* দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা*

ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র * সকল প্রকার একাউন্ট খুলতে * * টাকা জমা করতে * টাকা উঠাতে * * বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এর টাকা বোনাসসহ উঠাতে * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে আসুন। * * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা* * প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ 01711-458151* 01700-925241*

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

যে ঋণ জান্নাতে নিয়ে যায়!

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বেশি বেশি সওয়াব অর্জন করতে চাইলে ইবাদতের কোনো বিকল্প নেই। ইবাদত বলতে আমাদের মাথায় সবার প্রথমে আসে সালাত পড়া, সিয়াম পালন করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। সন্দেই নেই, এসব খুবই মর্যাদাময় ইবাদত। তবে আরও কিছু কাজ আছে, যেগুলো করলে আল্লাহ তা’য়ালা নিজেই সে আমল বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তেমনই একটি কাজ হচ্ছে, "মানুষকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া"।

★আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন,
কাউকে দুই দিনার ঋণ দেওয়া আমার কাছে এই দুটি দিনার কাউকে সদকা হিসেবে দিয়ে দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রিয়। ” [১]
অনেকে হয়তো ভাবছেন, যদি সে আমাকে ঋণ ফেরত দিতে না পারে? মজার ব্যাপার, দুনিয়া যখন তার দুয়ার আমাদের জন্য বন্ধ করে দেয়, তখন আল্লাহ তা‘য়ালা আমাদের জন্য তার অসীম ভান্ডার উন্মুক্ত করেন। যাকে ঋণ দেয়া হয়েছে, সে যদি তা ফেরত দিতে দেরী করে তখন আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের জন্য সে ঋণের সওয়াব বহুগুণে ফিরিয়ে দেন।
★★রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি-ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“নির্দিষ্ট সময়ে পুরো ঋণ ফিরিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছে এমন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে যে দেনা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সময় দেয়, ওই ব্যক্তিকে এমন সওয়াব দেয়া হবে যেন সে প্রতিদিনই সমপরিমাণ টাকা সদকা করেছে। আর যে সময় চলে যাওয়ার পরেও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে আরও সময় দেয়, তাকে অতিক্রম হওয়া প্রতিদিনের জন্য এমন সওয়াব দেয়া হবে, যেন সে প্রতিদিন ধার দেয়া টাকার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা সদকা করেছে।” [ ২ ]
এ হাদিসে যে কী বিশাল সওয়াবের কথা বলা হয়েছে তা হয়তো অনেকেই ধরতে পারেননি।
▪️একটা উদাহারণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি:
▪️
ধরা যাক, আব্দুর খালিদ আব্দুর করিমকে ২, ০০০ টাকা ধার দিল জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে। তারা একমত হলো যে, জুলাই মাসের ১ তারিখে আব্দুর করিম সে টাকা ফেরত পাবে। তাহলে আব্দুর খালিদ এ ছয় মাসে কত টাকা সদকা করার সওয়াব পেল? এটা বের করতে রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়ার দরকার নেই।
৬ মাসে ১৮০ দিন। ওপরের হাদিস অনুযায়ী,আব্দুর খালিদ প্রতিদিনই ২,০০০ টাকা সদকা দেওয়ার সওয়াব পাচ্ছে।
তাহলে, ৬ মাসে সে পাচ্ছে ➤( ১৮০ × ২,০০০ ) তিন লক্ষ ষাট হাজার টাকা সদকা করার সওয়াব।
কিন্তু কোন কারনে আব্দুর করিম ৬ মাস পর সে টাকা ফেরত দিতে পারলো না। তাহলে এরপরের প্রতিদিনের জন্য খালিদ পাচ্ছে (দু’হাজার টাকার দ্বিগুণ) ৪, ০০০ টাকা সদকা করার সওয়াব।
যদি আরও ৬ মাস পর আব্দুর করিম টাকা ফেরত দেয় তাহলে আব্দুর খালিদ এ ৬ মাসে আরও (১৮০× ৪,০০০) সাত লক্ষ বিশ হাজার টাকা সদকা করার সওয়াব পেয়ে গেল।
আব্দুর খালিদ কিন্তু আব্দুর করিমকে দিয়েছিল মাত্র ২, ০০০ টাকা। দুনিয়ার হিসাব অনুযায়ী, তার ২, ০০০ টাকার পুরষ্কারই পাওয়া উচিত।
কিন্তু ইসলামে সে পাচ্ছে ( ৩, ৬০, ০০০ + ৭, ২০, ০০০) সর্বমোট দশ
লক্ষ আশি হাজার টাকা সদকা করার সওয়াব।
একজন মধ্যবিত্ত মানুষ হয়তো সারাজীবনেও এত টাকা সদকা করতে পারবে না। কিন্তু তার ভাইকে ঋণ দেয়ার মাধ্যমে সে সহজেই সমপরিমাণ টাকা সদকা করার সওয়াব পেতে পারে।
♥“আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তার জন্য বাড়িয়ে দেন।” [ ৩ ]
_________
📚রেফারেন্সঃ
[১] ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং : ২২৬৮২
[২] মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ২৩০৪৬
[৩] সূরা বাক্বারা, ২ : ২৬১

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১

হারা‌নো ‌সেই সুখ‌: আব্দুল হান্নান চৌধুরী

কত‌দিন নি‌তে পা‌রিনা বুক ভ‌রে একটু নিঃশ্বাস

ক‌বে হ‌বে পৃ‌থিবীটা আবার সু‌খের সেই আবাস।
সবুজ শ্যামল প্রকৃ‌তির সা‌থে হয়‌নি কত‌দিন দেখা
‌কোমল হা‌তে ছোঁয়া হয়‌নি সাগ‌রের ‌সেই তট‌রেখা।
কত‌দিন দে‌খিনা সে‌ই প্রিয় মানুষ‌দের মায়া ভরা মুখ
একসা‌থে হয়না কথা বলা, পাইনা ম‌নে ‌কো‌নো সুখ।
কত‌দিন বন্ধু‌দের নি‌য়ে জ‌মেনা সেই চা‌য়ের আড্ডাটা
সুখ দু‌খের কথা বি‌নিম‌য়ে শেষ হ‌তো মধুর বি‌কেলটা।
পরাধীনতার শৃংখল প্রসা‌রিত আজ প্র‌তি‌টি প্রান্ত‌রে
প্র‌তি প‌দে প‌দে অস্থ‌িরতা ‌আজ মো‌দের ঘি‌র‌ে‌ছে ধ‌রে।
মৃত্যুর মি‌ছি‌লে শা‌মিল হ‌য়ে‌ছে কত শত ব‌নি আদম
এর শেষ গি‌য়ে ঠেক‌বে কোথায় চল‌ছেতো তা হরদম।
সহসা হ‌বেনা বু‌ঝি ‌মো‌দের এই দশা থে‌কে কভু মুক্ত‌ি
আস‌বে ফি‌রে ক‌বে আবার হারা‌নো সে‌ই সুখ‌টি।
প্রথম প্রকাশঃ ৬ জুন ২০২০

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

আবদুর রহমান ইবন ’আউফ (রা)

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ইমাম বুখারীর মতে জাহিলী যুগে আবদুর রহমান ইবন ’আউফের নাম ছিল ’আবদু ’আমর। ইবন সা’দ তাঁর ‘তাবাকাতে’ উল্লেখ করেছেন, জাহিলী যুগে তাঁর নাম ছিল ’আবদু কা’বা। ইসলাম গ্রহণের পর রাসূল সা. তাঁর নাম রাখেন ‘আবদুর রহমান’। তাঁর মাতা-পিতা উভয়ে ছিলেন ‘যুহরা’ গোত্রের লোক। মাতার নাম শিফা বিনতু ’আউফ। দাদা ও নানা উভয়ের নাম ’আউফ।

ইবন সা’দ ওয়াকিদীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি ’আমূল ফীলের (হস্তীর বৎসর) দশ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। এ বর্ণনার ভিত্তিতে তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বয়সে দশ বছর ছোট। রাসূল সা. ’আমুল ফীলের ঘটনায় পঞ্চাশ দিন পর জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু ইবন হাজার তাঁকে রাসূলুল্লাহর সা. তের বছর ছোট বলে উল্লেখ করেছেন।
রাসূলুল্লাহর সা. নবুওয়াত প্রাপ্তির পর প্রথম পর্যায়ে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি তাঁদেরই একজন। মক্কার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় প্রতিদিনই হযরত আবু বকরের বাড়ীতে বৈঠকে মিলিত হতেন। আবদুর রহমানও ছিলেন এ বৈঠকের একজন নিয়মিত সদস্য। আবু বকরের সাথে ছিল তাঁর গভীর বন্ধুত্ব। আবু বকরের দাওয়াতেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আবু বকরের বাড়ীর এ বৈঠকের নিয়মিত পাঁচজন সদস্যের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায়। যেমনঃ উসমান, সা’দ, তালহা, যুবাইর এবং আবদুর রহমান। তাঁদের সকলেই আবু বকরের দাওয়াতে প্রথম পর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলামের জন্য অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেন।
নবুওয়াতের পঞ্চম বছর রজব মাসে যে এগারজন পুরুষ ও চারজন নারীর প্রথম কাফিলাটি মক্কা থেকে হাবশায় হিজরাত করে তার মধ্যে আবদুর রাহমানও ছিলেন। আবার রাসূলের সা. মদীনায় হিজরাতের পর তিনিও মদীনায় হিজরাত করেন। যাঁরা হাবশা ও মদীনা দু’স্থানেই হিজরাত করেছিলেন তাঁদেরকে বলা হয় ‘সাহিবুল হিজরাতাইন’। মদীনায় তিনি হযরত সা’দ ইবন রাবী’ বলে আল-খাযরাজীর গৃহে আশ্রয় নেন এবং তাঁর সাথেই রাসূল সা. ভ্রাতৃসম্পর্ক স্থাপন করে দেন। এ সম্পর্কে ইমাম বুখারী একাধিক সনদের মাধ্যমে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ সম্পর্কে হযরত আনাস রা. বলেনঃ ‘আবদুর রহমান ইবন ’আউফ হিজরাত করে মদীনায় এলে রাসূল সা. সা’দ ইবন রাবী’র সাথে তাঁর ভ্রাতৃসম্পর্ক কায়েম করে দেন। সা’দ ছিলেন মদীনার খাযরাজ গোত্রের নেতা ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি আবদুর রহমানকে বললেন, ‘আনসারদের সকলে জানে আমি একজন ধনী ব্যক্তি। আমি আমার সকল সম্পদ সমান দু’ভাগে ভাগ করে দিতে চাই। আমার দু’জন স্ত্রী আছেন। আমি চাই, আপনি তাদের দু’জনকে দেখে একজনকে পছন্দ করুন। আমি তাকে তালাক দেব। তারপর আপনি তাকে বিয়ে করে নেবেন।’ আবদুর রহমান বললেনঃ ‘আল্লাহ আপনার পরিজনের মধ্যে বরকত ও কল্যাণ দান করুন! ভাই, এসব কোন কিছুর প্রয়োজন আমার নেই। আমাকে শুধু বাজারের পথটি দেখিয়ে দিন।’
ইসলামী ভ্রাতৃত্বে হযরত সা’দের এ দৃঢ় আস্থা ও অতুলনীয় উদারতার দৃষ্টান্ত ইসলামী উম্মাহ তথা মানব জাতির ইতিহাসে বিরল। অন্যদিকে হযরত আবদুর রহমানের মহত্ব, আত্মনির্ভরতা ও নিজ পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্পও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।
মদীনায় অবস্থানের দ্বিতীয় দিন আবদুর রহমান তাঁর আনসারী ভাই সা’দকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘বেচাকেনা হয় এমন কোন বাজার কি এখানে আছে?’’ বললেনঃ ‘‘হাঁ, ইয়াসরিবে (মদীনায়) কায়নুকার বাজার তো আছে।’’ হযরত আব্দুর রহমান এক স্থান থেকে কিছু ঘি ও পনির খরিদ করে বাজারে যান। দ্বিতীয় দিনও তিনি এমনটি করলেন। এভাবে তিনি বেচাকেনা জারি রাখেন। কিছু পয়সা হাতে জমা হলে তিনি এক আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর তিনি একদিন রাসূলুল্লাহর সা. খিদমতে হাজির হলেন। তাঁর কাপড়ে হলুদের দাগ দেখে রাসূল সা. জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি বিয়ে করেছ?’ বললেন, ‘হাঁ’। জিজ্ঞেস করলেন কাকে?’ তিনি বললেন, ‘এক আনসারী মহিলাকে।’ রাসূল সা. জিজ্ঞেস করলেন, ‘মোহর কত নির্ধারণ করেছ?’ তিনি বললেন, ‘কিছু সোনা।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমা করে নাও।’
তিনি ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকলেন। কিছুদিন পর তার হাতে আরও কিছু অর্থ জমা হলে রাসূলুল্লাহর সা. নির্দেশমত ওয়ালিমার কাজটি সেরে নেন। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হয়। মক্কার উমাইয়া ইবন খালফের সাথে একটি ব্যবসায়িক চুক্তিও সম্পাদন করেন।
হযরত আবদুর রহমান ইবন ’আউফ বদর, উহুদ ও খন্দক সহ সকল যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। ইমাম বুখারী ‘কিতাবুল মাগাজী’তে বদর যুদ্ধের একটি ঘটনা তাঁরই যবানে এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ ‘‘বদর যুদ্ধে, আমি সারিতে দাঁড়িয়ে। তুমুল লড়াই চলছে। আমি ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে আমার দু’পাশে দুই নওজোয়ানকে দেখলাম। তাদের ওপর আমার খুব একটা আস্থা হলো না। তাদের একজন ফিসফিস করে আমাকে জিজ্ঞেস করলোঃ ‘‘চাচা, বলুন তো আবু জাহল কোন দিকে?’’ বললাম, ‘‘ভাতিজা, তাকে দিয়ে কি করবে?’’ সে বলল, ‘‘আমি আল্লাহর সাথে অংগীকার করেছি, হয় আমি তাকে কতল করবো, না হয় এ উদ্দেশ্যে আমার নিজের জীবন কুরবান করবো।’’ একই কথা ফিসফিস করে আমাকে বলল অন্যজনও। আবদুর রহমান বলেন, ‘‘তাদের কথা শোনার পর আমার আনন্দ হলো এই ভেবে যে, কত মহান দু’ব্যক্তির মাঝাখানেই না আমি দাঁড়িয়ে। আমি ইশারা করে আবু জাহলকে দেখিয়ে দিলাম। অকস্মাৎ তারা দু’জন একসাথে বাজপাখীর মত আবু জাহলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মুহূর্তের মধ্যেই তাকে কতল করে। এ দু’নওজোয়ান ছিল ’আফরার দু’পুত্র মুয়ায ও মু’য়াওবিয।’ বদর যুদ্ধে আবদুর রহমান পায়ে আঘাত পান।
উহুদের যুদ্ধেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধেও তিনি অসম সাহসিকতা প্রদর্শন করেন। রাসূল সা. উহুদ পর্বতের এক কোণে আশ্রয় নিয়েছেন, উবাই ইবন খালফ এগিয়ে এলো আল্লাহর রাসূলকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে। আবদুর রহমান তাকে জাহান্নামে পাঠাবার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হলে রাসূল সা. তাঁকে বাধা দেন। অতঃপর রাসূল সা. নিজেই হারিস ইবন সাম্মার নিকট থেকে বর্শা নিয়ে উবাই ইবন খালফের গর্দানে ছুড়ে মারেন। সামান্য আহত হয়ে সে চেঁচাতে চেঁচাতে পালিয়ে যায় এবং মক্কার পথে ‘সারফ’ নামক স্থানে নরক যাত্রা করে।
সুত্রঃ আসহাবে রাসুলেে জীবন কথা

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১

পানির সাথে যুদ্ধ —মল্লিক মাহমুদ

 শীত মানেতো পানির সাথে

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা,
মনটা করে দুরুদুরু
বাড়ুক যতই বেলা।
পুকুর ঘাটে পা বাড়াতে
খুব বেশি ভয় করে,
হিম কুয়াশার সাথে যেন
বরফ গলে পড়ে।
গোসল করা মানেই সেতো
পৃথিবী জয় করা,
সাহসীদের স্বপ্ন চূড়া
দৃপ্ত হাতে ধরা।
কী আর করি ভাই,
একটুখানি উষ্ণ ছোঁয়া
কোথাও নাহি পাই!
.
১৬।০১।২০

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

এক সাহাবী এক মহিলার গোসল করার দৃশ্য দেখার ঘটনা

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবা, নাম সা’লাবা। মাত্র ষোল বছর বয়স। রাসূল (সা) এর জন্য বার্তাবাহক হিসেবে এখানে সেখানে ছুটোছুটি করে বেড়াতেন তিনি।

একদিন উনি মদীনার পথ ধরে চলছেন, এমন সময় একটা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর চোখ পড়ল দরজা খুলে থাকা এক ঘরের মধ্যে। ভিতরে গোসলখানায় একজন মহিলা গোসলরত ছিলেন, এবং বাতাসে সেখানের পর্দা উড়ছিল, তাই সা’লাবার চোখ ঐ মহিলার উপর যেয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে উনি দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন।
কিন্তু সা’লাবার মন এক গভীর অপরাধবোধে ভরে গেল। প্রচন্ড দুঃখ তাকে আচ্ছাদন করল। তার নিজেকে মুনাফিক্বের মত লাগছিল। তিনি ভাবলেন, ‘কিভাবে আমি রাসূল (সা) এর সাহাবা হয়ে এতোটা অপ্রীতিকর কাজ করতে পারি?!
মানুষের গোপনীয়তাকে নষ্ট করতে পারি? যেই আমি কিনা রাসূল (সা) এর বার্তা বাহক হিসেবে কাজ করি, কেমন করে এই ভীষণ আপত্তিজনক আচরণ তার পক্ষে সম্ভব?’ তাঁর মন আল্লাহর ভয়ে কাতর হয়ে গেল।
তিনি ভাবলেন, ‘না জানি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমার এমন আচরণের কথা রাসূল সা এর কাছে প্রকাশ করে দেয়!’ ভয়ে, রাসূল (সা) এর মুখোমুখি হওয়ার লজ্জায়, তিনি তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান থেকে পালিয়ে গেলেন।
এভাবে অনেকদিন চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়ালাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য সাহাবাদের কে সালাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই থাকতেন। কিন্তু সবাই জানাল কেউ-ই ছা’লাবা কে দেখেনি। এদিকে রাসূল সা এর দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছিল।
তিনি উমর (রা), সালমান আল ফারিসি সহ আরো কিছু সাহাবাদের পাঠালেন সা’লাবার খোঁজ আনার জন্য। মদীনা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সা’লাবার দেখা মিলল না। পরে মদীনার একেবারে সীমানাবর্তী একটা স্থানে, মক্কা ও মদীনার মধ্যখানে অবস্থিত পর্বতময় একটা জায়গায় পৌঁছে কিছু বেদুঈনের সাথে দেখা হল তাদের।
দেখানে এসে তারা সা’লাবার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলেন। ‘তোমরা কি লম্বা, তরুণ, কম বয়সী একটা ছেলেকে এদিকে আসতে দেখেছ?’ বেদুঈনগুলো মেষ চড়াচ্ছিল।
তারা জবাব দিল, সে খবর তারা জানেনা, তবে তারা জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা কি ক্রন্দনরত বালকের সন্ধানে এসেছ?’ একথা শুনে সাহাবীরা আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তার বর্ণনা জানতে চাইলেন।
উত্তরে ওরা বলল, ‘আমরা প্রতিদিন দেখি মাগরিবের সময় এখানে একটা ছেলে আসে, সে দেখতে এতো লম্বা, কিন্তু খুব দুর্বল, সে শুধুই কাঁদতে থাকে। আমরা তাকে খাওয়ার জন্য এক বাটি দুধ দেই, সে দুধের বাটিতে চুমুক দেয়ার সময় তার চোখের পানি টপটপ করে পড়ে মিশে যায় দুধের সাথে, কিন্তু সেদিকে তার হুঁশ থাকেনা!’ তারা জানালো চল্লিশ দিন যাবৎ ছেলেটা এখানে আছে।
একটা পর্বতের গুহার মধ্যে সে থাকে, দিনে একবারই সে নেমে আসে, কাঁদতে কাঁদতে; আবার কাঁদতে কাঁদতে, আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে উপরে চলে যায়।
সাহাবারা বর্ণনা শুনেই বুঝলেন, এ ছা’লাবা ছাড়া অন্য কেউ না। তবে তাঁরা উপরে যেয়ে সা’লাবাকে ভড়কে দিতে চাচ্ছিলেন না, এজন্য নিচেই অপেক্ষা করতে লাগলেন। যথাসময়ে প্রতিদিনের মত আজও সা’লাবা ক্রন্দনরত অবস্থায় নেমে আসলেন, তাঁর আর কোনদিকে খেয়াল নাই।
কী দুর্বল শরীর হয়ে গেছে তাঁর! বেদুঈনদের কথামত তাঁরা দেখতে পেলেন, সা’লাবা দুধের বাটি হাতে নিয়ে কাঁদছে, আর তাঁর অশ্রু মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেহারায় গভীর বিষাদের চিহ্ন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। সাহাবারা তাকে বললেন, ‘আমাদের সাথে ফিরে চল’; অথচ ছা’লাবা যেতে রাজি হচ্ছিলেন না।
তিনি বারবার সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, ‘আল্লাহ কি আমার মুনাফেক্বী বিষয়ক কোন সূরা নাযিল করেছে?’ সাহাবারা উত্তরে বললেন, ‘না আমাদের জানামতে এমন কোন আয়াত নাযিল হয় নাই।’
উমর (রা) বললেন, রাসূল (সা) আমাদেরকে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। তুমি যদি এখন যেতে রাজি না হও, তাহলে তোমাকে আমরা জোর করে ধরে নিয়ে যাব। রাসূল (সা) এর কথা অমান্য করবেন এমন কোন সাহাবা ছিল নাহ। কিন্তু সা’লাবা এতোটাই লজ্জিত ছিলেন যে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন নাহ। এরপর সাহাবারা তাকে রাসূল (সা) এর কাছে মদীনায় নিয়ে আসেন।
মহানবী (সা) এর কাছে এসে ছা’লাবা আবারও একই প্রশ্ন করে, ‘আল্লাহ কি আমাকে মুনাফিক্বদের মধ্যে অন্তর্গত করেছেন অথবা এমন কোন আয়াত নাযিল করেছেন যেখানে বলা আছে আমি মুনাফিক্ব?’ রাসূল (সা) তাকে নিশ্চিত করলেন যে এমন কিছুই নাযিল হয়নি।
তিনি ছা’লাবার দুর্বল পরিশ্রান্ত মাথাটা নিজের কোলের উপর রাখলেন। সা’লাবা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, এমন গুনাহগার ব্যক্তির মাথা আপনার কোল থেকে সরিয়ে দিন।’ উনার কাছে মনে হচ্ছিল যেন সে এসব স্নেহের যোগ্য নয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিতেই থাকলেন। আল্লাহর রহমত আর দয়ার উপর ভরসা করতে বললেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন। এমন সময় ছা’লাবা বললেন,
‘হে আল্লাহর রাসূল আমার এমন মনে হচ্ছে যেন আমার হাড় আর মাংসের মাঝখানে পিঁপড়া হেঁটে বেড়াচ্ছে।’
রাসূল (সা) বললেন, ‘ওটা হল মৃত্যুর ফেরেশতা। তোমার সময় এসেছে ছা’লাবা! শাহাদাহ পড়’।
ছা’লাবা কালিমা শাহাদাহ বলতে থাকলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’
উনি শাহাদাহ বলতে থাকলেন… বলতেই থাকলেন… এমনভাবে তাঁর রুহ শরীর থেকে বের হয়ে গেল।
মহানবী (সা) ছা’লাবাকে গোসল করিয়ে জানাজার পর কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আরো অনেক সাহাবা সা’লাবাকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মহানবী (সা) পা টিপে টিপে অনেক সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
উমর রাদিয়ালাহু আনহু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এভাবে কেন হাঁটছেন যেন ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলেছেন.. কতো রাস্তা ফাঁকা পরে আছে, আপনি আরাম করে কেন চলছেন না ইয়া রাসুল?’
উত্তরে রাসূল (সা) বললেন, ‘হে উমর, আমাকে অনেক সাবধানে চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা ফেরেশতাদের দ্বারা ভরে গেছে ।ছা’লাবার জন্য এতো ফেরেশতা এসেছে যে আমি ঠিকমত হাঁটার জায়গা পাচ্ছি না’।
সুবহান আল্লাহ !
এই সেই সা’লাবা যে ভুলক্রমে একটা ভুল করার জন্য এতো প্রায়শ্চিত্য করেছেন। গুনাহ-র কাজ করা তো দূরের কথা, গুনাহ না করেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে চেয়ে ব্যাকুল হয়েছেন।
কত উঁচু ছিলেন তিনি আল্লাহর চোখে যে তাকে নেয়ার জন্য ফেরেশতাদের আগমনে রাস্তা ভরে গিয়েছিল! এই সব ফেরেশতারা নেমে এসেছে শুধু সা’লাবার জন্য, তাঁর জন্য দুআ করার জন্য, তাকে নিয়ে যাবার জন্য।
আর আমরা সারাদিন কত জঘন্য কিছু দেখে থাকি।অথচ এমন ভাব করব থাকি যেন এ সব কিছুই আল্লাহ হালাল করে দিয়েছেন।
একটা হাদীস আছে, ‘মু’মিন বান্দার কাছে তার গুনাহগুলো এমন যেন এখনই পাহাড় ভেঙ্গে তার মাথার উপর পড়বে; আর একজন দুর্বৃত্তকারীর কাছে গুনাহ এরকম যে মাছি এসে তার নাকের উপর উড়াউড়ি করছে, আর সে হাত নাড়িয়ে সেটা সরিয়ে দিল’।
[বুখারি, বইঃ৭৫, হাদীস নং ৩২০]

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

তরুণ প্রজন্ম কোন পথে?

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  আনুশকা নূর আমিনের ঘটনাটা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটা মডেল কেইস। ভারতীয় আর পশ্চিমা সংস্কৃতিতে আসক্ত কিশোর-কিশোরীদের অনেকের জন্যই এখন বিএফ, জিএফ, রিলেশন, ব্রেক আপ এমনকি রুমডেটও অনেকটা দুধভাত এর মতই। খুব সহজেই এরা মিশছে একে অপরের সাথে। মোবাইল আর ইন্টারনেট এদের পারস্পরিক যোগাযোগকে করে তুলেছে একদম সহজ৷


আবার এদের অনেকেই প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে এদের শিক্ষার মাধ্যম হল পর্ণগ্রাফি। যার ফলশ্রুতিতে এরা আসক্ত হচ্ছে বিকৃত যৌনাচারের। আনুশকার মৃত্যুর কারণ হিসাবেও ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে বিকৃত যৌনাচারের কথা। যৌন এবং পায়ুপথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে আনুশকা।
আসামী ইফতেখার ফারদিন জিহানও ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দিয়েছে আদালতের নিজের জবানবন্দীতে। অপ্রাপ্তবয়স্ক যে কারো সাথে সম্মতি ছাড়া, প্রতারণা করে কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কই আইনের ভাষায় ধর্ষণ হিসেবে গণ্য। যদিও এতে সে দাবী করেছে আনুশকার সম্মতি ছিল। তবে পরিস্থিতি এবং বাস্তবতা বিচার করলে দিহানের দাবী ধোপে টিকার সম্ভাবনা কম। আনুশকাকে কোন চেতনানাশক খাওয়ানো হয়েছিল এরকম সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

এদিকে লাশের সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই যদি এই মৃত্যু দুজনের সম্মতিতে বিকৃত যৌনাচারের ফলশ্রুতিতে হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে এর চাইতে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না৷ বলতে হবে, এই প্রজন্মকে আমরা সত্যিই চিনি না। এবং এই প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের সত্যিকার ভাল বাবা মা হতে হলে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

আনুশকা আর দিহানের মধ্যে সম্ভবত এফেয়ার ছিল। মিডিয়াতে ওদের পোশাক পরিহিত ঘনিষ্ঠ ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। আনুশকা(১৭) ও লেভেলের আর দিহান(১৯) এ লেভেলের স্টুডেন্ট, সম্ভবত বছর দুই বড় হবে। তবে আইনের দৃষ্টিতে দুজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

আনুশকার বাবা-মা দুজনেই পেশাজীবি৷ বাবা-মা দুজনেই পেশাজীবি হলেই যে সন্তান বখে যাবে ব্যাপারটা এমনটাও নয়। কারণ গৃহিনী মায়ের সন্তানরাও বখে যেতে পারে এবং কর্মজীবী মায়েদের সন্তানরাও সুসন্তান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এরকম উদাহরণও আমাদের সমাজে প্রচুর। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হল, পারিবারিক শিক্ষা আর সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব।
দিহানের সাথে ২-৩ মাসের সম্পর্কের ব্যাপারটা আনুশকার পরিবার জানত না। আবার আনুশকা মাকে ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নোট সংগ্রহের কথা বলে বাসা হতে বের হয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাসায় বসেই অনেকভাবে নোট সংগ্রহ করা যায়। যদিও আনুশকার পরিবার হতে কেউ কেউ দাবী করেছে, আনুশকা কোচিং এ গিয়েছে এবং কোন মেয়ে ওকে বিভ্রান্ত করে দিহানের বাসায় নিয়ে গেছে। যদি স্বেচ্ছায় দিহানকে বিশ্বাস করে খালি বাসায় গিয়ে থাকে তবে এর ঝুঁকি সম্পর্কে সম্ভবত আনুশকাকে ঠিকভাবে বুঝানো হয়নি। খালি ফ্ল্যাট, খালি বাসা, বন্ধুর ফ্ল্যাট এসব কিছুই কিশোরী আর তরুণীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কোন মূল্যেই, কাউকেই এসব পরিস্থিতিতে বিশ্বাস করার প্রশ্নই আসে না। এসব ভুলের মূল্য অনেককেই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েই দিতে হয়।

দিহানের বাসা খালি ছিল। পরিবার অনুপস্থিত ছিল এবং নিঃসন্দেহে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই দিহান আনুশকাকে সেখানে সত্য কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ডেকে নিয়ে গেছে। এরপর সম্মতি নিয়ে, ফাঁদে ফেলে কিংবা জোরজবরদস্তি করে উদ্দেশ্য পূরণ করেছে। এখন পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা মিডিয়াতে আসেনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে সম্ভবত ভয় পেয়ে বন্ধুদের ডেকেছে এবং হাসপাতালে নিয়ে গেছে। ওরা হয়ত ভাবেনি, আনুশকা মারা যেতে পারে।

খুব কঠিন একটা সময় আসছে। তরুণ প্রজন্ম এমন সব অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে যেসবে ধর্ম আর নৈতিকতার বালাই নেই। বরং তাদের আচার-আচরণে ভারতীয় আর পশ্চিমা, আধুনিক এবং খোলামেলা সংস্কৃতিই প্রাধান্য পাচ্ছে। সবার হাতে হাতে মোবাইল আর অধিকাংশ বাবা-মা জানেও না, তাদের সন্তানরা কই যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে কি করছে কিংবা কি কি অপরাধে জড়াচ্ছে।

আনুশকা আমার মেয়ের বয়সী। আমি খুবই শংকিত। আমি অনেক কিশোর-কিশোরীদেরই দেখি এবং জানি যাদের বাবা মায়ের সাথে তাদের বন্ধুত্ব নেই বরং দূরত্ব আছে। তারা তাদের জীবনযাপনের কিছুই বাবা-মায়ের সাথে শেয়ার করে না। অথচ সন্তানের জন্য একমাত্র বাবা-মাই হচ্ছে প্রকৃত আর অকৃত্রিম শুভাকাঙ্ক্ষী।

ধর্ম, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা আর সন্তানের সাথে বন্ধুত্বই পারে এধরণের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে। কিন্তু বাস্তবতা হল অতি আধুনিকতার সাথে প্রতিনিয়ত পাল্লা দেয়া আমাদের সমাজ আর পরিবেশ তার বিপরীত দিকেই দ্রুত ধাবিত হচ্ছে।

লিখেছেন Atique Ua Khan

ফেলানি: রেদওয়ানুল হক

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্ক:
ভুলে তুমি গেলা নি?

এই দিনে কাঁটাতারে
ঝুলেছিলো ফেলানি!

ফেলানির রক্তে
আজো এই অক্তে
কেঁদে-কেটে যায় ভেসে
হাহাকার ভেলা নি?

দুনিয়াটা নিষ্ঠুর
আমাদের বেলা নি?

যে-মেয়েটির প্রথম মাসিক হয়েছিল লড়াইয়ের পথে

আনসারিদের কয়েকজন নারী খাইবার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা মূলত চোটগ্রস্ত বা অসুস্থদের সেবা করার জন্য সাথে গিয়েছিলেন। তাঁদের সাথে ছিল এক ৭ কি ৮ বছরের বালিকা। তার কোনো সওয়ারি ছিল না। নবিজি বললেন তাঁর সঙ্গে আসতে। সে তখন নবিজির সওয়ারির পেছনে ঝোলানো বাক্সপেটরার ওপর বসল।

এই বালিকার নাম আমরা জানি না। শুধু জানি সে এই যাত্রার ঘটনা বলেছে নিজে। সে বলেছে, ‘উট থামল। নবিজি আমাকে নামতে বললেন। আমি দেখলাম রক্ত! আমার প্রথম মাসিক। খুব ভয় হলো। মালপত্তরের ওপরই কাঠ হয়ে বসে রইলাম।’
সে আসলে বুঝতে পারছিল না কী করবে। বিব্রত। লজ্জিত। এমন জায়গাতেই এমন কিছু হতে হলো? তা-ও আবার কার সামনে!
নবি সা. আবার বললেন, ‘নেমে পড়ো।’
কিন্তু সে নড়ে না। রক্তের দাগ চোখে পড়ল নবিজির। তিনি বললেন, ‘তোমার কি মাসিক হচ্ছে?’
সে ওপরে নিচে মাথা নাড়ল।
‘আচ্ছা। সমস্যা নেই। পরিষ্কার হয়ে নাও। আর রক্তটা পানি আর লবণ দিয়ে ধুয়েমুছে আগের জায়গায় বসে যাও।’
সুবহান আল্লাহ। কী চমৎকারভাবে নবি সা. মেয়েটির বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দিলেন। রাগ করলেন না। বিরক্ত হলেন না। কিচ্ছু না।
মেয়েটি পরে জানিয়েছে, নবি সা. তাঁকে একটা হার উপহার দিয়েছিলেন। হারটা দেখিয়ে সে বলেছিল, ‘যতদিন বেঁচে আছি সব সময় এটা সাথে রাখব। মরলেও এটা আমার কবরে নিয়ে যাবো।’
মাত্র ৮ বছরের মেয়ে যখন সে খাইবারের দিকে রওনা হয়েছিল। নবিজির পিছে বসে গেল। কোনো সমস্যাই হইনি। আর অমন বিব্রত এক অবস্থা কী সুন্দর করেই না সামাল দিলেন নবিজি।
[নবীজীবন, ড. ইয়াসির কাদি]
অনুবাদঃ মাসুদ শরীফ

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

গ্রাম ডাক্তার মোঃ সারোয়ারের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ গ্রাম ডাক্তার মোঃ সারোয়ারের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি।

বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির ঢাকা জেলার ডেমরা থানা শাখার সদস্য গ্রাম ডাক্তার মোঃ সারোয়ার আজ ই‌ন্তেকাল করেছেন(ইন্না‌লিল্লা‌হি ওয়া ইন্নাইলাইহি রা‌জিউন)।
তাঁর এই মৃত‌্যু‌তে বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গ্রাম ডাক্তার আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক গ্রাম ডাক্তার আবু ইউসুফ খান বাদল গভীর শোক প্রকাশ করে এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন ও তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনা করছেন।

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

স্ত্রীকে ভালোবাসা বিষয়ক ১০ হাদিস সংগ্রহ করলেন অ্যানি খান

 

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ উম্মে হাবিবা অ্যানি। অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশ করেছেন। কার্যত লকডাউনের সময় ফেসবুক লাইভে এসে পর্দা থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানান। এরপর বিয়ের খবরও জানান। তার কথা অনুযায়ী ঘর-সংসার ও ধর্ম নিয়েই সময় কাটছে অ্যানির। মাঝে-মধ্যে ফেসবুকে নিজের ধর্ম সম্পর্কে যেসব কাজ করেন, সেসব কাজের আপডেট দেন। তারই অংশ হিসেবে এবার জানালেন- নিজের পছন্দের ১০টি হাদিস সংগ্রহ করেছেন।

অ্যানি ফেসবুকে লিখেছেন, 'আমার খুব খুব খুব পছন্দের ১০টা হাদিস কালেক্ট করলাম। যখনই পড়ি হাদিসগুলো, আমি যেন কল্পনায় সেই দুজনকে দেখতে পাই। তাঁদের দুজনের ভালোবাসা অতুলনীয়- কতটা ভালোবাসা নিয়ে একই জায়গা থেকে পানি পান করেন, ঝুটা হাড্ডি চিবিয়ে নেন, মিসওয়াক চিবিয়ে দেন। নবীজির মৃত্যুর সময়ের ঘটনা যখন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করছিলেন, চোখে পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না, ওনার কষ্টটা যেন খুব ফিল করছিলাম। খুব কম বয়সে উনি ওনার হাবিবকে হারিয়েছেন, উনি প্রতিটা মুহূর্ত কতটা মিস করতেন নবীজিকে?'

সাবেক এই অভিনেত্রী বলেন, নবীজির অন্তিম মুহূর্তের কথা ভেবে ওনার খুব কান্না আসত না? নবীজি কতটা ভালোবাসতেন আয়েশা (বা.)-কে - ভরা মজলিসে যখন জিজ্ঞেস করা হলো ওনার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে? উনি বললেন আয়েশা। এই হাদিসের দারসের দিন ম্যাম খুব হেসে বলছিলেন, আজকালকার জামাইরা তো মারাত্মক আয়েব আর কাপুরুষতা মনে করে এই কথা কাউকে বলতে যে আমি আমার বউকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি! অথচ এই শ্রেষ্ঠ মানব একটুও আয়েব মনে করেননি।'
সংগ্রহ করা হাদিসগুলো তুলে ধরেছেন অ্যানি খান- ওনাদের ভালোবাসা প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর জন্য শিক্ষণীয় ও আদর্শ।
১.
আমর ইব্‌নুল আস (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, আয়েশা! আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর পিতা (আবু বক্‌র)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, ‘ওমর ইব্‌নুল খাত্তাব, অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম করলেন।
(সহিহ বুখারি-৩৬৬২)
২.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন : নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি-২৯৭)
৩.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো। (সহিহ বুখারি- ২৫০)
৪.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইতিকাফ করতেন, তখন আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন। আমি তা আঁচড়ে দিতাম। (সহিহ মুসলিম-৫৭১)
৫.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম, তিনিও পাত্রের সেই স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন। (সহিহ মুসলিম-৫৭৯)
৬.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলা করত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
(সহিহ বুখারি- ৬১৩০)
৭.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (সুনানে আবু দাউদ- ২৫৭৮)
৮.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়েছিলেন আর আমি হাবশিদের খেলা দেখছিলাম। মসজিদের কাছে তারা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। (সহিহ বুখারি-৩৫৩০)
৯.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক করে তা ধোয়ার জন্য আমাকে দিতেন। আমি নিজে প্রথমে তা দিয়ে মিসওয়াক করতাম, অতঃপর সেটা ধুয়ে তাঁকে দিতাম। (সুনানে আবু দাউদ-৫২)
১০.
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
মৃত্যু রোগকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে? এর দ্বারা তিনি আয়েশা (রা.)-এর ঘরের পালার ইচ্ছা পোষণ করতেন। সহধর্মিণীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যার ঘরে ইচ্ছা অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রুহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে তাঁর মাথা আমার গণ্ড ও সিনার মধ্যে ছিল এবং আমার থুথু (তাঁর থুথুর সঙ্গে) মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, 'এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রা.) আমার কাছে প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ করলাম যে তিনি আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নেব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দেব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালোভাবে মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবি উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন -আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা কঠিন। তারপর দুহাত ওপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হলো আর হাত শিথিল হয়ে গেল। (সহিহ বুখারি- ৪৪৪৯)

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র শুভেচ্ছা.

  বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তাই এ দিন সকল কালিমা আর কলুষতাক...