* দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা*

ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র * সকল প্রকার একাউন্ট খুলতে * * টাকা জমা করতে * টাকা উঠাতে * * বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এর টাকা বোনাসসহ উঠাতে * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে আসুন। * * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা* * প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ 01711-458151* 01700-925241*
শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর একজন জাবি অধ্যাপক মামুন

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্বাবদ্যালয় (জাবি) এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক  ড. এ.এ. মামুন বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়- ভিত্তিক গবেষকদের প্রকাশিত একটি জার্নালে এ তালিকাবুক্তি হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন আইওনিডিস, কেভিন ডব্লিউ বয়াক এবং ন্যাদারল্যান্ডস-ভিত্তিক জেরোইন বাস  এক গবেষণায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার এক লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৩ জন বিজ্ঞানীর এই তালিকা প্রকাশ করেন।

প্রত্যেক বিজ্ঞানীকে তাদের নিজস্ব গবেষণা কাজের উদ্ধৃতি সংখার ভিত্তিতে এ তালিকায় স্থান দেয়া হয়।

ড. মামুন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন। সারা বিশ্বে বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তার ৪১৭টি প্রকাশনা রয়েছে িএবং তার গবেষণা থেকে ১২ হাজারের বেশি উদ্ধৃত করা হয়েছে।

তার গবেষণার বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্লাজমা ফিজিক্স, কোয়ান্টাম ফিজিক্স ও মেডিক্যাল ফিজিক্স। 

পদার্থবিজ্ঞানে অবদানের জন্য ড. মামুন ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হন।

তিনি ২০০৯ সালে পদার্থবিদ্যায় অসামান্য অবদানের জন্য জার্মানীর আলেকজান্ডার ভন হোমবোল্ড ফাউন্ডেশন থেকে ফেড্রিক উইলিয়ান ‘ব্যাসেল রির্সাস অ্যাওয়ার্ড  অর্জন করেন।

ড. মামুন যুক্তরাজ্যের সেন্ট অ্যান্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি অর্জন করেছেন এবং জার্মানি হোমবোল্ড পোস্টডক ফেলো।

জাবি উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ড. মামুনের অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সৌজন্যে : দ্য ডেইলি স্টার

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

পিএইচডি ডিগ্রী লাব করায় মুহাম্মদ আজহার উদ্দিনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ দক্ষিণ কোরিয়ার KYUNG HEE UNIVERSITY Computer Engineering এ Phd ডিগ্রী অর্জন করায় মুহাম্মদ আজহার উদ্দিনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন।

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলী পন্ডিত বাড়ির নিবাসী আক্তার উদ্দিন চৌধুরী’র একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ আজহার উদ্দিন দক্ষিণ কোরিয়ার KYUNG HEE UNIVERSITY Computer Engineering এ Phd ডিগ্রী অর্জন করায় স্থানীয় পন্ডিত বাড়ি সমাজ কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে। 

পন্ডিত বাড়ি সমাজ কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন জনাব মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান চৌধুরী।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

পরীক্ষাকে সামনে রেখে অভিভাবকদের দেয়া হয়েছে বেতন এবং পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার তাগাদা।

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ স্কুল বন্ধ করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে। এরই মধ্যে কিছু স্কুলে চলছে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার তোড়জোড়। তাও আবার অনলাইনে।

পরীক্ষাকে সামনে রেখে অভিভাবকদের দেয়া হয়েছে বেতন এবং পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার তাগাদা।
ছবিগুলো চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে অবস্থিত সেন্ট মেরীস স্কুলের।
বেতন এবং পরীক্ষার ফি জমা দিতে স্কুলের নিদিষ্ট দিন বুধবার সকালে জড়ো হন কেজি ও প্রথম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা।
করোনাকালে শ শ অভিভাবকের বেতন জমার সময় মানা হয়নি সামাজিক দুরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। হুড়োহুড়ির মধ্যে প্রায় চারঘণ্টা ধরে চলে যজ্ঞ।
একটিমাত্র কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে জমা নেয়া হয় ফি। তারপর ক্লাস টিটারকে বেতন বই জমা দেয়া এবং পরীক্ষার খাতা কেনা সর্বত্রই ভিড়। যা প্রচলিত বাজার থেকেও অধিক।
প্রশ্ন হলো, এ ভুল কার। স্কুল কর্তৃপক্ষ নাকি অভিভাবকদের? কে নেবে এর দায়?
উৎসঃ ফেইসবুক

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

ছেলেকে দেওয়া একজন আদর্শ বাবার উপদেশঃ

১. জুতা সেলাই বা রং করতে চাইলে মেরামতকারীর দোকানের সামনে পা বাড়িয়ে দিওনা, বরং জুতাটা খুলে নিজে একবার মুছে দিও।
২. কখনও কাউকে কামলা, কাজের লোক বা বুয়া বলে ডেকোনা। মনে রেখো তারাও কারো না কারো ভাই, বোন, মা, বাবা। তাদেরকে সম্মান দিয়ে ডেকো।
৩. বয়স, শিক্ষা, পদ বা পদবীর দিক দিয়ে কেউ ছোট হলেও কখনও কাউকে ছোট করে দেখোনা। নইলে তুমি ছোট হয়ে যাবে।
৪. পড়াশুনা করে জীবনে উন্নতি করো, কিন্তু কারো ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করো না।
৫. কাউকে সাহায্য করে পিছনে ফিরে চেওনা, সে লজ্জা পেতে পারে।
৬. সব সময় পাওয়ার চেয়ে দেয়ার চেষ্টা করো বেশি । মনে রেখো, প্রদানকারির হাত সর্বদা উপরেই থাকে।
৭. এমন কিছু করোনা যার জন্য তোমার এবং তোমার পরিবারের উপর আঙুল ওঠে।
৮. ছেলে হয়ে জন্ম নিয়েছো, তাই দায়িত্ব এড়িয়ে যেওনা।
৯. তোমার কি আছে তোমার গায়ে লেখা নেই। কিন্তু তোমার ব্যবহারে দেখা যাবে তোমার পরিবার কোথায় আছে।
১০. কখনও মার কথা শুনে বউকে এবং বউয়ের কথা শুনে মাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিও না। কাউকে ফেলতে পারবে না।
১১. কারও বাসায় নিমন্ত্রন খেতে গেলে বাসায় দু-মুঠো ভাত খেয়ে যেও। অন্যের পাতিলের ভাতের আশায় থেকো না।
১২. কারো বাসার খাবার নিয়ে সমালোচনা করো না। কেউ খাবার ইচ্ছে করে অস্বাদ করার চেষ্টা করে না।
১৩. বড় হবার জন্য নয়, মানুষ হবার জন্য চেষ্টা করো।
১৪. শ্বশুর কিংবা শাশুড়িকে এতটা সম্মান দিও, যতটুকু সম্মান তোমার বাবা-মাকে দাও। এবং তাদের প্রতি এমন আচরন করো, যাতে করে তাদের মেয়েকে তোমার বাড়ি পাঠানোর জন্য উতলা থাকে।
১৫. সব সময় ভদ্র ও নম্রভাবে চলো এবং কথা বলো। কিন্তু অন্যায়ের সাথে আপোষ করোনা।
-সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

করোনায় আইআইইউসি চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ওয়েভার দিয়েছে : ভাইস চ্যান্সেলর

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও গতিশীল রাখার জন্য সেখানে শিক্ষকগণই হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রকৃত প্রাণশক্তি। যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম ও প্রথা বিরোধী গুটিকয়েক শিক্সার্থীও অবুঝ থাকে। তাদেরকে বুঝানোর দায়িত্ব ঐ শিক্সকদের নিতে হবে--- এমনটাই বলেছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)‘র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর কে. এম. গোলাম  মহিউদ্দিন।
রবিবার (১২জুলাই) আইআইইউসি আয়োজিত ’মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাকতে শিক্ষকদের করনীয়’ এক অনলাইন সভায় তিনি এসব কথা বরেন।

আইআইইউসি’র প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহ্ম্মদ আলী আজাদী’র  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীর শিক্ষজীবন যাতে বিঘ্নিত না হয়। সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে; বিশেষ করে শিক্ষকদের।শুধু তাই নয় এসব শিক্ষার্থীদের শিক্সাজীবন সচল রাখার ক্ষেত্রে কোন অন্যায়ের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপোষ করা হবে না। 

মহামারী করোনা প্রসঙ্গ টেনে প্রফেসর কেেএম গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, করোনাকালীন সব শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আইআইইউসি সর্বোচ্চ ওয়েভার দিয়েছে। মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের উপর, সিবলিংকস, সেমিস্টারের ফলাফলের উপর , মুক্তিযোদ্ধা কোটা, অতিদরিদ্র কোটা, এই বিচশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স  শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার সময় দেয়া হয়েছে।

.এসময় অন্যান্যের মধ্যে এরা উপস্থিত ছিলেন আইআইইউস ‘র ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান,, সেন্টার পরিচালক, রেজিষ্ট্রার, প্রক্টর, প্রোগ্রাম সমন্বয়ক, শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ মোট ১৭০জন অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

কেউ যদি বুঝতে পারে যে, কিছুদিনের মধ্যে তার মৃত্যু হবে তাহলে তার জন্য ১০টি করণীয় ও দিক নির্দেশনা​

প্রশ্ন: কোন ব্যক্তি যদি বুঝতে পারে যে, কিছুদিনের মধ্য তার মৃত্যু হবে তাহলে তার করণীয় কী?
উত্তর:
মৃত্যু এক অবধারিত ও সুনিশ্চিত বিষয়। এখান থেকে পালানোর কারও সুযোগ নাই। কিন্তু কেউ জানে না, কার কখন কোথায় মৃত্যু সংঘটিত হবে। তাই তো আল্লাহ তাআলা বলেন:
ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
“কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।" (সূরা লোকমান: ৩৪)

তবে কেউ যদি মারাত্মক অসুখ, শারীরিক জটিল অবস্থা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুভব করতে পারে যে, হয়ত সে জীবন সায়াহ্নে এসে উপনীত হয়েছে, ক্ষণকাল পরেই তার জীবনের সূর্য নি:সীম অন্ধকারে হারিয়ে যাবে; আর কখনোই তা ফিরে আসবে না তাহলে তার উচিত, মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং জীবনের বাকি সময়টুকুকে অমূল্য সম্পদ মনে করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও গুনাহ মোচনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা।
এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে ১০টি দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হল:
◈ ১) পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে নিজের অতীত জীবনের সকল গুনাহের কথা তুলে ধরে অনুতপ্ত হৃদয়ে নিখাদ চিত্তে তওবা-ইস্তিগফার করা।
◈ ২) আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও অতীত জীবনে ঘটে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোকে যথাসাধ্য অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত-বন্দেগি ও নেকির কাজ দ্বারা ভরপুর করে দেয়া।
◈ ৩) সাধ্যমত কুরআন তিলাওয়াত, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, দুআ, তাসবিহ ও জিকির-আজকার দ্বারা জিহ্বাকে সজীব রাখা।
◈ ৪) কবরের অন্ধকার, হাশরের ভয়াবহতা, জাহান্নামের মর্মন্তুদ শাস্তি ইত্যাদির ভয়ে আল্লাহর নিকট ক্রন্দন করা এবং তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা।
◈ ৫) সর্বদা ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা।
◈ ৬) গল্প-গুজব, খেলা-ধুলা, বিনা দরকারে মোবাইল টিপা, টিভি দেখা এবং অনর্থক কথা ও কাজে সময় অপচয় না করা।
◈ ৭) কারো সাথে লেনদেন থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা।
◈ ৮) কারো ’হক‘ নষ্ট করে থাকলে অনতিবিলম্বে তা মালিককে ফিরিয়ে দেয়া। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে বা কারো প্রতি জুলুম-অত্যাচার করে থাকলে তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা বা তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং তার প্রতি কারো দাবি-দাওয়া ও অভিযোগ-অনুযোগ থাকলে বিষয়টি মিটমাট করে নেয়া।
◈ ৯) দান-সদকা করা। (তবে তার সম্পদের সর্বোচ্চ তিনভাগের একভাগ দান করতে পারে। এর বেশি দান করা শরিয়ত সম্মত নয়)
◈ ১০) মৃত্যুর পরে কী করণীয় সে বিষয়ে তার পরিবার বা উত্তরাধিকারী লোকজনকে দিক নির্দেশনা দেয়া ও ওসিয়ত করা।
পরিশেষে দুআ করি, মৃত্যুর পূর্বে দয়াময় আল্লাহ যেন আমাদের সকল গুনাহ মোচন করে দেন, বেশি বেশি নেকির কাজ করে তাঁর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করেন এবং কবর, হাশর ও জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা করেন। আমীন।
▬▬▬▬◐◑▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার/ট্যাগ করতে ভুলবেন না কিন্তু।

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০

সেটিই তোমার অবস্থান, যে অবস্থায় আল্লাহ তোমাকে রাখেন

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ তুমি কি জানতে চাও, আল্লাহর কাছে তোমার সম্মান কতটকু? তাহলে দেখ, তিনি তোমাকে কোন অবস্থায় রেখেছেন?
- যদি দেখ তিনি তোমাকে তার যিকিরে মশগুল রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিনি তোমাকে স্মরণ করতে চান।
- যদি দেখ তিনি তোমাকে কুরআন দ্বারা মশগুল রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিনি তোমার সাথে কথা বলতে চান।
-যদি দেখ, তিনি তোমাকে ইবাদাত/আনুগত্যে ব্যস্ত রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিনি তোমাকে তার সান্নিধ্যে টেনে নিয়েছেন।
- যদি দেখ, তিনি তোমাকে দুনিয়া দিয়ে ব্যস্ত করে দিয়েছেন, তাহলে জেনে নাও, তিনি তোমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন।
-যদি দেখ, তিনি তোমাকে লোকজনের সাথে মশগুল বানিয়ে দিয়েছেন, তাহলে জেনে নাও, তিনি তোমাকে অপমানিত করেছেন।
- যদি দেখ, তিনি তোমাকে দুআর দ্বারা ব্যস্ত রেখেছেন, তাহলে জেনে নাও, তিনি তোমাকে কিছু দিতে চান।
অতএব, সবসময় নিজের অবস্থা দেখ। তুমি কোন কাজে মশগুল? আল্লাহ তোমাকে যে কাজে ব্যস্ত রেখেছেন, সেটাই তোমার অবস্থান তাঁর কাছে।

মূল: ড. রাতিব আন-নাবলুসি।
অনুবাদ: ড.বি. মফিজুর রহমান আল-আযহারী।

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়: ইসলামী দৃষ্টিকোন: প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন তালুকদার

 বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ০৪ এপ্রিল ২০২০
তোমার ওপর তোমার শরীরেরও অধিকার রয়েছে, (বুখারী, হাদীস নং ১৯৬৮)
==========
♦আতংকিত না হয়ে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল হওয়া: কেননা আল্লাহর হকুম ছাড়া কোন বিপদ আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। তিনি বলেন আল্লাহ যা আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন তা ছাড়া কোন কিছুই আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আল্লাহর উপড় মুমিনের নির্ভরশীল হওয়া উচিৎ।" (সূরা আত্ তাওবা, ৫১)
=============
♦লক ডাউন: যে এলাকায় মহামারি আক্রান্ত হয় সে এলাকায় প্রবেশ ও বাহির বন্ধ করে দেয়া। এ সম্পর্কে রাসূল (সঃ) বলেন "যদি তোমরা শুনতে পাও কোন জনপদে প্লেগ বা অনুরুপ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তবে তোমরা তথায় গমন করবে না।
আর যদি তোমরা যে জনপদ অবস্থান করছো তথায় তার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না।( বুখারী, হাদীস নং ৫৩৯৬)
============
♦আইসোলেশন ( Isolation) : মহামারী রোধে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে পৃথক রাখাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আইসোলেশন বলা হয়। রাসূল (সঃ) এ সম্পর্কে ঘোষনা করেছেন, অসুস্থের কাছে নেয়া হবে না। (বুখারী, ৫৭৭১ ও মুসলিম, ২২২১)
============
♦হোম কোয়ারেন্টাইন (guarantine): সুস্থ ব্যাক্তি মহামারীতে আক্রান্তের আশংকায় জনবিচ্ছিন্ন থাকাকে কোয়ারেন্টাইন বলা হয়। বিভিন্ন হাদীসে এভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার ফযিলতল বর্ণিত হয়েছে। যেমন নবীজি (সঃ) বলেন কোন বান্দা যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং নিজ বাড়িতে ধৈর্য সহকারে সওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বাস বুকে নিয়ে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তাকদিরে যা চূড়ান্ত রেখেছেন তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আক্রান্ত করবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে শহীদের সমান সওয়াব। ( বুখারী, ৩৪৭৪ ও মুসনাদে আহমদ, ২৬১৩৯)
===============
♦মুসাফাহ ও কোলাকুলি এড়িয়ে চলা: কেননা এর মাধ্যমে সংক্রামণের ভয় থাকে। নবীজি (সঃ) সাকিফের প্রতিনিধি দলের মধ্যকার কুষ্ঠ রোগীকে হাতে হাতে বাইয়াত না দিয়ে লোক মারফত বলে পাঠান, তুমি ফিরে যাও। আমি তোমার বাইয়াত নিয়ে নিয়েছি। " ( মুসলিম, ২২৩১)
==============
সার্বিক পরিচ্ছন্ন থাকা: কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে মুমিনদেরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। "আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন। " সূরা আল-বাকারা, ২২২), হাদীসে পবিত্রতাকে ঈমানের অংগ বলা হয়েছে। শরীয়াতের বিভিন্ন বিধানকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম নির্ধারণ করা হয়েছে:
===============
♦ওজুর মাধ্যমে মানুষের শরীরের অনাবৃত্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করা হয়:
♦মেসওয়াকের মাধ্যমে মুখের সব ধরনের জীবানু ধ্বংস হয়:
♦সামগ্রিকভাবে সর্বক্ষণ ও বিশেষত সালাতের পরিধেয় কাপড় পরিচ্ছন্ন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে,। আল্লাহ বলেন: """ তোমরা কাপড় পরিস্কার রাখো। " (আল-মুদ্দাচ্ছির, ৪)
================
♦গুজবে কান না দেয়া ও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা: ইসলামে যাচাই ছাড়া কোন তথ্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন,
" কোন অসমর্থিত ব্যক্তি কোন খবর দিলে তোমরা তা যাচাই করো। (সূরা আল- হুজুরাত: ৬) এ সমপর্কে রাসূল (সঃ) বলেন, যাচাই না করে শোনা খবর বিশ্বাস করা মিথ্যুক হওয়ার নামান্তর। " ( মুসলিম, ৫)
================
♦ ঘরে নামায আদায় করা: আপদকালীন অবস্থায় রাসূল (সঃ) সাহাবীগণকে বাড়িতে নামায আদায়ের নির্দেশ দেন। তিনি মুআজ্জিনকে আজানের মধ্যে বলতে বলেন, আলা সাল্লু ফী রিহালিকুম" (তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে নামায আদায় কর) ( বুখারী ৬৬৬, মুসলিম ৬৯৭) তাঁর ইন্তিকালের পরে সাহাবীগণও একইভাবে আমল করতেন। সহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) থেকে এর প্রমাণ বর্ণিত হয়েছে যে তিনি মুয়াজ্জিনকে নির্দেশ দেন আজানের "সাল্লু ফী বুয়ূতিকুম" (তোমরা বাড়ীতে সালাত আদায় কর) অংশটি যোগ করার জন্য। (বুখারী ৬৬৮, মুসলিম ৬৯৯) ইসলামী শরীআর উদ্দেশ্য ও মহামারীর গতি-প্রকৃতি বিবেচনায় মিসর, সৌদীআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফিকহ কমিটি ও ইসলামী ফাউন্ডেশন মসজিদে মুসল্লাীদের উপস্থিতি সর্বনিম্ম পর্যায়ে নিয়ে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন। বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রীও সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সকলকে ঘরে ইবাদাত করার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
===================
♦ গরিব-আসহায় ও নিম্ম আয়ের লোকদের সাহায্যে এগিয়ে আসা: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঘোষিত
লকডাউনের এ দিনগুলোতে গরিব- অসহায় ও নিম্ম আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করা বিত্তবানবানদেরওপর আবশ্যক। এ মহৎ গুণের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন, "অথবা খাদ্য দান করা দুর্ভিক্ষের দিনে,ইয়াতীম আত্মীয়-স্বজনকে,অথবা ধুলামলিন মিসকীনকে ।"( সূরা আল-বালাদ,১৪-১৬)
===============
♦ভাইরাস প্রতিরোধে ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলিম সরকার জনকল্যাণের বিবেচনায় কোন নির্দেশনা দিলে এবং তা শরীয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক না হলে তা মান্য করা অপরিহার্য। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন, "তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর আনুগত্য করো রাসূলের ও তোমাদের নেতৃস্থানীয়দের। " (সূরা আন-নিসা, ৫৯) এ সময়ে আমাদের উচিৎ বেশি বেশি (১) তওবা, (ইস্তেগফার, (৩) নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামায, (৪) কুরআন তিলাওয়াত, (৫) নফল রোযা, (৬) তাহাজ্জুদ নামায ও (৭) রাসূলের (সঃ) এর দুরুদ পাঠ করা।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন তালুকদার, আরবী বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য, শরীয়াহ

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০

আমার ফ্যামিলি যেন থাকে দুধেভাতে বাকিরা মরিয়া যাক করোনার ঘাতে!

"আমার ফ্যামিলি যেন থাকে দুধেভাতে
বাকিরা মরিয়া যাক করোনার ঘাতে"*
দুই দিনে কিনিয়াছি চারমণ চাল
আশি কেজি আটা আর কুড়ি কেজি ডাল!
আরও কিছু ডাল কিনে করিব মজুদ
ষাট কেজি কিনিয়াছি প্যাকেটের দুধ!
তেল এত কিনিয়াছি – সব ঢালি যদি
নিমেষেই হয়ে যাবে কুশিয়ারা নদী।

লবণের বস্তাটা সস্তাই ছিল
ভাবা যায় পেয়ে গেছি ত্রিশ টাকা কিলো?
কিনিয়াছি চা-র পাতা, ঘৃত আর চিনি
মসলার গুঁড়াগুলি ঘুরে ঘুরে কিনি।
পেঁয়াজ-রসুন-আদা বস্তা ভরিয়া
কিনিয়াছি, দুর্দিন স্মরণ করিয়া।
বিস্কুট-চানাচুর-সেমাই আর ম্যাগি
কিনে কিনে ভরিয়াছি চিন-চার ব্যাগই!
আপাতত কিনিয়াছি চারশত ডিম
সামনের দিনে যদি খাই হিমশিম!

মাছ কিনে রাখিয়াছি ডিপ ফ্রিজে ভরে
খাওয়া যাবে দশজনে ছয়মাস ধরে।
সাধ ছিল পুরা গরু কিনে রাখি ফ্রিজে
পারি নাই সেটা ভেবে দুঃখিত নিজে!
মুদি শেষ এরপর ফার্মেসি যাব
সিভিট কিনব আমি যতগুলো পাব।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার একশোটা আমি
অর্ডার দিয়া দিছি হোক যত দামি।

গ্যাসের ওষুধ আর অ্যামোডিস, নাপা
দশ বক্স কিনে নেব – এটা নয় চাপা!
কন্ডোম? হিসাবটা মিলাইয়া নিন
ছয়মাসে বাদ যাবে চব্বিশ দিন!
করোনায় মরি আর যাহাতেই মরি
ভাতের অভাবে আমি মরিব না, স্যরি!
আমার ফ্যামিলি যেন থাকে দুধেভাতে
বাকিরা মরিয়া যাক করোনার ঘাতে!

উৎসর্গঃ সকল মজুদমারানিকে।
___ব্রত রায়ের লেখা!

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

তাওবাহ কেন এবং কিভাবে


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ মৃত্যু, জীবনের সবচেয়ে কঠিন এক বাস্তবতা। মৃত্যুর কোনো সময় নেই। মৃত্যুর কোনো দয়া-মায়া নেই। সে চিনে না ছেলে বুড়ো, ধনী গরীব। সে মানে না অনুনয় অনুরোধ। এমন কোনো অস্ত্র নেই তাকে প্রতিহত করতে পারে। এমন কোনো দুর্গ নেই যেখানে তার থেকে মানুষ আশ্রয় পেতে পারে।
.
এক করোনা ভাইরাস গড়ে শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে প্রতিদিন। কিন্তু আজ যদি করোনা মহামারী আকার ধারণ নাও করত, মৃত্যু থেকে আমরা পালাতে পারতাম না। মৃত্যু একদিন আসতই। তবে করোনা আর মৃত্যুর মাঝে একটি গভীর মিল আছে। মৃত্যুর যেমন কোনো দিন তারিখ নেই, আমরা জানি না কে আগে মরবে, তদ্রূপ করোনার কোনো দিন তারিখ নেই, জানি না কাকে আগে আক্রমণ করবে। হয়ত যিনি এই পোস্টটি লিখছেন, তিনিই তালিকার ওপরে আছেন। আল্লাহ রক্ষা করুক।
.
তাই সময় থাকতে আমাদের তাওবাহ করা উচিত। মৃত্যু পূর্বেই নিজেদের শুধরে নেয়া উচিত। লুকমান (আ.) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন,
يا بني ، لا تؤخر التوبة فإن الموت يأتي بغتة
'প্রিয় সন্তান, তাওবাহ করতে দেরি করো না। কারণ, মৃত্যু যে কোনো মুহূর্তেই চলে আসতে পারে।'
.
অধিকন্তু আমাদের পূর্বসূরিগণ সকাল সন্ধ্যা তাওবাহ না করাকে যুলুম গণ্য করতেন। তাবিঈ মুজাহিদ (রহ.) বলেন,
من لم يتب إذا أمسى وإذا أصبح ، فهو من الظالمين
'যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তাওবাহ করে না, সে যালেমদের অন্তর্ভুক্ত।'
.
প্রশ্ন (১) তাওবাহ কীভাবে করতে হয়?

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযি.) বলেন,
التوبة النصوح : الندم بالقلب ، والاستغفار باللسان ، والإضمار أن لا يعود إليه أبداً.
'তাওবাতুন নাসুহা, অর্থাৎ খাঁটি তাওবার তিনটি শর্ত:
(১) অন্তর দিয়ে অনুশোচনা করা
(২) জিহ্বা দিয়ে মাফ চাওয়া
(৩) এবং পাপ পুনরাবৃত্তি না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা
.
প্রশ্ন (২) কোন কোন পাপ থেকে তাওবাহ করবেন?

ইমাম নববী (রহ.) বলেন,
'আলিমগণ এই ব্যাপারে একমত, প্রত্যেক পাপ থেকে তাওবাহ করা ওয়াজিব। যদি গুনাহের সম্পর্কে আল্লাহর সঙ্গে থাকে এবং কোনো মানুষের অধিকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ ধরণের তাওবাহ কবুল হওয়ার শর্ত হচ্ছে তিনটি: ১। পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা, ২। পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত হওয়া, ৩। আগামীতে ঐ পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করা। আর গুনাহের সম্পর্ক যদি অন্যের হক নষ্ট করার সাথে থাকে, তাহলে তাওবার প্রথম শর্ত হচ্ছে ব্যক্তির হক ফিরিয়ে দেয়া।' [রিয়াদুস সালেহীন, ২য় পরিচ্ছেদ]
.
প্রশ্ন (৩) তাওবাহ কখন করবেন?

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন,
তাওবাহ করতে গড়িমসি না করা। গুনাহ করার সাথে সাথে তাওবাহ করা ফরজ। যদি কেউ তাওবাহ করতে দেরি করে তবে সে তার জন্য দায়ী হবে। যদি সে পরে তাওবা করে, তবে তাওবাহ করতে দেরি করার জন্য আলাদা করে তাওবাহ করতে হবে।
.
এ জন্য ইয়াহইয়া ইবনু মুয়ায (রহ.) বলেন,
الذي حجب الناس من التوبة: طول الأمل وعلامة التائب إسبال الدمعة وحب الخلوة والمحاسبة للنفس عند كل همة
'মানুষদের তাওবার পথে প্রধান অন্তরায় হলো দীর্ঘ আশা। আর প্রকৃত তাওবাকারীর লক্ষণ হলো: অশ্রু ঝরে পড়া, (পাপের আড্ডাখানার বদলে) নির্জনতা পছন্দ করা, এবং নিজের প্রত্যেক ইচ্ছার বিপরীতে আত্ম-জিজ্ঞাসা করা।'
উদাহরণস্বরূপ: এটি করা হারাম না হালাল? এর দ্বারা আমার আখিরাত বরবাদ হবে না তো?
.
প্রশ্ন (৪) তাওবার পর যদি আবার পাপে জড়িয়ে যান?

শায়খ রুস্তাকি (রহ.) বলেন, 'অনেকে বলে, "আমি তাওবা করি না কারণ, আমি জানি, আমি আবার গুনাহের দিকে ফিরে যাব"। বস্তুত এমন ধারণা রাখাই শয়তানের প্ররোচনা। কেউ জানে না তার মৃত্যু কখন হবে। কাজেই বান্দার কাজ হলো তাওবাহ করা। আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতে হয়ত গুনাহ ত্যাগ করার দৃঢ়তা দান করবেন। যদি কেউ আবার গুনাহ করেও বসে, তবুও অন্তত সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এবং তাওবার মাধ্যমে পূর্বের গুনাহ থেকে নিজেকে পবিত্র করে নিয়েছিল।'
.
মোট কথা, তাওবাহ করার পর পুনরায় ভুল হয়ে গেলে পূর্বের তাওবাহ বাতিল হয়ে যায় না। অধিকন্তু আমাদের কাজ হবে, গুনাহ হয়ে গেলেই তাওবাহ করা। বার বার করা। আল্লাহ যদি আমাদের মাঝে এই আন্তরিকতা দেখেন, আশা করা যায় তিনি দয়াবশত একদিন না একদিন পাপ থেকে চিরতের জন্য বেঁচে থাকার তাওফীক দেবেন।
.
প্রশ্ন (৫) তাওবার ওপর অটল থাকার উপায়গুলো কী?

এক. খারাপ সঙ্গ পরিত্যাগ করা। প্রয়োজনে একা থাকা, তবুও তাদের সাথে না বসা।
- অন্তর শক্ত যাদের, তাদের সাথে বসলে আপনার অন্তর শক্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য উমার (রাযি.) বলেন,
اجلسوا إلى التوابين فإنهم أرق أفئدة
'তাওবাকারীদের সাথে বসো। কারণ, তারা সবচেয়ে নরম মনের অধিকারী।'
.
দুই. ইস্তিগফার ছেড়ে না দেয়া। প্রতিদিন আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া।
- নবীজি এর পূর্বের এবং পরের সকল ভুল ত্রুটি আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। তথাপি তিনি দৈনিক ৯৯ বার (অপর এক হাদীস অনুযায়ী ১০০ বার) তাওবাহ করতেন। [বুখারী, মুসলিম] তাহলে আমাদের কতবার করা উচিত? অথচ আমরা জানি না আমাদের কোন পাপ আল্লাহ মাফ করছেন, কোনটা করছেন না!
.
আলী (রাযি.) বলেন,
العجب ممن يهلك ومعه النجاة ، قيل : وما هي ؟ قال: الاستغفار
'আযাব ব্যক্তিকে ধ্বংস করে দেয়। তবে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় আছে।' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'সেটা কী?', তিনি বলেন, 'ইস্তিগফার।'
.
তিন. নেক আমল জারি রাখা, পাপের কারণে আমল না ছাড়া।
- আল্লাহ বলেন,
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ
'নিশ্চয়ই নেক কর্ম পাপরাশি মিটিয়ে দেয়।' [সূরা হূদ, ১১: ১১৪]
.
আল্লাহ আরও বলেন,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّـهِ إِنَّ اللَّـهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
'বলো, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।' [সূরা যুমার, ৩৯: ৫৩]
--------
পাশাপাশি নিজেকে সবসময় নেক আমলে উদ্বুদ্ধ করতে এবং পাপ থেকে দূরে থাকতে যে বইগুলো প্রাত্যহিক রুটিনে রাখতে পারেন: https://bit.ly/33SGD2r

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০

অসভ্য সমাজেতো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়া জার্মানীর বায়োলজিকাল রিসার্চার বলেছেন- এক মাসে একজন ফুটবলার কয়েক মিলিয়ন ইউরো আয় করে। আর একজন রিসার্চার আয় করে মাত্র ১৮০০ ইউরো। এক ছবিতে একজন ম্যুভি স্টার যা আয় করে - সারা জীবন গবেষণায় একজন গবেষক তার একশত ভাগের একভাগও আয় করেনা। আর এখন জীবন বাঁচাতে আপনি হন্যে হয়ে ভাইরাসের প্রতিষেধক খুঁজছেন। যান না এখন মেসি, রোনাল্ডো, টমক্রুজের কাছে। ওরাই আপনার কিউর বের করে দিবে।

নেসেসিটির চেয়ে লাক্সারী যে পৃথিবীতে বড় হয়ে যায়, জীবন বাঁচানো মানুষদের চেয়ে বিনোদনের মানুষ সেলিব্রেটি হয়ে যায়, হাসপাতালের চেয়ে স্টেডিয়ামের গুরুত্ব বেড়ে যায়- সেই অসভ্য সমাজেতো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই।

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আই আই ইউ সি: যে প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষালাভ করে হাজার হাজার গ্রাজ্যুয়েট সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রেস্টিজিয়াস অর্গানাইজেশনে কর্মরত রয়েছেন।

বহু মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, ও অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার ফসল আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বা আই আই ইউ সি। বাংলাদেশের বিশেষকরে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের মানুষের ব্যাপারে সুখ্যাতি রয়েছে যে তাঁরা অধিক ধর্মপরায়ন। একটি কথা বলে রাখা ভাল যে, ধর্মপরায়নতা কোন রাজনৈতিক ওরিয়েন্টেশনের উপর নির্ভরশীল নয়। যে কেউ যে কোন যায়গা থেকে ধর্মচর্চা করতে পারেন।
১৯৯২ ইং সালের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন মতে ১৯৯৫ ইং সালে 'আই ইউ সি' প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তিতে নাম পরিবর্তন করে 'আই আই ইউ সি' হয়। সেই থেকে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণের প্রতিষ্ঠান এই আই আই ইউ সি। প্রচলিত সেক্যুলার ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা শেখার তেমন সুযোগ রাখা হয়নি। আর সার্বিকভাবে মানসম্পন্ন গ্রাজ্যুয়েট তৈরিতে আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছিল; কলুষিত রাজনীতির ভয়াল থাবায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় দীনতা তৈরি হচ্ছিল; আর আমাদের সচেতন কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যখন বিদেশে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে পারি জমাচ্ছিল - ব্রেইন ড্রেন হচ্ছিল তখনি আই আই ইউ সি নৈতিকতা ও মান সম্পন্ন গ্রাজ্যুয়েট তৈরির মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
এই মিশন দেশে বিদেশে দারুণভাবে সমাদৃত হয় ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। তাইতো তৎকালীন সৌদি পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পীকার শাঈখ ড. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ, বিখ্যাত স্কলার ড. আব্দুল্লাহ মুসলেহ সহ আরও অনেকে আই ইউ সি ট্রাস্টের সাথে শুধু যুক্ত হওয়াই নয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালনেও সম্মতি প্রদান করেন। আই আই ইউ সিকে আন্তর্জাতিক রুপ দেয়ার নিমিত্বে মালয়েশিয়ার নামকরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আই আই ইউ এম এর শিক্ষা ও পরিচালনা পদ্ধতিকে মডেল হিসেবে নেয়া হয়।
শহরের কোলাহল, হ্যাভি ট্রাফিক আর অপর্যাপ্ত একোমোডেশন এর কারনে শহরের বাইরে শান্ত-সবুজ পাহাড় ও সমুদ্র ঘেরা অপুর্ব, মনোহর প্রাকৃতিক পরিবেশে চট্টগ্রামের কুমিরায় আই আই ইউ সি এর স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা নেয়া হয়। বিশাল এক মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে, ইউনিভার্সিটি সিটি করার পরিকল্পনা ছিল আই আই ইউ সি'র। যায়গা কেনা হয়েছে প্রায় ৪৫ একর। এর মধ্যে কাতার সরকারের সহযোগিতায় গড়ে উঠে কমপ্লিটলি অটোমেটেড সেন্ট্রাল লাইব্রেরী। কুয়েতের ধর্ম ও ওয়াকফ মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে গড়ে উঠে সেন্ট্রাল মসজিদ ও সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি বিল্ডিং ও হোস্টেল স্পন্সর করে এই স্থায়ী ক্যাম্পাসে।
অত্যন্ত সুনামের সাথে আই আই ইউ সি তাঁর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সরকারের প্রায় সকল রিকোয়ারম্যান্টের সাথে এর কমপ্লাইয়েন্স রয়েছে। সরকার মনোনীত উপাচার্য, উপ উপাচার্য, ও ট্রেজারার রয়েছে এখানে। বাংলাদেশে ১০৫ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯ম, ও সরকারী-বেসরকারী সব মিলিয়ে ১৫৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭তম অবস্থানে রয়েছে আই আই ইউ সি। সারা বিশ্বের ২৯২৫৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আই আই ইউ সি'র অবস্থান ৪৫৫১ তম। আর এশিয়ার ১৪৩৬৭ এর মধ্যে আই আই ইউ সি'র অবস্থান ১৬১৩ তম। স্কোপাস ইন্ডেক্সড গবেষণা পাবলিকেশনেও বাংলাদেশে আই আই ইউ সি'র বেশ মজবুত অবস্থান রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষালাভ করে হাজার হাজার গ্রাজ্যুয়েট সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রেস্টিজিয়াস অর্গানাইজেশনে কর্মরত রয়েছেন।
এমতাবস্থায় আই আই ইউ সিকে যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সর্বমহলের দায়িত্ব বলে মনে করি। আল্লাহ সহায় হওন। 
Shariful Haque(Associate Professor)

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র শুভেচ্ছা.

  বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তাই এ দিন সকল কালিমা আর কলুষতাক...