* দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা*

ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র * সকল প্রকার একাউন্ট খুলতে * * টাকা জমা করতে * টাকা উঠাতে * * বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এর টাকা বোনাসসহ উঠাতে * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে আসুন। * * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা* * প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ 01711-458151* 01700-925241*

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

তরুণ প্রজন্ম কোন পথে?

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  আনুশকা নূর আমিনের ঘটনাটা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটা মডেল কেইস। ভারতীয় আর পশ্চিমা সংস্কৃতিতে আসক্ত কিশোর-কিশোরীদের অনেকের জন্যই এখন বিএফ, জিএফ, রিলেশন, ব্রেক আপ এমনকি রুমডেটও অনেকটা দুধভাত এর মতই। খুব সহজেই এরা মিশছে একে অপরের সাথে। মোবাইল আর ইন্টারনেট এদের পারস্পরিক যোগাযোগকে করে তুলেছে একদম সহজ৷


আবার এদের অনেকেই প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে এদের শিক্ষার মাধ্যম হল পর্ণগ্রাফি। যার ফলশ্রুতিতে এরা আসক্ত হচ্ছে বিকৃত যৌনাচারের। আনুশকার মৃত্যুর কারণ হিসাবেও ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে বিকৃত যৌনাচারের কথা। যৌন এবং পায়ুপথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে আনুশকা।
আসামী ইফতেখার ফারদিন জিহানও ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দিয়েছে আদালতের নিজের জবানবন্দীতে। অপ্রাপ্তবয়স্ক যে কারো সাথে সম্মতি ছাড়া, প্রতারণা করে কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কই আইনের ভাষায় ধর্ষণ হিসেবে গণ্য। যদিও এতে সে দাবী করেছে আনুশকার সম্মতি ছিল। তবে পরিস্থিতি এবং বাস্তবতা বিচার করলে দিহানের দাবী ধোপে টিকার সম্ভাবনা কম। আনুশকাকে কোন চেতনানাশক খাওয়ানো হয়েছিল এরকম সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

এদিকে লাশের সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই যদি এই মৃত্যু দুজনের সম্মতিতে বিকৃত যৌনাচারের ফলশ্রুতিতে হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে এর চাইতে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না৷ বলতে হবে, এই প্রজন্মকে আমরা সত্যিই চিনি না। এবং এই প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের সত্যিকার ভাল বাবা মা হতে হলে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

আনুশকা আর দিহানের মধ্যে সম্ভবত এফেয়ার ছিল। মিডিয়াতে ওদের পোশাক পরিহিত ঘনিষ্ঠ ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। আনুশকা(১৭) ও লেভেলের আর দিহান(১৯) এ লেভেলের স্টুডেন্ট, সম্ভবত বছর দুই বড় হবে। তবে আইনের দৃষ্টিতে দুজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

আনুশকার বাবা-মা দুজনেই পেশাজীবি৷ বাবা-মা দুজনেই পেশাজীবি হলেই যে সন্তান বখে যাবে ব্যাপারটা এমনটাও নয়। কারণ গৃহিনী মায়ের সন্তানরাও বখে যেতে পারে এবং কর্মজীবী মায়েদের সন্তানরাও সুসন্তান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এরকম উদাহরণও আমাদের সমাজে প্রচুর। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হল, পারিবারিক শিক্ষা আর সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব।
দিহানের সাথে ২-৩ মাসের সম্পর্কের ব্যাপারটা আনুশকার পরিবার জানত না। আবার আনুশকা মাকে ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নোট সংগ্রহের কথা বলে বাসা হতে বের হয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাসায় বসেই অনেকভাবে নোট সংগ্রহ করা যায়। যদিও আনুশকার পরিবার হতে কেউ কেউ দাবী করেছে, আনুশকা কোচিং এ গিয়েছে এবং কোন মেয়ে ওকে বিভ্রান্ত করে দিহানের বাসায় নিয়ে গেছে। যদি স্বেচ্ছায় দিহানকে বিশ্বাস করে খালি বাসায় গিয়ে থাকে তবে এর ঝুঁকি সম্পর্কে সম্ভবত আনুশকাকে ঠিকভাবে বুঝানো হয়নি। খালি ফ্ল্যাট, খালি বাসা, বন্ধুর ফ্ল্যাট এসব কিছুই কিশোরী আর তরুণীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কোন মূল্যেই, কাউকেই এসব পরিস্থিতিতে বিশ্বাস করার প্রশ্নই আসে না। এসব ভুলের মূল্য অনেককেই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েই দিতে হয়।

দিহানের বাসা খালি ছিল। পরিবার অনুপস্থিত ছিল এবং নিঃসন্দেহে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই দিহান আনুশকাকে সেখানে সত্য কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ডেকে নিয়ে গেছে। এরপর সম্মতি নিয়ে, ফাঁদে ফেলে কিংবা জোরজবরদস্তি করে উদ্দেশ্য পূরণ করেছে। এখন পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা মিডিয়াতে আসেনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে সম্ভবত ভয় পেয়ে বন্ধুদের ডেকেছে এবং হাসপাতালে নিয়ে গেছে। ওরা হয়ত ভাবেনি, আনুশকা মারা যেতে পারে।

খুব কঠিন একটা সময় আসছে। তরুণ প্রজন্ম এমন সব অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে যেসবে ধর্ম আর নৈতিকতার বালাই নেই। বরং তাদের আচার-আচরণে ভারতীয় আর পশ্চিমা, আধুনিক এবং খোলামেলা সংস্কৃতিই প্রাধান্য পাচ্ছে। সবার হাতে হাতে মোবাইল আর অধিকাংশ বাবা-মা জানেও না, তাদের সন্তানরা কই যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে কি করছে কিংবা কি কি অপরাধে জড়াচ্ছে।

আনুশকা আমার মেয়ের বয়সী। আমি খুবই শংকিত। আমি অনেক কিশোর-কিশোরীদেরই দেখি এবং জানি যাদের বাবা মায়ের সাথে তাদের বন্ধুত্ব নেই বরং দূরত্ব আছে। তারা তাদের জীবনযাপনের কিছুই বাবা-মায়ের সাথে শেয়ার করে না। অথচ সন্তানের জন্য একমাত্র বাবা-মাই হচ্ছে প্রকৃত আর অকৃত্রিম শুভাকাঙ্ক্ষী।

ধর্ম, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা আর সন্তানের সাথে বন্ধুত্বই পারে এধরণের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে। কিন্তু বাস্তবতা হল অতি আধুনিকতার সাথে প্রতিনিয়ত পাল্লা দেয়া আমাদের সমাজ আর পরিবেশ তার বিপরীত দিকেই দ্রুত ধাবিত হচ্ছে।

লিখেছেন Atique Ua Khan

ফেলানি: রেদওয়ানুল হক

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্ক:
ভুলে তুমি গেলা নি?

এই দিনে কাঁটাতারে
ঝুলেছিলো ফেলানি!

ফেলানির রক্তে
আজো এই অক্তে
কেঁদে-কেটে যায় ভেসে
হাহাকার ভেলা নি?

দুনিয়াটা নিষ্ঠুর
আমাদের বেলা নি?

যে-মেয়েটির প্রথম মাসিক হয়েছিল লড়াইয়ের পথে

আনসারিদের কয়েকজন নারী খাইবার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা মূলত চোটগ্রস্ত বা অসুস্থদের সেবা করার জন্য সাথে গিয়েছিলেন। তাঁদের সাথে ছিল এক ৭ কি ৮ বছরের বালিকা। তার কোনো সওয়ারি ছিল না। নবিজি বললেন তাঁর সঙ্গে আসতে। সে তখন নবিজির সওয়ারির পেছনে ঝোলানো বাক্সপেটরার ওপর বসল।

এই বালিকার নাম আমরা জানি না। শুধু জানি সে এই যাত্রার ঘটনা বলেছে নিজে। সে বলেছে, ‘উট থামল। নবিজি আমাকে নামতে বললেন। আমি দেখলাম রক্ত! আমার প্রথম মাসিক। খুব ভয় হলো। মালপত্তরের ওপরই কাঠ হয়ে বসে রইলাম।’
সে আসলে বুঝতে পারছিল না কী করবে। বিব্রত। লজ্জিত। এমন জায়গাতেই এমন কিছু হতে হলো? তা-ও আবার কার সামনে!
নবি সা. আবার বললেন, ‘নেমে পড়ো।’
কিন্তু সে নড়ে না। রক্তের দাগ চোখে পড়ল নবিজির। তিনি বললেন, ‘তোমার কি মাসিক হচ্ছে?’
সে ওপরে নিচে মাথা নাড়ল।
‘আচ্ছা। সমস্যা নেই। পরিষ্কার হয়ে নাও। আর রক্তটা পানি আর লবণ দিয়ে ধুয়েমুছে আগের জায়গায় বসে যাও।’
সুবহান আল্লাহ। কী চমৎকারভাবে নবি সা. মেয়েটির বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দিলেন। রাগ করলেন না। বিরক্ত হলেন না। কিচ্ছু না।
মেয়েটি পরে জানিয়েছে, নবি সা. তাঁকে একটা হার উপহার দিয়েছিলেন। হারটা দেখিয়ে সে বলেছিল, ‘যতদিন বেঁচে আছি সব সময় এটা সাথে রাখব। মরলেও এটা আমার কবরে নিয়ে যাবো।’
মাত্র ৮ বছরের মেয়ে যখন সে খাইবারের দিকে রওনা হয়েছিল। নবিজির পিছে বসে গেল। কোনো সমস্যাই হইনি। আর অমন বিব্রত এক অবস্থা কী সুন্দর করেই না সামাল দিলেন নবিজি।
[নবীজীবন, ড. ইয়াসির কাদি]
অনুবাদঃ মাসুদ শরীফ

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

গ্রাম ডাক্তার মোঃ সারোয়ারের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ গ্রাম ডাক্তার মোঃ সারোয়ারের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি।

বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির ঢাকা জেলার ডেমরা থানা শাখার সদস্য গ্রাম ডাক্তার মোঃ সারোয়ার আজ ই‌ন্তেকাল করেছেন(ইন্না‌লিল্লা‌হি ওয়া ইন্নাইলাইহি রা‌জিউন)।
তাঁর এই মৃত‌্যু‌তে বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গ্রাম ডাক্তার আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক গ্রাম ডাক্তার আবু ইউসুফ খান বাদল গভীর শোক প্রকাশ করে এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন ও তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনা করছেন।

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

স্ত্রীকে ভালোবাসা বিষয়ক ১০ হাদিস সংগ্রহ করলেন অ্যানি খান

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ উম্মে হাবিবা অ্যানি। অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশ করেছেন। কার্যত লকডাউনের সময় ফেসবুক লাইভে এসে পর্দা থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানান। এরপর বিয়ের খবরও জানান। তার কথা অনুযায়ী ঘর-সংসার ও ধর্ম নিয়েই সময় কাটছে অ্যানির। মাঝে-মধ্যে ফেসবুকে নিজের ধর্ম সম্পর্কে যেসব কাজ করেন, সেসব কাজের আপডেট দেন। তারই অংশ হিসেবে এবার জানালেন- নিজের পছন্দের ১০টি হাদিস সংগ্রহ করেছেন।

অ্যানি ফেসবুকে লিখেছেন, 'আমার খুব খুব খুব পছন্দের ১০টা হাদিস কালেক্ট করলাম। যখনই পড়ি হাদিসগুলো, আমি যেন কল্পনায় সেই দুজনকে দেখতে পাই। তাঁদের দুজনের ভালোবাসা অতুলনীয়- কতটা ভালোবাসা নিয়ে একই জায়গা থেকে পানি পান করেন, ঝুটা হাড্ডি চিবিয়ে নেন, মিসওয়াক চিবিয়ে দেন। নবীজির মৃত্যুর সময়ের ঘটনা যখন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করছিলেন, চোখে পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না, ওনার কষ্টটা যেন খুব ফিল করছিলাম। খুব কম বয়সে উনি ওনার হাবিবকে হারিয়েছেন, উনি প্রতিটা মুহূর্ত কতটা মিস করতেন নবীজিকে?'

সাবেক এই অভিনেত্রী বলেন, নবীজির অন্তিম মুহূর্তের কথা ভেবে ওনার খুব কান্না আসত না? নবীজি কতটা ভালোবাসতেন আয়েশা (বা.)-কে - ভরা মজলিসে যখন জিজ্ঞেস করা হলো ওনার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে? উনি বললেন আয়েশা। এই হাদিসের দারসের দিন ম্যাম খুব হেসে বলছিলেন, আজকালকার জামাইরা তো মারাত্মক আয়েব আর কাপুরুষতা মনে করে এই কথা কাউকে বলতে যে আমি আমার বউকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি! অথচ এই শ্রেষ্ঠ মানব একটুও আয়েব মনে করেননি।'
সংগ্রহ করা হাদিসগুলো তুলে ধরেছেন অ্যানি খান- ওনাদের ভালোবাসা প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর জন্য শিক্ষণীয় ও আদর্শ।
১.
আমর ইব্‌নুল আস (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, আয়েশা! আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর পিতা (আবু বক্‌র)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, ‘ওমর ইব্‌নুল খাত্তাব, অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম করলেন।
(সহিহ বুখারি-৩৬৬২)
২.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন : নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি-২৯৭)
৩.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো। (সহিহ বুখারি- ২৫০)
৪.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইতিকাফ করতেন, তখন আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন। আমি তা আঁচড়ে দিতাম। (সহিহ মুসলিম-৫৭১)
৫.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম, তিনিও পাত্রের সেই স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন। (সহিহ মুসলিম-৫৭৯)
৬.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলা করত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
(সহিহ বুখারি- ৬১৩০)
৭.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (সুনানে আবু দাউদ- ২৫৭৮)
৮.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়েছিলেন আর আমি হাবশিদের খেলা দেখছিলাম। মসজিদের কাছে তারা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। (সহিহ বুখারি-৩৫৩০)
৯.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক করে তা ধোয়ার জন্য আমাকে দিতেন। আমি নিজে প্রথমে তা দিয়ে মিসওয়াক করতাম, অতঃপর সেটা ধুয়ে তাঁকে দিতাম। (সুনানে আবু দাউদ-৫২)
১০.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
মৃত্যু রোগকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে? এর দ্বারা তিনি আয়েশা (রা.)-এর ঘরের পালার ইচ্ছা পোষণ করতেন। সহধর্মিণীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যার ঘরে ইচ্ছা অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রুহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে তাঁর মাথা আমার গণ্ড ও সিনার মধ্যে ছিল এবং আমার থুথু (তাঁর থুথুর সঙ্গে) মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, 'এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রা.) আমার কাছে প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ করলাম যে তিনি আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নেব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দেব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালোভাবে মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবি উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন -আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা কঠিন। তারপর দুহাত ওপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হলো আর হাত শিথিল হয়ে গেল। (সহিহ বুখারি- ৪৪৪৯)

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২১

দোআ করলে আল্লাহ খুশী হন

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আল্লাহ তায়ালা মুমিন বান্দাহর সবচেয়ে আপনজন। তাঁর আপনজন কোনো কিছু প্রার্থনা করামাত্রই তিনি কবুল করে নেন। মুমিন বান্দাহ আল্লাহকে ডাক দেয়ার সাথে সাথে তিনি সাড়া দিয়ে থাকেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর আমার বান্দাহরা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে, আমি নিকটেই আছি। আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে’ (সূরা বাকারা : ১৮৬)। ‘আর তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও নীরবে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না’ (সূরা আরাফ : ৫৫)। আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন। আল্লাহর চেয়ে উত্তম দাতা ও সাহায্যকারী মুমিন বান্দাহর জন্য দ্বিতীয় আর কেউ নেই। তিনিই একমাত্র বান্দাহর সব অভাব অভিযোগ পূরণ করতে পারেন। যারা আল্লাহর কাছে চায় না তাদের প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট হন। হজরত আবদুল্লাহ রা: বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত চাও। কেননা আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন’ (তিরমিজি : ৩৫৭১)।

আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। তিনিই অসহায় মানুষের সহায়। বিপদ আপদ থেকে উদ্ধারকারী। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কে আছে অসহায় ও বিপন্নের ডাকে সাড়া দেয় যখন সে ডাকে এবং কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করে দেয়?’ (সূরা নামল : ৬২)। ‘তোমরা ভয় এবং আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী’(সূরা আরাফ : ৫৬)। হজরত আলী রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘দোয়া মুমিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান এবং জমিনের নূর’ (মু. হাদিস : ৪৬৫)।
যারা আল্লাহকে ডাকে কিংবা আল্লাহর কাছে কিছু চায়। আল্লাহ তাদের হাতকে কখনো খালি ফেরত দেন না। হজরত সালমান ফারসি রা: হতে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার অনেক লজ্জা ও আত্মমর্যাদা আছে। সুতরাং যখন মানুষ চাওয়ার জন্য তাঁর কাছে দুই হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি সেই হাত দু’টিকে ব্যর্থ ও খালি ফেরত দিতে লজ্জা বোধ করেন’ (মুসলিম : ৩২১)।
আল্লাহর কাছে চাওয়ার উত্তম পদ্ধতি হলো দোয়া করা। দোয়ার মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। হজরত আবু হোরায়রা রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া অপেক্ষা কোনো জিনিসই অধিক ফজিলত ও সম্মানের নেই’ (তিরমিজি : ৩৩৭)। দোয়া করার পূর্বে করণীয় হলোÑ পাক পবিত্র হওয়া, হালাল খাওয়া, নিয়ত ঠিক করা, আদবের সাথে বসা, হারাম জিনিস বর্জন করা। দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হলো : জুমার রাত, আরাফাতের দিন, ইফতারের পূর্বমুহূর্ত, বাইতুল্লাহ তাওয়াফের সময়, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের পর, শবে কদরের রাতে ইত্যাদি। যাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন : পিতা-মাতা, শিক্ষক, মুসাফির, বুজুর্গ, মজলুম ব্যক্তি ইত্যাদি।
মানুষের যা কিছু প্রয়োজন তা আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। তবে একে অপরের কাছে দোয়া চাইতে কোনো নিষেধ নেই। হজরত আবু হোরায়রা রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ আমি আমার বান্দাহর সাথে তেমন ব্যবহার করি, আমার প্রতি সে যেমন ধারণা রাখে আর সে যখন আমাকে ডাকে তখন আমি তার সাথেই থাকি’ (মুসলিম : ৬৮২৯)। সুতরাং যারা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করতে পারবে নিঃসন্দেহে তারা পরকালে সফলকাম হবে।

সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১

“আমি শহিদ হতে চাইনা, বেঁচে থেকে অনেক কাজ করতে চাই” আহমদ তুতুঞ্জির বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নঃ মিজানুর রহমান

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ শহীদী কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এবারের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে অতিথি ছিলেন ইফসু(IIFSO) সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ড. আহমদ তুতুনজি। তিনি এক জন উঁচু মানের সংগঠক। তিনি বিভিন্ন গবেষণা মূলক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। শিবিরের সম্মেলনে তিনি সম্মানিত অতিথি হিসাবে অনলাইনে অংশগ্রহণ করে বলেছেন "আমি শহীদ হতে চাইনা, আমি বেঁচে থেকে অনেক কাজ করতে চাই।"

তিনি আরো সুন্দর সুন্দর নসিহত করেছেন, যা শিবিরের সাবেক বর্তমান শীর্ষ নেতাদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। একজন প্রবীন নেতা ও দায়ীর জ্ঞান গর্ব বক্তব্যে পুলকিত হবার রেওয়াজ আমাদের সংগঠনে নতুন নয়। একজন অতিথি তার বক্তব্যে ওনার অবস্থান, রুচি অনুযায়ী বক্তব্য রাখতেই পারেন।
অতিথিদের সকল বক্তব্য গ্রহনযোগ্য হতে পারে, আবার না ও হতে পারে। গ্রহণযোগ্য হলে জনশক্তিকে আমলের ব্যপারে উৎসাহিত করা হয়। গ্রহনযোগ্য না হলে চুপ থেকে এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এখন জনাব তুতুনজির এই বক্তব্যটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য? সাবেক ও বর্তমান নেতা কর্মীদের প্রচারের ধরণ দেখে জনাব তুতুনজীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য বা অসাধারণ ভাবে মুল্যায়িত হয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। জনাব তুতুনজি এমন একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে এই বক্তব্য রাখেন, যে সংগঠন শহীদি কাফেলা হিসেবে পরিচিত। শহীদ আব্দুল মালেক ভাই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শত শত সম্ভাবনাময় তরুণরা এ আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আহত , পঙ্গু হয়েছেন হাজার হাজার নেতা- কর্মী। হামলা-মামলার স্বীকার হয়ে চাকরি-ব্যবসা হারিয়ে এখনো ফেরারী জীবন যাপণ করছেন লাখ লাখ মানুষ। শহিদী কাফেলার অভিভাবক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর আমির থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সকল নেতারা শহীদ হয়েছেন শুধু মিথ্যার কাছে আপোষহীন ভূমিকার কারণে। তাঁরা চাইলে পালিয়ে যেতে পারতেন। আপোষ করতে পারতেন। ক্ষমা চাইতে পারতেন। তা না করে শাহাদাতের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন।
এখন জনাব তুতুনজির কথা " আমি শহীদ হতে চাইনা" অনুযায়ী আমাদের নেতারা শহীদ হয়ে কি ভুল করেছেন? জনাব তুতুনজির বক্তব্যকে আমি গুরুত্ব না দিলে এই আলোচনা করতাম না। কারণ কতজন কত কথা বলবেন, সব কথা গুরুত্ব দিতে নেই বলে এড়িয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমাদের কিছু ভাইয়েরা জনাব তুতুনজিদের এই যুগের রাহবার মনে করছেন। কিন্তু একজন রাহবার জনশক্তিকে সঠিক গাইডলাইন দিবেন সেটিই কাম্য। তা হলে জনাব তুতুনজি শহিদী কাফেলার সম্মেলনে এসে শাহাদাতের মত চরম এবং পরম কাম্য মৃত্যুর ব্যাপারে প্রকাশ্যে বলে গেলেন যে তিনি শহিদী মৃত্যু চান না। কথা হলো, শহীদি মৃত্যু সবার ভাগ্যে জোটে ও না। চাইলেই সবাই শহীদি মৃত্যু পায় না। সে জন্য আল্লাহর বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া লাগে। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, আবার অনেকেই শাহাদাত চেয়েও পাননি। কে কোন মানের শহীদ আল্লাহই ভালো জানেন।
শাহাদাত এমন একটা বিষয় যার জন্য সরাসরি আল্লাহ তাআলাই উৎসাহিত করেছেন।
مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلً
ইমানদারগণের মাঝে একদল এমন আছেন, যারা আল্লাহর সাথে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে একদল যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে আল্লাহর কাছে চলে গিয়েছেন, অন্যদল শাহাদাতের অপেক্ষমাণ। তাঁরা তাঁদের সংকল্পে কোন পরিবর্তন আনেন নি।
সাহাবায়ে কিরাম, পরবর্তী মুজাহিদরা তাঁর উজ্জল দৃষ্টান্ত। অনেকে শহীদ হয়েছেন, আবার অনেকে সাধারণ মৃত্যু বরন করেছেন। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ শাহাদাতের জন্য কত কান্নাকাটি করলেন, যুদ্ধ করলেন, কিন্তু তিনি সাধারণ মৃত্যুই পেলেন।
আমাদের ইসলামী ঐতিহ্য হলো শহীদি‌ মৃত্যু কামনা করা । কুরআন- হাদিসের সব জায়গায় শহীদি মৃত্যুর ব্যাপারে উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়া হয়েছে।
إن الله اشتري من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة، يقاتلون في سبيل الله فيقتلون ويقتلون
আল্লাহ মুমিন্দের জান মাল জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহর পথে লড়াই করতে গিয়ে জালিমদেরকে হত্যা করে, নিজেরাও শহীদ হয়।
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ولا تقولوا لمن يقتل في سبيل الله امواتا بل احياء ولكن لا تشعرون
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয়, তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলদ্ধি করতে পারো না।
এই ভাবে অনেক আয়াত আছে শাহাদাতের জন্য উৎসাহিত করে। হাদিসেও একই ভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
والذي نفسي بيده وددت أني أقاتل في سبيل الله فأقتل ، ثم أحيا ثم أقتل ، ثم أحيا ثم أقتل ، ثم أحيا ثم أقتل ثم أحيا
রাসুল সাঃ নিজেই বলেছেন, সে আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আমি আশা করি, আমি আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই!
অন্য হাদিসে ও বলা‌ হয়েছে,
مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِهِ؛ مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ
যে মারা গেল, কোন লড়াই বা জিহাদ করলো না, নিজে জেহাদে অংশগ্রহণের ব্যপারে চিন্তাও করল না, সে যেন নিফাকের মৃত্যু গ্রহণ করলো।
এভাবে শত শত আয়াত – হাদিস আমাদের ভায়েরা কি কম জানেন ?
অনেকেই বলবেন, ওনি অধিক কৌশলী হয়ে কাজ করার কথা বলেছেন। জ্ঞান, হিকমাত অর্জনের কথা বলেছেন। শাহাদাতের বিরোধীতা করেননি। আমি ও তাই মনে করতে চাই। কারণ ওনার মত এতো বড় দায়ী শাহাদাতের মত পবিত্র, লোভনীয় মৃত্যুকে অবজ্ঞা করতে পারেন না।
কিন্তু আমি ওনাকে ইতোপূর্বে একবার ইস্তাম্বুলে ‌সাক্ষাত করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমাদের শীর্ষ নেতাদের একটি সফরে সঙ্গী হয়ে জনাব তুতুনজির সাথে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিল। সেই সময়ও তিনি আমাদের শীর্ষ নেতাদের একই নসিহত করেছিলেন। আমি আশ্চর্য হয়ে সে সময় ওনার নসিহত গুলোকে হজম করার চেষ্টা করেছিলাম। কারন তখনও তিনি , আমি শহীদ হতে চাইনা, অনেক কাজ করতে চাই" বলেছিলেন। সে দিন ও ওনার আলোচনা শুনে আমার মনে এই প্রশ্ন জেগেছিল যে, আমাদের বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা শহীদ হয়ে কি তাহলে ভুল করেছেন? বিদেশে পালিয়ে গিয়ে বেঁচে থাকলেই কি তাহলে ভালো করতেন?
আমার প্রশ্ন হলো,
فإذا جاء أجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون تفسير
আয়াতের অর্থানুযায়ী, কারো মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে তিনি‌ কোন ধরনের আগে পর হওয়া ছাড়া মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। এবং কার মৃত্যু কিভাবে হবে ব্যক্তি নির্ধারণ করতে পারে না। আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কারো জীবন- মৃত্যু হয়। তাহলে আমাদের আমীরে জামায়াত সহ শহীদ হওয়া নেতারা কি নিজের ইচ্ছায় পালিয়ে যেতে পারতেন? পালিয়ে গেলেই কি তারা বেঁচে থাকার গ্যারান্টি পেতেন ? তা হলে জনাব তুতুনজির এই বক্তব্যের কি অর্থ দাঁড়ায়? বেঁচে থেকে অনেক কাজ করার কথা বলেছেন জনাব তুতুনজি। আমাদের শহীদ আমীরে জামায়াতসহ শহীদ হওয়া শীর্ষ নেতারা কি তাহলে কম কাজ করেছেন? আমার কাছে জনাব তুতুনজির বক্তব্য রহস্যজনক মনে হয়। উনি হয়ত উম্মাহর প্রয়োজনে বেঁচে থেকে গবেষক তৈরি করতে চান।
আল্লাহর দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে গবেষক যেমন প্রয়োজন, আবার সেই কাজের চ্যালেন্জ গ্রহণ করতে গিয়ে প্রয়োজনে আল্লাহর রাহে শাহাদাতের সূধাও পান করতে হয়। যুগে যুগে ইসলামের ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। সেরা‌ গবেষক তো তারাই, যারা দ্বীনের প্রয়োজনে গবেষণার আরামদায়ক চেয়ার ছেড়ে ময়দানে গিয়ে শাহাদাতের সুধা ও পান করতে পারেন।
জনাব তুতুনজিরা আমার জানা মতে, ব্যাপক জ্ঞান গবেষণায় ব্যস্থ থাকেন।‌ বিশ্ব জোড়া খ্যাতি ওনাদের। কিন্তু ওনাকে আমি যতটুকু জানি, বিভিন্ন দেশে ইসলামী আন্দোলনের মুল দলগুলোর চাইতে ইসলামী আন্দোলনের দলছুট, সংস্কার পন্থীদের সাথেই ওনাদের ব্যাপক সখ্যতার প্রমান সেদিন ওনার নিজের বক্তব্য থেকে আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।
আরব দেশ গুলোতে ইখওয়ানুল মুসলেমিন, তুর্কি- ইউরোপ- মধ্য এশিয়ায় মিল্লী গুরুশ আন্দোলন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবার পর, তা হলে কি ওনি ইসলামী আন্দোলনের সর্বশেষ ভার্সন জামায়াত শিবিরের মাঝে শাহাদাতের চেতনা বিমুখ, বুদ্ধি নির্ভর, লিবারেল, হয়ে গড়ে ওঠার ম্যাসেজ দিতে চাইলেন? জনাব তুতুঞ্জির বক্তব্যে একমত হয়ে আমাদের নেতারাও ওনার বক্তব্যকে স্যোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করে সমর্থন জানালেন? আদর্শিক ভাবেওকি তাহলে আমরা আর শাহাদাতের চেতনা লালন করব না ? আমরা কি তাহলে শুধু মাত্র বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন হয়ে গেলাম? আমরা কি তাহলে আর শিবিরকে "শহীদি কাফেলা" বলবো না ? শহীদ পরিবারগুলোকে কি তাহলে আমরা ধীরে ধীরে ভুলে যেতে থাকব? তুতুনজিদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শিবির কি তাহলে লিবারেল, বুদ্ধিজীবী সংগঠন হয়ে যাবে?
04.01.2021

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২১

ভয়াবহ কিয়ামতের দিন যে সাত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন!

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন:

“সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর চায়া ছাড়া আর কোন ছায়াই অবশিষ্ট্য থাকবে না। তারনা হলোঃ

(১) ন্যায়পরায়ন শাসক

(২) যে যুবক আল্লাহর ইবাদাতের মধ্যে বড় হয়েছে

(৩) যে ব্যক্তি মসজি থেকে বেড়িয়ে গেলেও তার অন্তর এর সাথে সম্পৃক্ত থাকে

(৪) এমন দ’জন লোক যারা আল্লাহর জন্য পরস্পর ভলোবাসা স্থাপন করেছে; এই সম্পর্কেই একত্র থাকে এবং বিচ্ছিন্ন হয়।

(৫) এমন ব্যক্তি যাকে কোন অভিজাত পরিবারের সুন্দরী নারী (খারাপ কাজে) আহ্বান করেছে কিন্তু সে তাকে এই বলে প্রত্যাখান করেছে; “আমি আল্লাহকে বয় করি”

(৬) এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান-সদকা করেছে যে, তার ডান হাত যা দান করেছে তার বাম হাতও তা জানতে পারেনি যে, ডান হাত কি দান করেছে

(৭) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করেছে এবং তার দু’চোখ বয়ে পানি পড়েছে।”

{বুখারী: ৬৬০, মুসলিম:১০৩১}


বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০

"যে শহরে কেউ ক্ষুধার্ত থাকে না"

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ না,এটি কুয়েত, আমিরাত, সৌদি আরব ,কাতার , বাহরাইন বা ওমানের কোন শহর নয়,এটি ফিলিস্তিনের ছোট একটি শহর মদীনাতু খলীল বা খলীল শহর। এখানে একটি মসজিদ আছে তা মসজিদে ইব্রাহীম নামে পরিচিত। মসজিদ সংলগ্ন একটি রেষ্ট হাউস বা মুসাফিরখানা, এখানে গমগুঁড়া ও গোশত মিশিয়ে ওদেশের জাতীয় খাবার তৈরি করা হয়, প্রতিদিন দুপুরে ৫০০ থেকে ৩০০০ পরিবারের সদস্যরা পরিতৃপ্তির সাথে খাবার খেয়ে থাকেন। এই খানা তৈরি ও পরিবেশনের জন্য একটি দাতব্য সংস্থা যুগ যুগ ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, শহরের বিত্তবানদের সহায়তায় বছরের প্রতিদিন ই এই কর্মসূচি চালু আছে, উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে সুলতান সালাহউদ্দিন আইউবী পরবর্তী সময়ে সুলতান কালূন সালেহী ১২৭৯খৃ:সালে এই মুসাফির খানা আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন ,তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান ,এ সিলসিলা চালু আছে নবী ইব্রাহিম খলিলের যামানা থেকেই, কারণ তিনি মেহমান ছাড়া খাবার খেতে বসতেন না।
তাকিয়ায়ে ইবরাহিমী নামে পরিচিত এই খাবার খাওয়ার জন্য দূর থেকে ও মুসাফির সমবেত হয়ে থাকেন, তাদের থাকার জন্য অত্যাধুনিক রেষ্ট হাউস আছে , মসজিদে ইব্রাহিমীর সম্প্রসারন ও সংস্কারের জন্য মুসাফির খানা ও একটু দূরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এটি ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে খাবার পরিবেশন সহজিকরণ ও ভিড় এড়াতে আগ্রহী পরিবার গুলো কে পাঁচজন লোকের খাবার নেয়ার মত বড় পাত্র নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে বলা হয়ে থাকে।
ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম এর মেহমানদারি পাঁচ হাজার বছর ধরে বংশানুক্রমে চলে আসছে, সুতরাং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি পরিবার যদি মেহমানদারির এ ই সুন্নাহ চালু রাখতে সচেষ্ট হন, তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম হয়তো তা টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট হবেন।
খলীল শহরের দানশীল ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এখানে কেউ ক্ষুধার্ত থাকলে আমরা লজ্জিত হবার ভয়ে আপ্রান চেষ্টা করি, আল্লাহর রহমতে কখনো কোন অসুবিধা হয়নি।
(সংগৃহীত)

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

ব্যক্তিগত উপলব্ধি: ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতিক বৈচিত্র।

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আমরা এখন অন্য সংস্কৃতির টেলিভিশনের প্রোগ্রাম‌ দেখি, একই পণ্য ক্রয় করি, একই খাবার খাই, একই খেলাধুলা উপভোগ করি, গ্লোবাল সেলিব্রেটিদের নিয়ে মাতামাতি করি, সমর্থন বা সমালোচনা করি ।

আমাদের শাবানা আলমগীর রাজ্জাক ববিতা কবরি বুলবুল আহমেদ সুচন্দা রোজিনারা নেই! কোথায় গেল পুরনো দিনের গান, পল্লীগীতি, ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠান ছায়াবানী, ছায়া ছন্দ! সকালের নাস্তা হিসেবে রুটি পাউরুটি জেলি স্যান্ডউইচ নুডুলস।

ক্রিকেট ফুটবল আমাদের প্রাণের খেলা। কাবাডি হাডুডু বলি খেলা গোল্লাছুট ছোটাছুটি ষাড়ের লড়াই প্রায় ভুলেই গিয়েছি। এই প্রজন্ম এগুলোর নাম শুনেনি,এগুলোর কথা জিজ্ঞেস করলে চোখ বড় করে তাকায়! মাছে ভাতে বাঙালি আমরা। আগে তিন বেলা ভাত খেতাম আর এখন! মেনুতে যেদিন মাছ থাকবে সেদিন সোনামণিরা উপোস থাকবেন কিন্তু খাবেন না! মাছ, মুরগিতে যুক্ত হয়েছে দেশি-বিদেশি! বাবুরা কাঁঠাল চিনেন কিন্তু কাঁঠাল গাছ চেনেন না! স্কুল দেখে, স্কুলের মাঠ দেখেনা!

কাজিন(Cousin) বলে চাচাতো মামাতো খালাতো ফুফাতো ভাই-বোনদের সম্বোধন করতে গিয়ে আমাদের সম্পর্ক নির্ধারণ এখন নতুন কলোনাইজেশন! আমাদের প্রত্যেকটি সম্পর্কের আলাদা আলাদা অর্থ আছে, যা কিন্তু আন্টি, আঙ্কেল বা কাজিন দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। যিনি আমার ফুফু তিনি আমার খালা নন। আমার চাচি কিন্তু আমার মামী নন। আমাদের আব্বা পরে হলেন বাবা, আব্বু এখন কিন্তু ডেড! আমাদের সংস্কৃতি গিলে খাচ্ছে শকুন। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতিক বৈচিত্র।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র শুভেচ্ছা.

  বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তাই এ দিন সকল কালিমা আর কলুষতাক...