলে থাকবে।
•
১৬। মন্দ কজ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
•
১৭। আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণও তার জন্য দু'আ করেন।
•
(নাযরতুন নাঈম ফি মাকারিমি আখলাকির রাসূলঃ ২/৩০২)
•
আল্লাহ্‌ আমাদেরকে নিয়মিত ইস্তিগফারের আমাল করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।

Collected,,,,,

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

জান্নাত পাওয়ার সহজ ৩টি আমল


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ১। প্রতিবরি অজু করার পর কালিমা মাহাদাত পড়া। এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোনটি দিয়ে তাকে প্রবেশ করতে বলা হবে।

 [নাসাঈ-১৪৮, তিরমিজি-৫৫, ইবনু মাজাহ- ৪৭০]

২। প্রতিবার ফরজ সালাতের পর একবার আয়াতুল করসি পড়া। নিয়মিত আমল করলে আমলকারী ও জান্নাতের মধ্যে পার্থক্য থাকে শুধুমাত্র মৃত্যু। অর্থ্যাৎ মৃত্যু হলেই জান্নাতি। 
  [নাসাঈ-৯৯২৮]

৩। মনোযোগী হয়ে আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে আযানের উত্তর দেয়া।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে আযানের উত্তর দেয়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।
 [মুসলিম-৩৮৫, আবু দাউদ-৫২৭, মিসকাত- ৬৫৮]




বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

নবী করিম ﷺ - বলেছেন ১২ জন মানুষ সবচেয়ে সর্বোত্তম !


★১. রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, ﺧَﻴْﺮُﻛُﻢْ ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻭَﻋَﻠَّﻤَﻪُ ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫০২৭) . 

★২. রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣَﺎﺳِﻨُﻜُﻢْ ﺃَﺧْﻼَﻗًﺎ ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬০৩৫) . 

★৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﻗَﻀَﺎﺀً ‘তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ২৩০৫) . 
★৪. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যার কাছ থেকে সবাই কল্যাণ আশা করে, অনিষ্টের আশঙ্কা করে না।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২২৬৩/২৪৩২) . 

★৫. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে ভালো।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ৪১৭৭) . 

★৬. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ﺧِﻴَﺎﺭُﻛُﻢْ ﺃَﻃْﻮَﻟُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﺭًﺍ ﻭَﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟًﺎ তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম। . (আহমাদ ৭২১২, ৯২৩৫, সিঃ সহীহাহ ১২৯৮) . 

★৭. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃﻧْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। . (সহীহুল জামে’ হা/ ৩২৮৯, দারাক্বুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬) . 

★৮. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ﻣَـﺨْﻤُﻮْﻡِ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ ﺻَﺪُﻭْﻕِ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺻَﺪُﻭْﻕُ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻧَﻌْﺮِﻓُﻪُ ﻓَﻤَﺎ ﻣَـﺨْﻤُﻮﻡُ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ ‘শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন ও মুখ সত্যবাদী। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! সত্যবাদী মুখ বোঝা গেল, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী কে? রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, যে অন্তর স্বচ্ছ ও নির্মল, মুত্তাকি, যাতে কোনো পাপ নেই, বাড়াবাড়ি বা জুলুম নেই, নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ। . (ইবনে মাজাহ ৪২১৬ ,সহিহুল জামে, হাদিস : ৩২৯১) . 

★৯. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻷَﺻْﺤَﺎﺏِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺼَﺎﺣِﺒِﻪِ ﻭَﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺠِﻴﺮَﺍﻥِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺠَﺎﺭِﻩِ ‘আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আর আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ১৯৪৪) . 

★১০. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﺧِﻴَﺎﺭِﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨَﻜُﻢْ ﺃَﺧْﻠَﺎﻗًﺎ ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৩৫৫৯) . 

★১১. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻨْﺰِﻟَﺔً ﺭَﺟُﻞٌ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺘْﻦِ ﻓَﺮَﺳِﻪِ ﻳُﺨِﻴﻒُ ﺍﻟْﻌَﺪُﻭَّ ﻭَﻳُﺨِﻴﻔُﻮﻧَﻪُ মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে নিজ ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে শত্রুকে সন্ত্রস্ত করে এবং শত্রুরাও তাকে সন্ত্রস্ত করে। . (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪২৯১, সিলসিলা সহীহাহ ৩৩৩৩) . 

★১২. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ﻟَﻤُﺆْﻣِﻦٌ ﻣُﺠَﺎﻫِﺪٌ ﺑِﻨَﻔْﺴِﻪِ ﻭَﻣَﺎﻟِﻪِ ﻓﻲ ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ ঐ মু’মিন (সর্বশ্রেষ্ঠ) যে আল্লাহর পথে তার জান ও মাল দিয়ে যুদ্ধ করে। . (বুখারী ২৭৮৬, ৬৪৯৪, মুসলিম ৪৯৯৪-৪৯৯৫) 

আল্লাহপাক যেন আমাদেরকে এইরকম সর্বোত্তম মানুষ হবার তাওফীক দেন। আমীন......

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০

মহামারী ছিল একটা আযাব, আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা পাঠাতেন

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আয়শা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে একবার মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি উত্তর করেন- মহামারী ছিল একটা আযাব, আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা পাঠাতেন। তারপর আল্লাহ তায়ালা মহামারীকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দিছেনে। কোন বান্দা যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং সেখানে অবস্থান করে, তাহলে সেই অঞ্চল থেকে সে বেরুবে না। ধর্য্য ধারণ করবে এবং সওয়াবের প্রত্যাশায় থাকবে; এবং এই বিশ্বাস রাখবে- আল্লাহ তায়ালা যদি তার তাকদিরে লিখে না থাকেন, তাহলে মহামারী তাকে আক্রান্ত করতে পারবে না। আর যদি আক্রান্ত হয়েই যায়, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শহিদের সমপরিমাণ প্রতিদান। 

[সহীহ বুখারি, ৬৬১৯, ৫৭৩৪]

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০

তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে!

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ মৃুসাদ্দাদ (র.) . . . আব্দুল্লাহ (ইবনে ওমর রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। যেমন - জনগণের শাসক তাদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিসয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুুরুস তার পরিবারের পরিজনের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী স্বামীর ঘরের এবং তার সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর গোলাম আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। শোন! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

মহামারিতে ঘরে অবস্থানের বিস্ময়কর সাওয়াব

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ সাইয়্যেদা আঈশা রাদি. বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। উত্তরে তিনি বলেন—
أَنَّهُ كَانَ عَذَابًا يَبْعَثُهُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ فَجَعَلَهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ فَلَيْسَ مِنْ رَجُلٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَيْتِهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الشَّهِيدِ
“মহামারী হলো, আযাব। যাদের ওপর ইচ্ছে, আল্লাহ এ আযাব পাঠান। পরিশেষে তিনি তা ঈমানদারদের জন্য রহমত বানিয়ে দেন এভাবে যে, কোনো বান্দা যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং সেসময় নিজ বাড়িতে ধৈর্য সহকারে, সাওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বাস বুকে নিয়ে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তাআলা তাকদিরে যা চূড়ান্ত রেখেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আক্রান্ত করতে পারবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শহিদের সমপরিমাণ সাওয়াব।”

তথ্যসূত্র :
মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং : ২৬১৮২
বিখ্যাত হাদিস বিশ্লেষক শুয়াইব আরনাউত রহ. বর্ণনার মান নির্ণয় করে বলেন,
إسناده صحيح على شرط البخاري
.
সুবহানাল্লাহ, এই মহামারী আমাদের জন্যে কত বড় রহমত যে,
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই দিনগুলোতে আমরা স্রেফ সঠিক বিশ্বাস লালন করে ঘরে অবস্থান করে দুআ, তাওবা, ইসতিগফার ও ইবাদত পালন করে গেলেই শহিদের সাওয়াব পেয়ে যাব।
তারপরও কি আমরা বুঝব না!
Collected

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০

"প্রথমে উট বাঁধো অতঃপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো"

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ "আল্লাহর হুকুম ছাড়া যেহেতু গাছের একটি পাতাও নড়ে না, সেহেতু আল্লাহর হুকুম ছাড়া করোনা ভাইরাসও কাউকে আক্রান্ত করবে না"- এগুলো ১০০% সত্য কথন এবং সঠিক ঈমানী চেতনা বলেই বিশ্বাস করি। তবে আল্লাহর উপর ভরসা করার পর সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন আছে কী? এক্ষেত্রে একটি হাদিস বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। একদা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দেখলেন এক বেদুইন উট না বেঁধেই তড়িঘড়ি করে নামাজ পড়তে আসছে। নবী করিম (সাঃ) বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করলেন, "উট বেঁধে নামাজ পড়তে আসছ না কেনো?" বেদুইন উত্তর দিলো, "আল্লাহর উপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে, তিনিই আমার উট দেখে রাখবেন।" শুনে মহানবী (সাঃ) নির্দেশ দিলেন, "প্রথমে উট বাঁধো অতঃপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো" (তিরমিযি)।
হাদিসটির শিক্ষা অনুযায়ী, যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সকল অপশান কাজে লাগাতে হবে। তারপর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু আমরা অনেকেই বিনা চেষ্টায় সব কিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে ভালো ফলাফলের অপেক্ষায় থাকি। এক্ষেত্রে অনেকের বক্তব্য হচ্ছে, "আল্লাহ ভরসা, আল্লাহই দেখে রাখবেন, আমার বা আপনার কিবা করার আছে?" অথচ যে কোন সমস্যার সমাধানে বা অবস্থার পরিবর্তনে আমাদের প্রচেষ্টা অপরিহার্য। পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে" (সূরা আর-রাদঃ১১)। অতএব আসুন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মহান আল্লাহর উপর ভরসার পাশাপাশি তাঁর অনুশাসন মেনে চলি এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শসহ WHO ও IEDCR এর নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করি। করোনার স্রষ্টা আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকুলের প্রতি সহায় হোন। আমীন।

রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৯

হাদীসের বাণী

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আবুল ইয়ামান (র.) .. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আপনারা বলে থাকেন, রাসূলুল্লাহ (স.) থেকে আবু হুরায়রা (রা.) বেশী বেশী হাদীস বর্ণ না করে থাকে এবং এবং আরো বলেন, মুহাজির ও আনসারদের কি হলো যে, তারা তো রাসূলুল্লাহ (স.) থেকে হাদীস বর্ণ না করে না? (কিন্তু ব্যাপার হলো এই যে,) আমার মুজাহিদ ভাইগণ বাজারে কেনা-বেচায় ব্যস্ত থাকতেন আর আমি কোন প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে (খেয়ে না খেয়ে) রাসূলুল্লাহ (স.) এর দরবারে পড়ে থাকতাম। তাঁরা যখন (কাজের ব্যস্ততায়) অনুপস্থিত থাকতেন আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তারা যা ভুলে যেতেন, আমি তা সংরক্ষণ করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের খেত-খামারের কাজে ব্যাপৃত থাকতেন। আমি ছিলাম সুফ্ফার মিসকীনদের একজন মিসকীন। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা সংরক্ষণ করতাম।   রাসূলুল্লাহ (স.) তাঁর এক বর্ণনায় বললেন, আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জড়িঢে নিবে, আমি যা বলেছি সে তা স্মরণ রাখতে পারবে। [আবু হুরায়রা (রা.) বলেন] আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (স.) তাঁ কথা শেষ করলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি রাসূলুল্লাহ(স.) ্র সে কথার কিছুই বুলিনি।  
(সহীহ্ বুখারী ১৯১৯ )

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র শুভেচ্ছা.

  বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তাই এ দিন সকল কালিমা আর কলুষতাক...