* দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা*

ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র * সকল প্রকার একাউন্ট খুলতে * * টাকা জমা করতে * টাকা উঠাতে * * বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এর টাকা বোনাসসহ উঠাতে * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে আসুন। * * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা* * প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ 01711-458151* 01700-925241*

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

আজ ২৫ শে মার্চ : আধ্যাত্মিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, শাহ্ সূফী হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার সাহেব (রাহ.) এর ২২ তম ওফাত বার্ষিকী।

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ২৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২০
★ জন্ম :- এ মহান সূফী সাধক ও সমাজ সেবক ১৯৩৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী আপার বার্মার থাংগু জেলার পিনজুলুক রেল স্টেশনের ৩ মাইল পূর্বদিকে কালা বস্তি বাঙ্গালি কলোনিতে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় তার বাবা ব্যবসায় উপলক্ষে সেখানে সপরিবারে অবস্থান করতেন। কথিত আছে যে, পীর সাহেবের পূর্বপুরুষগণ আরব দেশ থেকে প্রথমে বার্মা এবং পরে এদেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমন করেন। সেখানে যারা ধর্ম কর্ম প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করতেন তাদেরকে "মিয়াজী" বলা হত। এই মিয়াজি পরিবার লোহাগাড়া উপজেলার বড় হাতিয়া স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুললে সেখানে মিয়াজী পাড়ার গোড়াপত্তন ঘটে। পীর সাহেবের বাবা মাওলানা মোহাম্মদ ওয়াসি উদ্দিন মিয়াজী ছিলেন উদার ও পরহেজগার ব্যক্তিত্ব। তার দাদা ও পরদাদাও সুফী সাধক বড় আলিম ও শরীয়তের পাবন্দ ছিলেন। তারা হলেন যথাক্রমে মাওলানা মুহাম্মদ আলিম উদ্দিন মিয়াজী ও মাওলানা মোহাম্মদ আছহাব উদ্দিন মিয়াজী রাহ.। হুজুরের মহীয়সী মাতা ছিলেন ফিরোজা খাতুন। তিনি অত্যন্ত ধর্মপরায়ণা, দানশীলা ও পর্দানশীন মহিলা ছিলেন। তিনি কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন যাপন করতেন এবং গারাংগিয়া দরবার শরীফের হযরত বড় হুজুর কেবলা শাহ সুফি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল মজিদ রাহ. এর মুরিদ ছিলেন।
★ পড়াশোনা :- আল্লামা শাহ্ সূফী আবদুল জব্বার ছাহেব কেবলা রাহ. ১৯৪৭ সালে (পাঞ্জুম তথা দাখিল) ১৯৪৯ সালে (ছিয়ম তথা আলিম) ১৯৫১ সালে কৃতিত্বের সাথে (উলা তথা ফাজিল) পাস করেন এবং ফাজিলে রেকর্ডসংখ্যক নাম্বার পাওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হুজুরকে রৌপ্য পদকে ভূষিত করেন। অতঃপর বায়তুশ শরফ দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবে আলম হযরত শাহ্ সূফী মীর মোহাম্মদ আখতর ছাহেব রাহ. এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে একই বছর তিনি উম্মুল মাদারিস খ্যাত ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসায় কামিল জামাতে ভর্তি হন এবং ১৯৫৩ সালে তিনি এখান থেকেই মমতাজুল মুহাদ্দিসীন (এম.এ) সনদ লাভ করেন।
★ শিক্ষকতা:- আল্লামা শাহ্ সূফী আবদুল জব্বার ছাহেব রাহ. ১৯৫৩ সালে উনার পীর মুর্শিদ কুতুবুল আলম হযরত শাহ্ সুফি মীর মোহাম্মদ আখতর ছাহেব রাহ. পবিত্র বাগদাদ শরীফ গমন করলে এবং তার সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে চট্টগ্রামের মনসুরাবাদস্থ হাজী মসজিদের ইমাম ভ্রমণ করলে, আল্লামা শাহ্ সূফী আবদুল জব্বার সাহেব রাহ. তার স্থলে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন আরে সময় জনৈক আরেকজন ইমাম এর মারফত জানতে পারেন যে, পাঁচলাইশস্থ ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদরাসায় একজন শিক্ষকের পদ খালি আছে। অতঃপর তিনি সেখানে গিয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা আতিকুল্লাহ খান সাহেবের কাছে সাক্ষাৎকার দেন। আর তিনি এতে সন্তুষ্ট হলে ১৯৫৪ সালে ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদরাসাতে ইলমুল হাদিসের শিক্ষক হিসেবে আল্লামা শাহ্ সূফী আবদুল জব্বার সাহেব রাহ. কে নিয়োগ প্রদান করেন। আর এই মাদরাসাতেই হুজুর ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত একাধারে ১৪ বছর ইলাম ও আমলের আলোয় আলোকিত হয়ে সোনার মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
★ বাইয়াত গ্রহণ ও খেলাফত :- ১৯৪৮ সালে আলিম শ্রেণীতে (১ম বর্ষে) অধ্যয়নকালে পবিত্র শবে বরাতের রাতে দোয়ার জন্য স্টেশন রোড মসজিদে আসলে, কুতুবুল আলম শাহ সূফী মীর মোহাম্মদ আখতর ছাহেব রাহ. হুজুরকে খাস কামরায় ডেকে নিয়ে বাইয়াত করান। অতঃপর তিনি তার পীর-মুর্শিদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সফরসঙ্গী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। কখনো কখনো মুর্শিদ কেবলা (কুতুবুল আলম শাহ সূফী মীর মোহাম্মদ আখতর ছাহেব রাহ.) এর নির্দেশে উনার পক্ষ হতে দূর-দূরান্তে জিকির ও তরিকতের প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি হিসেবে গমন করতেন। তার মুর্শিদ প্রায় দু'বছর অসুস্থ থাকাকালীন সময়ে মাওলানাকে সার্বক্ষণিক সোহবতে রেখে তালিম দিতেন। এবং খেলাফতের গুরু দায়িত্ব অর্পণের জন্য মাওলানাকে রুহানী ফয়েজ ধারা গড়ে তুলে ক্রমান্বয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে নিয়ে চললেন। অবশেষে ১৯৩১ সালে হজের সময় পুণ্যভূমি মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ যাওয়ার পথে একটি ছোট দু তলা ঘরের নিচে তার পীর মুর্শিদ মাওলানা কে ডেকে আনলেন এবং তরিকতের ভাইদের উপস্থিতিতে বললেন।
"আমি এতদিন মাওলানার (শাহ আবদুল জব্বার ছাহেব) এর পরিচয় মানুষের নিকট প্রকাশ করিনি। কারণ সময় হয়নি। লোকজন তার আসল পরিচয় পেলে সময়ে-অসময়ে বিরক্ত করা শুরু করতো, তাতে আধ্যাত্মিক উন্নতি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমি দোয়া করি আল্লাহ তাআলা সময় মত থাকে মানুষের নিকট পরিচয় করিয়ে দেবেন। তখন এমন ভাবে মানুষ তার দিকে ঝুঁকে পড়বে যে, তার আহার নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটবে। মরনের বিশ্বাস তার মুর্শিদ থাকে পূণ্যভূমি মক্কার কাবা শরীফ ও মদীনার রওজা শরীফের মাঝখানে খেলাফতের কঠিন দায়িত্ব অর্পণের অর্থ আমানতদারী, সততা, প্রভৃতি মানবিক গুণে গুণান্বিত হয়ে সৃষ্টির সেবা তথা ইসলামের মূলনীতি বুলন্দ করা।
★ প্রতিষ্ঠানসমূহ :-
এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব আল্লামা শাহ্ সূফী আবদুল জব্বার ছাহেব রাহ. প্রতিষ্ঠা করেছেন ৬০ টি মসজিদ, ১৮৮ টি দ্বীনি তালিম কেন্দ্র, ১০ টি মাদ্রাসা, ১০ টি হেফজখানা, ১৫ টি এতিমখানা, ৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি একাডেমি, ১৯৯২ সালে ডিসেম্বর মাসে কক্সবাজার শিশু হাসপাতাল (যা পর্যায়ক্রমে পরে ফ্যাকো সার্জারি সম্মানিত অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতালে উন্নীত হয়,) ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে বায়তুশ সরফ দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র চালু, ১৯৯০ সালে রাজধানীর ফার্মগেটে বায়তুশ শরফ দারুশ শেফা ক্লিনিক নামে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সহ দেশব্যাপী বহু সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান করে গেছেন। শুধু তাই নয় মায়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আর্থিক ও মানবিক সাহায্য প্রদান করেন ১৯৭৮,১৯৮৮,১৯৮৯, সালে এবং বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ১৯৮৭,১৯৯১,১৯৯৪ সালে।
★ ভয়েস অব আমেরিকা :- ৮ ই জানুয়ারি ১৯৯২ সালে তার কর্মময় জীবন নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগে (VQA) এক সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয় এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানে হতে তার কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মিনি গভমেন্ট আখ্যায়িত করা হয়।
★ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বকোষে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমেরিকা বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত ইন্টার্নেশনাল ডাইরেক্টরি লিডারশিপ গ্রন্থে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি ছিলেন একজন সফল সাহিত্যিক যিনি একুশটি পুস্তক রচনা করেন।
★ ব্যবসা:- ব্যক্তিজীবনে তিনি আতর, মধু ও বই বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করতেন।
★ ইসলাম গ্রহণ:- তার পবিত্র হাতে হাত রেখে প্রায় ১০০ জন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পবিত্র ইসলামের মহান ছায়াতলে আশ্রয় নেন।
★ মাসিক দ্বিন দুনিয়া:- বাংলা ভাষায় পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফ চর্চা সহ সাহিত্যের কলমসৈনিক তৈরীর মানুষে ২৮ জুন ১৯৮০ সালে প্রকাশ করলেন ইসলামী মননশীল পত্রিকা "মাসিক দ্বিন দুনিয়া" । বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই মননশীল ইসলামী পত্রিকার প্রধান সম্পাদকবিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এ.কে. মাহমুদুল হক এবং সম্পাদক হচ্ছেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী অকুতোভয় কলম সৈনিক মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ স্যার। (আমার শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় শিক্ষক মন্ডলীর মাঝে অন্যতম ব্যক্তিত্ব)
★ বর্তমানে, পীর আল্লামা শাহ্ সূফী আবদুল জব্বার ছাহেব রাহ এর রেখে যাওয়া এ কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালনা করছেন, তারঐ স্নেহধন্য বাহারুল উলুম শাহ্ সূফী হযরত মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন ছাহেব (মা.জি.আ) পীর ছাহেব বায়তুশ শরফ, বাংলাদেশ।
★ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা:-
আল্লামা শাহ্ আব্দুল জব্বার ছাহেব রাহ. আধ্যাত্নিক শিক্ষা দানের পাশাপাশি মুসলমানরা দুনিয়াতে যেন সুন্দর ও নিস্কুলুস জীবন যাপন করতে পারেন সেই পথের সন্দ্বান দিতেও সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। সুদ ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্হা যে দেশে প্রচলিত সে দেশে শুধু সুদ হারাম এ কথা মুখে বললেই হবেনা, সুদ থেকে মুক্তি লাভের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তাঁর এই চিন্তা থেকে ১৯৮১ ঈসায়ী সালের ২৬ এপ্রিল তাঁর একান্ত উদ্যোগে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে বেসরকারিভাবে বায়তুশ শরফ ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলনায়তনে " সুদবিহীন ইসলামি ব্যাংক " প্রতিষ্ঠার উপর একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এ সেমিনারকে কেন্দ্র করে ২৯৮৩ ঈসায়ী সালে বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি এ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও শরীয়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। সমাজ কর্ম ও ধর্মীয় জেহাদের একটি উজ্জ্বল ফলক হিসেবে ইহা চির ভাস্কর ও চির অম্লান হয়ে থাকবে।
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে তাঁর মেধা সাহসিকতার বিচক্ষণতা, অধিকন্ত সুদুর প্রসারী চিন্তা ধারা। এ উদ্দেশ্যে তাঁর একান্ত আয়োজনে ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ ঈসায়ী সালে বায়তুশ শরফ ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলনায়তনে এক সেমিনারের আয়োজন করেন। এ সেমিনারের আলোকে ৬অক্টোবর ১৯৯২ ঈসায়ী সালে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট " ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি " নামে একটি কমিটি গঠন করেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর কর্মতৎপরতায় প্রভাবিত হয়ে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২ এর অধীনে ১৯৯৫ ঈসায়ী সালে "চট্টগ্রাম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় " প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের সভাপতি আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. ১৯৯৫ ঈসায়ী সালের আগষ্ট মাসে মাত্র ৩ টি ফ্যাকাল্টির আওতায় ৩টি বিভাগ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্ভোধন করেন। যা বর্তমানে " আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় - চট্টগ্রাম " নামে বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়।
★ওফাত:- ২৫ মার্চ ১৯৯৮ ঈসায়ী সালে তিনি চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফে নিজ হুজরায় (সকাল ৭-১৫ মিনিটে ) ইন্তেকাল করেন। ( ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলায়হে রাজেউন) পরবর্তী দিন ২৬ শেষ মার্চ রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সকাল ১০টার সময় তাঁর সুযোগ্য ছাহেবজাদা আলহাজ্ব মাওলনা মোহাম্মদ আবদুল হাই নদভী ছাহেব এর ইমামতিতে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, এবং নামাজে জানাযা শেষে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ মসজিদ সংলগ্ন তার নিজের হাতে গড়া ফুল বাগানে তাঁকে দাফন করা হয়। এবং এপর্যন্ত প্রতিনিয়ত তার মাজার শরীফে বিভিন্ন স্থান হতে ভক্তবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষী গণেসে জিয়ারত করে রুহানি ফুয়ুজাত হাসিল করছেন।
★ ছোটবেলায় প্রথম যখন মাদরাসাতে ভর্তি হই আব্বাজানের সাথে গিয়েছিলাম, হুজুর (শাহ্ সূফী আবদুল জব্বার ছাহেব রাহ,) আমাকে দেখে কোলে তুলে নিয়েছিলেন এবং দোয়া করেছিলেন। আল্লাহর একজন ওলী বন্ধুর স্নেহধন্য পরশ অবশ্যই বরকতের বিষয়। আজ হুজুরের ওফাত দিবসে, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। এবং সাথে সাথে সবাই কে বলব যারা এই সংকলিত পোস্টটি পড়েছেন, আমি সমস্ত হকপন্থী অলি-আউলিয়াদের সম্মান করি ও মুহব্বত করি। কারণ ইসলাম আমরা পেয়েছি সুফিসাধক অলি-আউলিয়াদের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা করা সম্মান করা প্রত্যেকের ঈমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য।
মহান আল্লাহ তাবারক ওতালা তালা হুজুরকে পবিত্র জান্নাতুল ফেরদৌসে দাখিল করুন। আমীন।

আমরা কি আরেকটি দুর্ভিক্ষ ডেকে আনছি?


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। সেই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৪০ লাখ লোক মৃত্যু বরণ করেছিলেন।
করোনা ভাইরাস নিয়ে যে ধরনের আতঙ্ক ও অচল অবস্থা বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তাতে আরেকটি দুর্ভিক্ষ আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
আমার এই আশঙ্কা না ফলুক এটাই প্রত্যাশা করি। কিন্তু তারপরও কেন যেন মনে হচ্ছে আমরা আরেকটি দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
করোনা ভাইরাসের ক্ষতি পোষাতে কানাডা সরকার বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব আজকে ১২০ মিলিয়ন রিয়ালের বিশাল প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে। ঐ সমস্ত দেশের আর্থিক সক্ষমতা যেমন আছে ঠিক তেমনি সাধারণ জনগণের আচরণগত দিকগুলো আমাদের চেয়ে অনেক অনুকূলে।
বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হওয়ার কথা নয় কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের আচরণই দুর্ভিক্ষ ডেকে আনবে। কারণ:
ক. আমরা আতঙ্ক আসার আগেই আতঙ্কিত হই বেশি। রোজা আসার আগে যেভাবে বাজারে হুমরি খেয়ে পড়ি এটা অন্য কোথাও নেই। সংকট আসার আগেই সবাই বাজারে এমনভাবে আচড়ে পড়ি যেন আজ না কিনলে কাল আর কিনতে পাব না এই অবস্থা!
খ. আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা মাশা আল্লাহ! দুনিয়ায় এই ধরনের ব্যবসায়ী আর পাওয়া যাবে না। এরা সংকটের জন্য অধীর আগ্রহে থাকে। যখন কোন সংকট তৈরি হওয়ার আশংকা থাকে তখনই এরা সকল পন্য কুক্ষিগত করে বাজারকে অস্থির করে ফেলে। একদিনেই তারা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান।
গ. এ দেশের সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রন না আছে জনগণের ওপর না আছে ব্যবসায়ীদের ওপর না আছে প্রশাসনের ওপর। সরকার যতই গরম বুলি আওড়ায় তাতে কেউ কান লাগায় না, পরোয়া করে না।
ঘ. কারো কোন দায়বদ্ধতা নেই। সবাই লাগাম হীন। যে যেখান থেকে পারছে নিজের আখের গুছানোর মানসিকতা এখন ভর করেছে প্রায় সকলের মধ্যে।
একটা উদাহরণ দেই:
-------------------------
গত তিন দিন আগে ফুটপাতে ভালো মানের পিয়াজ ৪০/৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। তার মানে পিয়াজের গুদাম উপচে পড়ছে এখন। তাই ব্যবসায়ীরা পিয়াজ ছেড়ে দিয়েছেন। দামও নাগালে চলে এসেছিল। কিন্তু সেই পেয়াজের দাম এখন আবার ৮০/৯০ টাকার দিকে চলে গেছে। কারণ বুঝতেই পারছেন। করোনার আতঙ্কে জনগণ পিয়াজ, ডাল-চালের ওপর হুমরি খেয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা দেখলেন এখনই সুযোগ। দাম বাড়িয়ে দিলেন তারা। আজকে চালের দোকানে গেলাম। দোকানদার বললেন, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা চাল ছাড়ছে না। আগে আমাদের হাত পা ধরে চাল দিত ৩৫০ বস্তা একবারে। এখন আমি সারা খাতুনগঞ্জ ঘুরে ঘুরে ১২০ বস্তা চাল এনেছি। গেলাম কাচা বাজারে । মাছ বিক্রেতারা মিছিল দিয়ে বলছে: মরার আগে খাইয়া লন.......
যাইহোক, একটু বাস্তব অবস্থা কল্পনা করে দেখুন। করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপি যে মন্দা দেখা দিবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। অন্যান্য ধনী দেশ বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে সামাল দিতে পারলেও আমাদের মত গরীব দেশ তা পারবে না।
১৯৪৩ সালের যে মহা দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তার অনেকগুলো কারণ ছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যবসায়ীদের মজুদদারী এবং অতি আতঙ্কিত জনগণের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয়।
এখন একটু চিন্তা করুন। চীন, ভারত ও মায়ানমার থেকে যখন পুরোপুরি আমদানি বন্ধ হবে। আমাদেরকে যখন নিজেদের পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে তখন কী হবে? একদল আতঙ্কিত লোক বাজারের সকল পণ্য কিনে ঘর বোঝাই করবে। আরেকদল মুনাফাখোর ব্যবসায়ী পয়সা লোটার ধান্ধায় পণ্য মজুত করে দাম বাড়াবে। ফল হিসেবে আমরা আরো একটি মহা দুর্ভিক্ষ দেখব! তবে সেই দুর্ভিক্ষ হবে কঠিন থেকে আরো কঠিনতর। কেননা গোটা বিশ্বই একই সময়ে সংকটে থাকবে। বাংলাদেশ একা বিপদে থাকলে হয়ত কেউ দান খয়রাত নিয়ে এগিয়ে আসত। তখন তারা থাকবে নিজেদের ঘর সামলানোতে ব্যস্ত আমাদের হেল্প করবে কখন?
এখন উপায়?
উপায় আছে। আমাদের কাছেই আছে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের। আমাদের চরিত্র বদল করতে হবে। যতই রিউমার ছড়ানো হোক বাজারে হুমরি খেয়ে পড়া যাবে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক ছটাক বস্তুও কেনা যাবে না। ব্যবসায়ীদেরও মানসিক পরিবর্তন জরুরি। উনাদের মানসিক বিকার না গেলে আমরা বাচতে পারব না।
উনাদের অতি লোভে যদি দুর্ভিক্ষ হয়েই বসে তখন কিন্তু তারাও ছাড়া পাবে না। দেশ গোল্লায় গেলে তাদের ধন দিয়ে কী হবে!
আল্লাহ আমাদের সুমতি দিন। মহামারীকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে ব্যবসা না করে মানুষের খেদমত করা যায় কিনা সেই মানসিকতা আল্লাহ দান করুন এই দোয়া করি।
হে আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষকে তুমি মানুষ কর। ওদেরকে সহিহ বুঝ দাও। করোনা থেকে বাচাও। দুর্ভিক্ষ যেন আমাদের না পেয়ে বসে সেই ব্যবস্থা করে দাও.....

আজকের এই পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী নই। আমার রব বলেছেন, তোমরাই দায়ী: করোনা

"প্রিয় মানবতা,
.
নিজেকে আমার নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজনবোধ করি না। গোটা পৃথিবী আজ আমাকে নিয়ে কথা বলছে, গৃহবন্দী আজ আমারই জন্যে, অবিরাম দুশ্চিন্তা আজ আমাকে ঘিরে। তোমাদের অধিকাংশের ন্যায় নষ্ট করার মতো সময় আমার হাতে নেই। তাই মূল কথায় যাচ্ছি, আজ নিজের সম্বন্ধে তোমাদের এমন কিছু বিষয় শেয়ার করতে চাই, যা মিডিয়া ধারণ করবে না কোনো দিন।
.
মানুষের মাঝে ভেদাভেদ করতে আমি জানি না। আমি চিনি না কে যুবক আর কে বৃদ্ধ, কে অসুস্থ আর কে সুস্থ, কে নেককার আর কে বদকার। ধ্বংসাত্মক বলে আমায় দোষীয়ো না তোমরা। আমি স্রেফ মহান রবের নির্দেশের পাবন্দি করছি, যিনি আমাকে করে দিয়েছেন লাগামছাড়া।
.
মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর যালেম শাসকদের নির্যাতনের স্টিমরোলার আজ আমিই থামিয়ে দিয়েছি, ব্যস্ত করে রেখেছি আজ তাদের ভিন্ন কিছুতে। আমিই একুশ শতকের ফিরআউনদের হতবিহবল করে তুলেছি এবং গুঁড়িয়ে দিয়েছি তাদের প্রত্যেকের অহংকারী মেরুদণ্ড। আমিই বন্ধ করিয়েছি মদ, যিনা-ব্যভিচার, আর জুয়া-মাদকের আড্ডাখানা। সুদী কারবার-কারীদের ভীত সন্ত্রস্ত করে রেখেছি আমিই। দরজার ওপারে থাকা প্রত্যেক অবিশ্বাসীকে আমিই হয়রান করে রেখেছি, ফলে এতকাল সে যত পক্ষ নিয়ে দাঁড়াত, আজ সবই তার কাছে দিকহারা। আমিই সেই ভাইরাস, ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে প্রত্যেক পাপাচারীর মনে এবং বাধ্য করেছে তাদের আফসোস আর অনুশোচনা করতে। নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফল আমিই। আর এ জন্য আমি গর্ববোধ করি, কোনো দুঃখ নেই আমার মনে। বরং শক্ত হয়ে পড়া মানবতার সেই অন্তরগুলোর জন্যই লজ্জা, উপদেশ-গ্রহণে যাদের প্রয়োজন হলো আমার মতো বান্দার।
.
হ্যাঁ, তোমরা ঠিকই ধরেছেন।
.
আজ আমার কারণে মসজিদের দরজাগুলো বন্ধ। আর এটাই আমার দুঃখ, তবে এটা আমার রবেরই মর্জি, নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞাতা। আশা করি আজ তোমরা অনুধাবন করতে পারবে, জামাতে সালাত আদায়ের কী মহত্ত্ব, ফেরেশতাদের সাথে বসতে পারা কত বড় সৌভাগ্যের, এতকাল তোমরা উপভোগ করছিলে শোকর ছাড়া। কেন? কেন আমাকেই তোমাদের প্রয়োজন হলো এই বিষয়টি বোঝাতে?
.
তোমাদের গোটা জীবনযাত্রা আজ আমার কারণে দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেছে; দুর্বল, অণুবীক্ষণ যন্ত্র বিনা যাকে দেখাই যায় না, আল্লাহর এই নীরব সৃষ্টির কারণে। তাহলে কেমন হতো, আমাকে না পাঠিয়ে যদি আমার ভাইদের পাঠাতেন তিনি? গোটা শহরকে উল্টে দিতেন, যেভাবে দিয়েছেন কওমে লূতকে? কিংবা আগুনের বৃষ্টি যদি বর্ষণ করতেন, যেভাবে করেছিলেন কওমে শুয়াইবের ওপরে? অথবা জমিনকে যদি নির্দেশ দিতেন তোমাদের ধসিয়ে দিতে, যেভাবে দিয়েছিলেন কারুনকে?
.
আজকের এই পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী নই। আমার রব বলেছেন, তোমরাই দায়ী।
.
‘সুতরাং ওদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অপরাধের জন্য পাকড়াও করলাম; ওদের কারও প্রতি প্রেরণ করলাম পাথর বর্ষণকারী ঝড়, কাউকে আঘাত করল মহাগর্জন, কাউকে আমি ধসিয়ে দিলাম মাটির নিচে এবং কাউকে মারলাম ডুবিয়ে। আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো যুলুম করেন নি; অধিকন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।’ [সূরা আনকাতবূত, ২৯: ৪০]
.
আমাকে ভয় করো না, বরং তাঁকে ভয় করো, আমাকে যিনি পাঠিয়েছেন।
.
দিশেহারা হয়ে যেও না এই ভেবে, কীভাবে আমার থেকে বাঁচবে। বরং ভাবো, কীভাবে তাঁর নিকটবর্তী হওয়া যায়, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তোমাদের কাছে।
.
আমি সহ গোটা সৃষ্টি জগত তাঁরই দয়ার অনুগামী, তাঁরই ক্ষমতার অধীন, তাঁর সাহায্য বিনা আমরা অক্ষম সকলেই। আমার ভাগ্য তাঁরই হাতে, তাঁর ইচ্ছাই আমার কাছে চির-ধার্য, আর আমি সিজদাহ করি শুধুমাত্র তাঁকেই। অতএব আমাকে নিয়ে কিংবা অন্য কিছু নিয়ে তোমাদের অন্তরগুলো ব্যতিব্যস্ত করে রেখো না। আল্লাহর গুণকীর্তন করো এবং তাঁর প্রতি সুধারণা রাখো।
.
তোমাদের চাইতে আমি নিজেকে ভাল জানি। যারা নেককার অবস্থায় মৃত্যুবরণ করছে, আল্লাহর কাছে তাদের জন্য উত্তম ফলাফলই অপেক্ষা করছে। আশা করা যায় তারা শহীদের মর্যাদা পাবে। কিন্তু তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানের ব্যাপারে গাফেল থেকে মরছ, লক্ষ্যহীন জীবন কাটিয়েছ, তাওবাহ করতে বিলম্ব করেছ, খুব শীঘ্রই তোমরা বুঝতে পারবে মৃত্যু আসল সমস্যা নয়, বরং সবচেয়ে ক্ষীণ সমস্যাগুলোর একটি।
.
তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ আজ আমি মুখ খুলেছি, অতএব শেষবারের মতো জানতে চাইব:
.
তোমরা কি তাওবাহ করবে?
.
জীবনের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য নিয়ে ভাববে? লক্ষ্য নিয়ে জীবন যাপন করবে?
.
তোমরা কি এ কথা দিতে পারো, প্রত্যেক পাপকে তোমরা বুকফাটা অনুশোচনা দিয়ে বিদায় জানাবে?
.
তোমাদের ক্ষণিকের অতিথি, নিরেট উপদেশ দানকারী, আল্লাহর অধম বান্দা,
.
‘করোনা’
.
-----------
উস্তাদ আলী হাম্মুদার পেইজ থেকে
অনুবাদ: Wafilife এ্যাডমিন

গজবে ধ্বংস হওয়া ৬ জাতি

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ না করায় কয়েকটি জাতি রাতারাতি ধুলায় মিশে গেছে।
আল্লাহর গজব বর্ষিত ৬টি জাতি
১. মাদইয়ান সম্প্রদায়
হযরত শোয়াইব (আ.) প্রেরিত হয়েছিলেন মাদইয়ান সম্প্রদায়ের কাছে। তিনি ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর তৃতীয় স্ত্রী কাতুরার ঘরের পুত্র মাদইয়ানের বংশধর। ধারণা করা হয়, বর্তমান সিরিয়ার মুয়ান নামক স্থানে কওমে শোয়াইবের বসবাস ছিল।
মাদইয়ানবাসী পার্থিব লোভ-লালসায় মত্ত হয়ে পারস্পরিক লেনদেনের সময় ওজনে কম দিয়ে মানুষের হক আত্মসাৎ করত। দুর্নীতি, রাহাজানি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও মজুদদারির মতো জঘন্য অন্যায় কাজ তাদের সমাজের মধ্যে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এসব পাপে তারা এমনভাবে লিপ্ত ছিল যে, তারা কখনো মনে করত না যে, এসব কাজ অত্যন্ত জঘন্য বা গর্হিত। বরং তারা এসবের জন্য গর্ববোধ করত। মাদইয়ান সম্প্রদায়কে সুপথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা শোয়াইব (আ.)-কে তাদের কাছে পাঠান। হযরত শোয়াইব (আ.) সর্বপ্রথম তাদের তাওহিদের দাওয়াত দিলেন। তিনি তাদের বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহতায়ালার ইবাদত কর, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।’ তাওহিদের দাওয়াত দেওয়ার পরপরই হযরত শোয়াইব (আ.) তাদের ওজনে কম দেওয়ার জঘন্য মানসিকতাকে ত্যাগ করার উপদেশ দিলেন।
তিনি তাদের ওজনে কম না দেওয়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি আরও বলেন, আজ আমি তোমাদের সচ্ছল ও ভালো অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমি তোমাদের ব্যাপারে পরিবেষ্টনকারী দিনের আজাবের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। হে আমার কওম! ওজনে কম দিও না এবং লোকদের সঙ্গে প্রতারণা কোরো না। আর সমাজের বুকে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি কোরো না।
এ থেকে বোঝা যায়, ওজনে কম দেওয়া যেমন হারাম, তেমনি অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ করাও হারাম। হযরত শোয়াইব (আ.) তাদের আরও উপদেশ দিলেন, মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য রাস্তাঘাটে ওঁৎ পেতে অপেক্ষা কোরো না। কিন্তু উপদেশের বিনিময়ে কেবল উপহাস-পরিহাসই পেয়েছেন শোয়াইব (আ.)। অবশেষে তারা যখন সীমালঙ্ঘন করে ফেলল তখন আল্লাহ তায়ালার গজব এসে গেল। কয়েক দিন তাদের অঞ্চলে প্রচ- গরম পড়ল। গরমে তারা ছটফট করতে লাগল। অতঃপর কাছাকাছি একটা ময়দানের ওপর গাঢ় মেঘমালা দেখা দিল। ময়দানে মেঘের ছায়া পড়ল। শীতল বাতাস বইতে লাগল। এলাকার সবাই ওই ময়দানে উপস্থিত হলো। বলতে লাগল, এই মেঘ থেকে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে। কিন্তু তাদের ওপর অগ্নিবৃষ্টি শুরু করল। আর নিচের দিকে শুরু হলো প্রচ- ভূমিকম্প। ফলে সবাই সেখানে ধ্বংস হয়ে গেল।
২. হুদ (আ.)-এর আদ জাতি
আদ জাতির লোকেরা ছিল উন্নত। নির্মাণশিল্পে তারা ছিল জগৎসেরা। তারা সুরম্য অট্টালিকা ও বাগান তৈরি করত। তাদের তৈরি ইরাম-এর মতো অনিন্দ্য সুন্দর শহর পৃথিবীর আর কোথাও ছিল না। তারা অঙ্কন শিল্পেও ছিল দক্ষ। জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা যেমন অগ্রসর ছিল, তেমনি সংস্কৃতিতেও অনন্য।
শুরুর দিকে আদরা হযরত নুহ (আ.)-এর ধর্মমত মেনে চলত। তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করত। কিন্তু কালক্রমে তারা আল্লাহকে ভুলে যেতে শুরু করে। তারা মনে করত, তাদের সব অর্জন স্বীয় যোগ্যতায়।
আদরা ভুলে গেল যে, আল্লাহ বা স্রষ্টা বলতে কেউ আছেন। তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা যে আল্লাহই তাদের দিয়েছেন, তাও তারা বেমালুম ভুলে গেল। ফলে তারা অহংকারী হয়ে উঠল এবং সত্যিকারের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ল।
আদ জাতির লোকদের সতর্ক করার জন্য আল্লাহ হযরত হুদ (আ.)-কে দুনিয়ায় পাঠালেন। হযরত হুদ (আ.) আদ জাতির লোকদের গর্ব পরিত্যাগ করার আহ্বান জানালেন এবং আল্লাহর ইবাদত করার উপদেশ দিলেন। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনার কথাও বললেন। হযরত হুদ (আ.) বললেন, ‘তোমরা মজবুত অট্টালিকা বানিয়েছ এ জন্য যে, তোমরা এখানে চিরকাল থাকবে। তোমরা যখন তোমাদের দুর্বলের ওপর জুলুম করো তখন তোমরা স্বৈরশাসকের মতো বর্বর আচরণ করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমাকে মান্য করো।
কিন্তু লোকেরা হুদ (আ.)-এর কথা শুনল না, বরং তারা তার কথা প্রত্যাখ্যান করল। তাকে বোকা ও মিথ্যাবাদী বলে গালাগাল দিল। নবীর প্রতি এরূপ অন্যায় আচরণে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন। ফলে আদদের এলাকায় দেখা দিল প্রচণ্ড খরা। এতে তিন বছর তারা দুর্ভিক্ষের মধ্যে কাটাল। তারপরও তাদের স্বভাব-চরিত্রে কোনো পরিবর্তন হলো না। এবার সেখানে শুরু হলো ভয়ানক ঝড়। এই ঝড় সাত রাত ও আট দিন ধরে চলল। ফলে গোটা আদ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। আল্লাহ তার রহমতে হযরত হুদ (আ.) ও তার অনুসারীদের রক্ষা করলেন।
৩. লুত (আ.)-এর জাতি
বিকৃত পাপাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল লুত (আ.)-এর জাতি। ইরাক ও ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী স্থানে এই জাতিটির বসবাস ছিল। এই জাতির কেন্দ্রীয় শহর ছিল ‘সাদুম’ নগরী। সাদুম ছিল সবুজ শ্যামল এক নগরী। কারণ এখানে পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল। ফলে ভূমি ছিল অত্যন্ত উর্বর এবং শস্যে ভরপুর। এমন প্রাচুর্যময় জীবনযাত্রা বেপরোয়া করে তোলে তাদের। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে তাদের মধ্যেই সর্বপ্রথম সমকামিতার প্রবণতা দেখা দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এই জঘন্য অপকর্ম তারা প্রকাশ্যে করে আনন্দ লাভ করত।
অবশেষে একদিন আল্লাহর গজব নাজিল হয় ওই পাপাচারী জাতির বিরুদ্ধে। তাদের ওপর মহাপ্রলয় নেমে আসে। এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো নগরটি সম্পূর্ণ উল্টে দেয়। ঘুমন্ত মানুষের ওপর তাদের ঘরবাড়ি আছড়ে পড়ে। পাশাপাশি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো কঙ্কর নিক্ষিপ্ত হতে থাকে। ওই মহাপ্রলয়ের হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি। ওই জনপদের ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান।
লুত (আ.)-এর জাতির ধ্বংসস্থলটি বর্তমানে ‘বাহরে মাইয়েত’ বা ‘বাহরে লুত’ নামে খ্যাত। এটি ডেড সি বা মৃত সাগর নামেও পরিচিত। ফিলিস্তিন ও জর্দান নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল অঞ্চলজুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে এটি। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ নিচু। এর পানিতে তেলজাতীয় পদার্থ বেশি। এতে কোনো মাছ, ব্যাঙ, এমনকি কোনো জলজ প্রাণীও বেঁচে থাকতে পারে না। এ কারণেই একে ‘মৃত সাগর’ বলা হয়।
সাদুম উপসাগরবেষ্টিত এলাকায় এক ধরনের অপরিচিত উদ্ভিদের বীজ পাওয়া যায়, সেগুলো মাটির স্তরে স্তরে সমাধিস্থ হয়ে আছে। সেখানে শ্যামল উদ্ভিদ পাওয়া যায়, যার ফল কাটলে তার মধ্যে পাওয়া যায় ধুলাবালি ও ছাই।
এখানকার মাটিতে প্রচুর গন্ধক পাওয়া যায়। এই গন্ধক উল্কাপতনের অকাট্য প্রমাণ। ১৯৬৫ সালে ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানকারী একটি আমেরিকান দল ডেড সির পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক বিরাট কবরস্থান দেখতে পায়, যার মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি কবর আছে। এটি থেকে অনুমান করা হয়, কাছেই কোনো বড় শহর ছিল। কিন্তু আশপাশে এমন কোনো শহরের ধ্বংসাবশেষ নেই, যার সন্নিকটে এত বড় কবরস্থান হতে পারে। তাই সন্দেহ প্রবল হয়, এটি যে শহরের কবরস্থান ছিল, তা সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে।
সাগরের দক্ষিণে যে অঞ্চল রয়েছে, তার চারদিকেও ধ্বংসলীলা দেখা যায়। জমিনের মধ্যে গন্ধক, আলকাতরা, প্রাকৃতিক গ্যাস এত বেশি মজুদ দেখা যায় যে এটি দেখলে মনে হয়, কোনো এক সময় বিদ্যুৎ পতনে বা ভূমিকম্পে গলিত পদার্থ বিস্ফোরণে এখানে এক ‘জাহান্নাম’ তৈরি হয়েছিল।
৪. সালেহ (আ.)-এর সামুদ সম্প্রদায়
সামুদ জাতি শিল্প ও সংস্কৃতিতে পৃথিবীতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আদ জাতির পর তারাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধিশালী জাতি। কিন্তু তাদের জীবনযাপনের মান যতটা উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল, মানবতা ও নৈতিকতার মান ততই নিম্নগামী ছিল। একদিকে উন্মুক্ত প্রান্তরে পাথর খোদাই করে করে প্রাসাদের পর প্রাসাদ তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে সমাজে কুফর, শিরক ও পৌত্তলিকতার প্রসার ঘটছিল। অন্যায় ও অবিচারে সমাজ জর্জরিত হতে থাকে। সমাজে চরিত্রহীন লোকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। হজরত সালেহ (আ.) যে সত্যের দাওয়াত দিয়েছেন, তাতে নিম্ন শ্রেণির লোকেরাই সাড়া দেয়। হিজর ছিল সামুদ জাতির কেন্দ্রীয় আবাসস্থল। এর ধ্বংসাবশেষ মদিনার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। বর্তমান শহর আল উলা থেকে কয়েক মাইল ব্যবধানে তা দেখা যায়।
সালেহ (আ.) সারা জীবন তাদের হেদায়েতের পথে আনার চেষ্টা করেছেন। এতে অল্প কিছু সঙ্গী ছাড়া গোটা জাতি তার অবাধ্যই থেকে যায়। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, আপনি যদি সত্যি নবী হয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের ‘কাতেবা’ নামের পাথরময় পাহাড়ের ভেতর থেকে একটি ১০ মাসের গর্ভবতী, সবল ও স্বাস্থ্যবতী মাদি উট বের করে দেখান। এটি দেখাতে পারলে আমরা আপনার ওপর ইমান আনব। সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আল্লাহর কুদরতে পাহাড় থেকে একটি অদ্ভুত রকমের মাদি উট বের হয়। তা দেখে কিছু লোক ইমান আনে। কিন্তু তাদের সর্দাররা ইমান আনেনি, বরং তারা সে মাদি উটকে হত্যা করে ফেলে। এতে সালেহ (আ.) তার জাতির ওপর আল্লাহর আজাব নেমে আসার ঘোষণা দেন। তিনি তাদের সতর্ক করে দেন যে তিন দিন পরই আল্লাহর আজাব তোমাদের ধ্বংস করে দেবে।
নির্ধারিত সময়ে আসমানি আজাব এসে অবিশ্বাসীদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারপর সীমা লঙ্ঘনকারীদের মহানাদ আঘাত করে। ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে থাকে (ধ্বংস হয়ে যায়)। যেন তারা কখনোই সেখানে বসবাস করেনি। উদ্ধত সামুদ জাতির প্রতি হজরত সালেহ (আ.)-এর হুঁশিয়ারি সত্যি বাস্তবায়িত হয়েছে। হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড শব্দে ভূমিকম্প তাদের নাস্তানাবুদ করে ফেলে। বজ্রপাতের ভয়ংকর শব্দে মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে যায়। অবশেষে তাদের অপমৃত্যু ঘটে।
৫. নুহ (আ.)-এর জাতি
নুহ (আ.)-এর জাতি মূর্তিপূজা করত। আল্লাহ তায়ালা নুহ (আ.)-কে সুদীর্ঘ জীবন দান করেছিলেন। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মূর্তিপূজা ত্যাগ করতে বলেছেন। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী অক্লান্তভাবে দাওয়াত দেওয়ার পরও তারা ইমান আনেনি। তিনি তার জাতিকে সত্যের পথে আনতে দীর্ঘ ৯৫০ বছর নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু তারা নুহ (আ.)-এর দাওয়াত তাচ্ছিল্যভরে প্রত্যাখ্যান করে। তারা তাকে বলেছিল, ‘হে নুহ! যদি তুমি বিরত না হও, তবে পাথর মেরে তোমার মস্তক চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।’
বহু চেষ্টায় অল্পসংখ্যক মানুষ তার পথে এসেছিল। তার সময়ের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। নুহ (আ.) তাদের আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তবু তাদের চৈতন্যোদয় হয়নি। অবশেষে আল্লাহর আজাব আসে। এক ভয়ংকর প্লাবন ও জলোচ্ছ্বাস তার জাতির অবাধ্য লোকদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এমন প্লাবন সেই জাতিকে গ্রাস করেছিল, যেই প্লাবন হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে ইতিহাস হয়ে আছে। তখন নুহ (আ.)-এর নৌকায় যারা আশ্রয় নিয়েছিল তারাই রক্ষা পেয়েছিল।
৬. মুসা (আ.)-এর জাতি
নিজেকে খোদা দাবি করেছিল ফেরাউন। তার কাছে ইমানের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন মুসা ও হারুন (আ.)। বিনিময়ে মুসা (আ.)-কে হত্যা করতে মনস্থির করে ফেরাউন। সদলবলে ফেরাউন একদিন মুসা (আ.)-কে ধাওয়া করে। তিন দিকে ঘেরাও হওয়া মুসার দলের সামনে ছিল উত্তাল সাগর। আল্লাহর হুকুমে সাগরে পথ সৃষ্টি হয়। নিজের দল নিয়ে মুসা (আ.) এই পথ দিয়ে সমুদ্র পার হয়ে যান। কিন্তু সাগরে ডুবে মারা যায় ফেরাউন। আল্লাহ তাকে পৃথিবীবাসীর কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে রেখে দিয়েছেন। তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় সাগরে নিমজ্জিত থাকার পরও তার লাশে কোনো পচন ধরেনি।
জানা যায়, ১৮৯৮ সালে কিংস ভ্যালির থিবিসে দ্বিতীয় রামাসিসের পুত্র ও মহাযাত্রাকালীন ফেরাউনের মমি করা লাশ আবিষ্কার করা হয়। সেখান থেকে তা কায়রোতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯০৭ সালের ৮ জুলাই মমিটির আবরণ অপসারণ করা হয়। কয়েকটি জায়গায় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও মমিটি তখনো সন্তোষজনকভাবে সংরক্ষিত ছিল। তার গলা থেকে মাথা পর্যন্ত উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে অবশিষ্ট দেহ কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দর্শকদের দেখার জন্য কায়রো জাদুঘরে রাখা আছে।
ঐতিহাসিক চিহ্ন-দ্রব্য সংরক্ষণ করা মানুষের স্বাভাবিক কর্তব্য। কিন্তু এ মমির ক্ষেত্রে সেই কর্তব্য অনেক বেশি বড় ও ব্যাপক হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ এ মমি হচ্ছে এমন একজনের লাশের বাস্তব উপস্থিতি, যে মুসা (আ.)-কে চিনত। তার পরও সে তার হেদায়েত প্রত্যাখ্যান করেছিল। আত্মরক্ষার্থে পলায়নকালে মুসার পশ্চাদ্ধাবন করেছিল এবং সেই প্রক্রিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে। আর কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তার লাশ পরবর্তী সময় মানুষের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। আল্লাহর হুকুমে তা ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম সাগরতীরে যেখানে ফেরাউনের লাশ সাগরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, আজও জায়গায়টি অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে এ জায়গার নাম জাবালে ফেরাউন বা ফেরাউন পর্বত। এরই কাছাকাছি আছে একটি গরম পানির ঝরনা। স্থানীয় লোকেরা এর নাম দিয়েছে হাম্মামে ফেরাউন। এর অবস্থানস্থল হচ্ছে আবু জানিমের কয়েক মাইল ওপরে উত্তরের দিকে।
উম্মতের উদ্দেশ্যে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিনিটি দু’আ
باب مَا جَاءَ فِي سُؤَالِ النَّبِيِّ ﷺ ثَلاَثًا فِي أُمَّتِهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ رَاشِدٍ، يُحَدِّثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابِ بْنِ الأَرَتِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ صَلاَةً فَأَطَالَهَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّيْتَ صَلاَةً لَمْ تَكُنْ تُصَلِّيهَا قَالَ ‏ "‏ أَجَلْ إِنَّهَا صَلاَةُ رَغْبَةٍ وَرَهْبَةٍ إِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ فِيهَا ثَلاَثًا فَأَعْطَانِي اثْنَتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً سَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُهْلِكَ أُمَّتِي بِسَنَةٍ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ فَمَنَعَنِيهَا ‏"‏ ‏.‏ ‏
আবদুল্লাহ ইবনু খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা খুব দীর্ঘায়িত করে নামায আদায় করেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি তো কখনো এভাবে নামায আদায় করেননি! তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এ নামায ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও ভীতিপূর্ণ। আমি এতে তিনটি বিষয়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আবেদন করেছি। তিনি আমাকে দুটি দিয়েছেন এবং একটি দেননি। আমি তার নিকট আবেদন করেছি, তিনি আমার উম্মাতকে যেন দুর্ভিক্ষে নিক্ষেপ করে ধ্বংস না করে দেন। আমার এ দু'আ তিনি কুবুল করেছেন। তারপর আমি আবেদন করেছি যে, তিনি বিজাতীয় শক্রদেরকে যেন তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে না দেন। আমার এ দু'আও তিনি কুবুল করেছেন। আমি আরো আবেদন জানিয়েছি যে, তারা যেন পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহের আস্বাদ না নেয়। আমার এ দুআ তিনি কুবুল করেননি।
সূনান আত তিরমিজী
অধ্যায়ঃ ৩১/ কলহ ও বিপর্যয় (كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ২১৭৫
মাসুদ পারভেজ

হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১৪শ’ বছর আগেই কোয়ারেন্টাইনের কথা বলেছিলেন

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ মার্কিন এক গবেষক বলেছেন, মহামারীর সময় নামাজ ও কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলেছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মার্কিন ম্যাগাজিন নিউজ উইকে এক মতামতধর্মী লেখায় স্কলার ও অধ্যাপক ক্রেইগ কনসিডাইন এ কথা বলেছেন। কেবল নামাজের মাধ্যমে করোনাভাইরাসকে হারানো সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মার্কিন এই গবেষক লিখেন, মহামারী প্রতিরোধ ও লড়াইয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
ইমিউনোলজিস্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তবে হাদীসের বরাত দিয়ে কনসিডাইন বলেছেন, ১৪০০ বছর আগেই এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন মুহাম্মদ (সা.)। মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যদি তুমি শুনতে পাও যে, কোনও জায়গায় প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে, তাহলে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাক; কিন্তু তুমি যেখানে আছ সেখানে প্লেগ ছড়িয়ে পড়লে ওই স্থান ত্যাগ করো না। মহানবী (সা.) আরও বলেন, তাদের সংক্রামক রোগ রয়েছে তাদের সুস্থদের থেকে দূরে থাকা উচিত। কনসিডাইন তার লেখায় নবীজীর আরেকটি হাদীস, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নত ঈমানের অঙ্গ’ সেটিরও উল্লেখ করেন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ধোয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মহানবী মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর তোমাদের হাত ধোও; কেননা ঘুমের সময় তোমার হাত কোথায় ছিল তা তুমি জান না।
নবীজীর আরেকটি হাদীসে বলা হয়েছে, খাবার আগে ও পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে কী করতে হবে? এ বিষয়ে মুহাম্মদ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলাই রোগ ও ওষুধ সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক রোগের চিকিৎসাও তিনি সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। বিশ্বাস ও যুক্তির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখতে হবে- সে বিষয়ে কনসিডাইন বলেন, স¤প্রতি অনেকেই বলছেন যে, সামাজিক দূরত্ব ও কোয়ারেন্টাইনের বেসিক নিয়ম মানার চেয়ে নামাজ পড়াটা উত্তম হবে। রোগের চিকিৎসায় নামাজ একমাত্র ওষুধের বিষয়ে মুহাম্মদ (সা.) কী বলতেন? এমন বিষয়ে নবীজীর আরেকটি হাদীস তুলে ধরেন মার্কিন এই গবেষক।
আল-তিরমিজীতে বর্ণিত ওই হাদীসে বলা হয়, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি উট বেঁধে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করব, না বন্ধনমুক্ত রেখে? তিনি বললেন, উট বেঁধে নাও, অতঃপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো। সূত্র : নিউজ উইক।

রাস্তায় চলার আদব বা সুন্নত নিয়ম

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ
(১) রাস্তার ডান দিকে দিয়ে চলা,বামে চলে শয়তান।
(২) ছালাম কালামের সহিত রাস্তায় চলা, সবার আগে আমিই অন্যকে সালাম দিব।
(৩) রাস্তায় কোন কষ্টদায়ক বস্তু পড়লে উহা ফেলে দেয়া বা পিছনের সাথীকে স্বরন করে দেয়া।
(৪) জিকিরে ফিকিরে রাস্তায় চলা।
(৫) দ্বীনের দাওয়াতের নিয়তে রাস্তায় চলা, যার সহিত সাক্ষাত হবে তাকেই দ্বীনের দাওয়াত দেব।
(৬) নীচের দিকে তাকিয়ে রাস্তায় চলা। ডানে, বামে বা ‍উপরে না তাকানো। কারন এই তিন দিক থেকেই শয়তান ধোকা দিতে পারে। কিন্তু নীচের দিক থেকে শয়তান ধোকা দিতে পারেনা।
(৭) পর্দার সহিত রাস্তায় চলা।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সুন্নতের উপর আমল করার তৌফিক দান করুন।
আমীন।

মহামারিতে ঘরে অবস্থানের বিস্ময়কর সাওয়াব

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ সাইয়্যেদা আঈশা রাদি. বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। উত্তরে তিনি বলেন—
أَنَّهُ كَانَ عَذَابًا يَبْعَثُهُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ فَجَعَلَهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ فَلَيْسَ مِنْ رَجُلٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَيْتِهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الشَّهِيدِ
“মহামারী হলো, আযাব। যাদের ওপর ইচ্ছে, আল্লাহ এ আযাব পাঠান। পরিশেষে তিনি তা ঈমানদারদের জন্য রহমত বানিয়ে দেন এভাবে যে, কোনো বান্দা যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং সেসময় নিজ বাড়িতে ধৈর্য সহকারে, সাওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বাস বুকে নিয়ে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তাআলা তাকদিরে যা চূড়ান্ত রেখেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আক্রান্ত করতে পারবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শহিদের সমপরিমাণ সাওয়াব।”

তথ্যসূত্র :
মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং : ২৬১৮২
বিখ্যাত হাদিস বিশ্লেষক শুয়াইব আরনাউত রহ. বর্ণনার মান নির্ণয় করে বলেন,
إسناده صحيح على شرط البخاري
.
সুবহানাল্লাহ, এই মহামারী আমাদের জন্যে কত বড় রহমত যে,
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই দিনগুলোতে আমরা স্রেফ সঠিক বিশ্বাস লালন করে ঘরে অবস্থান করে দুআ, তাওবা, ইসতিগফার ও ইবাদত পালন করে গেলেই শহিদের সাওয়াব পেয়ে যাব।
তারপরও কি আমরা বুঝব না!
Collected

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০

করোনার সর্বশেষ আপডেট:

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে মারা গেছেন ১৪৬০ জন- যা গতকালের চেয়েও বেশি। ইতালিতে মারা গেছেন ৬০২ জন। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪ জন, স্পেনে ৪৩৪ জন, ইরানে ১২৭ জন, যুক্তরাজ্যে ৫৪ জন, নেদারল্যান্ডসে ৩৪ জন, জার্মানীতে ২২ জন মারা গেছেন। পরিস্থিতি নতুন করে খারাপ হয়েছে সুইজারল্যান্ডে, সেখানে ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ২০ জন। এছাড়া ডেনমার্কে ১১ জন, বেলজিয়ামে ১৩ এবং ফিলিপিনসে ৮ জন মারা গেছেন। করোনা ভাইরাসে মোট নিহতের সংখ্যা গতকাল এ সময়ে ছিল ১৪, ৪৩৬ জন আর ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে এখন নিহতের মোট সংখ্যা ১৬০৯৮ জন।
মাত্র ২৪ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়ে ৩ লাখ ৬৬ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সবচেয়ে বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭৩০৯ জন। আরো যেসব দেশে বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে ইতালিতে ৪৭৯০, ম্পেনে ৪৩২১, ইরানে ১৪১১, ফ্রান্সে ৬৭১, সুইজারল্যান্ডে ১০৭৩, নেদারল্যান্ডসে ৫৪৫, অস্ট্রিয়াতে ৭২৪, পুর্তুগালে ৪৬০, মালয়েশিয়ায় ২১২ (মারা গেছে নতুন করে ৪জন), দক্ষিন আফ্রিকায় ১২৮, রোমানিয়ায় ১৪৩, থাইল্যান্ডে ১২২ এবং ইকুয়েডরে ১৫২ জন আক্রান্ত হয়েছে।
আল্লাহু গাফুরুর রাহীম। আমরা তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই। পানাহ চাই।
(AMeen, Ali Ahmad Mabrur)

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩১ সাল।
বুধবার, সকাল ৯টা। বেনগাজির উত্তরাঞ্চল ‘সালুক’-এ ইতালিয়ানরা ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করে। একটুপরই এখানে ফাঁসির দড়িতে লটকানো হবে লিবিয়ার মুজাহিদ নেতা, সানুসি আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক, জাবালে আখজারের লৌহমানব, মরুসিংহ উমর মুখতারকে। এখানেই তাঁকে সাম্রাজ্যবাদী ইতালির বিরুদ্ধে ২০ বছর যাবত জিহাদের স্বাদ মিটিয়ে দেওয়া হবে।

ইতালিয়ান পশুগুলোর মন-মানসিকতা ছিল বড় ইতর। তারা ইতিহাসের ঘৃন্য কাজটাই করে দেখাল। উমর মুখতারকে জনগণণের চক্ষুর অন্তরালে ফাঁসি দিতে তাদের ইতরামি বাধা দিয়ে বসলো। বিভিন্ন গণবন্দিশিবিরে আটককৃত প্রায় ২০ হাজার আবালবৃদ্ধবনিতাকে সে জায়গায় উপস্থিত করল তারা। পাশাপাশি লিবিয়ার বিভিন্ন গোত্রীয় মোড়ল এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকেও আনতে বাধ্য করল। চর্মচক্ষু দিয়ে তাদের নেতা উমর মুখতারের ফাঁসির হৃদয়বিদারক দৃশ্য অবলোকন করার জন্য!
ড. উনাইজি। বেনগাজির একজন উঁচু শ্রেণির লোক। তিনিও উপস্থিত লোকদের মধ্যে ছিলেন। উমর মুখতারের ফাঁসির সেই অন্তর বিদীর্ণকারী মুহূর্তের কথা নাহয় তাঁর জবান থেকেই শুনুন--
‘সে সময় উপস্থিত লোকদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। লিবীয় নেতা উমর মুখতারকে ফাঁসির দড়িতে দেখে আমি সহ্য করতে পারিনি। অসুস্থ হয়ে পড়ি। ওই অলক্ষুণে দিনে ফাঁসি কার্যকরের মুহূর্তে ইতালিয়ানরা আমাকে উপস্থিত হতে ছাড় দেয়নি। হ্যাঁ, তারা আমাকে তখনই ছাড় দিয়েছে, যখন তারা অনুভব করতে পেরেছে যে, আমি অসুস্থ ও অপারগ হয়ে পড়েছি!
হায় আল্লাহ! ওই মুহূর্ত কতইনা ভয়ানক, যে মুহূর্তে উমর মুখতার খুবই ধির কদমে এবং অদ্ভুত বীরত্বে শাহাদাত পাঠ করতে করতে ফাঁসির রজ্জুর দিকে হেঁটে হেঁটে চললেন! তখন তিনি বারবার শাহাদাতাইন পাঠ করতে লাগলেন- আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্ললাহ!
তিনি হাঁটছেন। ফাঁসির মঞ্চের দিকে। তাঁর চেহারা চমকাচ্ছে। শাহাদাতের আনন্দ আর আল্লাহর ফয়সালার খুশিতে। যখনই তিনি ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে উঠলেন, অমনি ইতালিয়ান হেলিকপ্টারগুলো ফাঁসির আঙিনার ঠিক উপরে, শূন্যের মধ্যে, খুব কাছাকাছি হয়ে, বিরাট আওয়াজে চক্কর দিতে শুরু করল! কিন্তু ফাঁসি কার্যকরের মুহূর্তে কেন এই হেলিকপ্টারের মহড়া?
যাতে পরিবেশটা আর সুন্দর না থাকে। হইচই শুরু হয়ে যায়। লিবীয় জনতা তাদের নেতা উমর মুখতারের কোনো বিদায়ী বার্তা শুনতে না পায়! কারণ, হয়তোবা তিনি বিদায়কালে তাঁর জাতীর উদ্দেশ্যে এমনকিছু বলে ফেলতে পারেন, যা তাদের শিরা-উপশিরাগুলোতে জিহাদের জজবা হাজারগুণ বৃদ্ধি করে দিতে পারে!
ফাঁসির মঞ্চে উঠলেন উমর মুখতার। অত্যন্ত ধীরেসুস্থে ও অবিচলতার সাথে ফাঁসির রজ্জু গলে পরলেন। ঠিক তখনই জল্লাদ ফাঁসির দড়িতে ধরে মারল টান! কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর পবিত্র আত্মা সন্তুষ্টজনক আর সন্তুষভাজন হয়ে ঊর্ধ্বগগন পানে করল রওয়ানা। আপন রবের সাথে মোলাকাত করতে।
উমর মুখতার যখন দৃপ্ত কদমে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে চলছিলেন, সেই ভয়ানক মুহূর্তে ভীতবিহ্বল জনতা তাঁর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল। উমরের হাত দুটো ছিল বাঁধা। লোহার বেড়ি দিয়ে। তাঁর চেহারায় তখন পরম তৃপ্তির মুচকি হাসি দ্যুতি ছড়াচ্ছিল। এই মুচকি হাসি ছিল তাঁর জাতীকে বিদায়মুহূর্তে শেষবারের মতো মুচকি হাসি!
ফাঁসির সময় যারা তার একেবারে কাছে ছিল, ফাঁসির মঞ্চে সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় তাদের কেউ একজন উমরকে ধীরকণ্ঠে নামাজের আজানের মতো আজান দিতে শুনতে পেল! জনৈক লিবীয় কর্মকর্তা তার একেবারে কাছে ছিলেন। জল্লাদ যখন তাঁর গলায় ফাঁসির রজ্জু পরাচ্ছিল, তখন ওই কর্মকর্তা উমরকে শুনতে পেলেন, তিনি সুরা আল-ফাজরের ২৭-২৮ নং আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত করছেন- ‘হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার রবের কাছে সন্তুষ্টজনক ও সন্তুষভাজন হয়ে ফিরে যাও!’
শহিদ উমর মুখতারের শাহাদাত নিয়ে অনেক কবিই শোকাবহ কাব্য রচনা করেছেন। যা একটি দাস্তান হবার মতো। তাদের মধ্যে কবিকুলের সম্রাট আহমদ শাওকির কবিতা একটু বেশিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। দু-চারটি পঙক্তি শুনুন-
‘তোমার দেহাবশেষ পুঁতে নিল তারা বানিয়ে বালুর নিশান,
যে নিশান জাগিয়ে তুলে মরুর উপত্যকা বিকেল-বিহান।
এ তো এমন জখম ও নির্মম বলি, যা চিৎকার করে যায়,
যুগ থেকে যুগান্তর টুকটুকে লাল স্বাধীনতা খোঁজে বেড়ায়।’
সূত্র : লায়ন অব দ্য ডেজার্ট : ১৩৮-১৪৬
মূল : ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
অনুবাদ : আইনুল হক কাসিমী

অসভ্য সমাজেতো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়া জার্মানীর বায়োলজিকাল রিসার্চার বলেছেন- এক মাসে একজন ফুটবলার কয়েক মিলিয়ন ইউরো আয় করে। আর একজন রিসার্চার আয় করে মাত্র ১৮০০ ইউরো। এক ছবিতে একজন ম্যুভি স্টার যা আয় করে - সারা জীবন গবেষণায় একজন গবেষক তার একশত ভাগের একভাগও আয় করেনা। আর এখন জীবন বাঁচাতে আপনি হন্যে হয়ে ভাইরাসের প্রতিষেধক খুঁজছেন। যান না এখন মেসি, রোনাল্ডো, টমক্রুজের কাছে। ওরাই আপনার কিউর বের করে দিবে।

নেসেসিটির চেয়ে লাক্সারী যে পৃথিবীতে বড় হয়ে যায়, জীবন বাঁচানো মানুষদের চেয়ে বিনোদনের মানুষ সেলিব্রেটি হয়ে যায়, হাসপাতালের চেয়ে স্টেডিয়ামের গুরুত্ব বেড়ে যায়- সেই অসভ্য সমাজেতো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র শুভেচ্ছা.

  বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তাই এ দিন সকল কালিমা আর কলুষতাক...