* দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা*

ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র * সকল প্রকার একাউন্ট খুলতে * * টাকা জমা করতে * টাকা উঠাতে * * বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এর টাকা বোনাসসহ উঠাতে * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে আসুন। * * দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র শনিবারসহ ৬ দিন খোলা* * প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ 01711-458151* 01700-925241*

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

মহামারিতে ঘরে অবস্থানের বিস্ময়কর সাওয়াব

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ সাইয়্যেদা আঈশা রাদি. বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। উত্তরে তিনি বলেন—
أَنَّهُ كَانَ عَذَابًا يَبْعَثُهُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ فَجَعَلَهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ فَلَيْسَ مِنْ رَجُلٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَيْتِهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الشَّهِيدِ
“মহামারী হলো, আযাব। যাদের ওপর ইচ্ছে, আল্লাহ এ আযাব পাঠান। পরিশেষে তিনি তা ঈমানদারদের জন্য রহমত বানিয়ে দেন এভাবে যে, কোনো বান্দা যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং সেসময় নিজ বাড়িতে ধৈর্য সহকারে, সাওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বাস বুকে নিয়ে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তাআলা তাকদিরে যা চূড়ান্ত রেখেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আক্রান্ত করতে পারবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শহিদের সমপরিমাণ সাওয়াব।”

তথ্যসূত্র :
মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং : ২৬১৮২
বিখ্যাত হাদিস বিশ্লেষক শুয়াইব আরনাউত রহ. বর্ণনার মান নির্ণয় করে বলেন,
إسناده صحيح على شرط البخاري
.
সুবহানাল্লাহ, এই মহামারী আমাদের জন্যে কত বড় রহমত যে,
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই দিনগুলোতে আমরা স্রেফ সঠিক বিশ্বাস লালন করে ঘরে অবস্থান করে দুআ, তাওবা, ইসতিগফার ও ইবাদত পালন করে গেলেই শহিদের সাওয়াব পেয়ে যাব।
তারপরও কি আমরা বুঝব না!
Collected

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০

করোনার সর্বশেষ আপডেট:

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে মারা গেছেন ১৪৬০ জন- যা গতকালের চেয়েও বেশি। ইতালিতে মারা গেছেন ৬০২ জন। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪ জন, স্পেনে ৪৩৪ জন, ইরানে ১২৭ জন, যুক্তরাজ্যে ৫৪ জন, নেদারল্যান্ডসে ৩৪ জন, জার্মানীতে ২২ জন মারা গেছেন। পরিস্থিতি নতুন করে খারাপ হয়েছে সুইজারল্যান্ডে, সেখানে ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ২০ জন। এছাড়া ডেনমার্কে ১১ জন, বেলজিয়ামে ১৩ এবং ফিলিপিনসে ৮ জন মারা গেছেন। করোনা ভাইরাসে মোট নিহতের সংখ্যা গতকাল এ সময়ে ছিল ১৪, ৪৩৬ জন আর ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে এখন নিহতের মোট সংখ্যা ১৬০৯৮ জন।
মাত্র ২৪ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়ে ৩ লাখ ৬৬ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সবচেয়ে বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭৩০৯ জন। আরো যেসব দেশে বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে ইতালিতে ৪৭৯০, ম্পেনে ৪৩২১, ইরানে ১৪১১, ফ্রান্সে ৬৭১, সুইজারল্যান্ডে ১০৭৩, নেদারল্যান্ডসে ৫৪৫, অস্ট্রিয়াতে ৭২৪, পুর্তুগালে ৪৬০, মালয়েশিয়ায় ২১২ (মারা গেছে নতুন করে ৪জন), দক্ষিন আফ্রিকায় ১২৮, রোমানিয়ায় ১৪৩, থাইল্যান্ডে ১২২ এবং ইকুয়েডরে ১৫২ জন আক্রান্ত হয়েছে।
আল্লাহু গাফুরুর রাহীম। আমরা তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই। পানাহ চাই।
(AMeen, Ali Ahmad Mabrur)

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৩১ সাল।
বুধবার, সকাল ৯টা। বেনগাজির উত্তরাঞ্চল ‘সালুক’-এ ইতালিয়ানরা ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করে। একটুপরই এখানে ফাঁসির দড়িতে লটকানো হবে লিবিয়ার মুজাহিদ নেতা, সানুসি আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক, জাবালে আখজারের লৌহমানব, মরুসিংহ উমর মুখতারকে। এখানেই তাঁকে সাম্রাজ্যবাদী ইতালির বিরুদ্ধে ২০ বছর যাবত জিহাদের স্বাদ মিটিয়ে দেওয়া হবে।

ইতালিয়ান পশুগুলোর মন-মানসিকতা ছিল বড় ইতর। তারা ইতিহাসের ঘৃন্য কাজটাই করে দেখাল। উমর মুখতারকে জনগণণের চক্ষুর অন্তরালে ফাঁসি দিতে তাদের ইতরামি বাধা দিয়ে বসলো। বিভিন্ন গণবন্দিশিবিরে আটককৃত প্রায় ২০ হাজার আবালবৃদ্ধবনিতাকে সে জায়গায় উপস্থিত করল তারা। পাশাপাশি লিবিয়ার বিভিন্ন গোত্রীয় মোড়ল এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকেও আনতে বাধ্য করল। চর্মচক্ষু দিয়ে তাদের নেতা উমর মুখতারের ফাঁসির হৃদয়বিদারক দৃশ্য অবলোকন করার জন্য!
ড. উনাইজি। বেনগাজির একজন উঁচু শ্রেণির লোক। তিনিও উপস্থিত লোকদের মধ্যে ছিলেন। উমর মুখতারের ফাঁসির সেই অন্তর বিদীর্ণকারী মুহূর্তের কথা নাহয় তাঁর জবান থেকেই শুনুন--
‘সে সময় উপস্থিত লোকদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। লিবীয় নেতা উমর মুখতারকে ফাঁসির দড়িতে দেখে আমি সহ্য করতে পারিনি। অসুস্থ হয়ে পড়ি। ওই অলক্ষুণে দিনে ফাঁসি কার্যকরের মুহূর্তে ইতালিয়ানরা আমাকে উপস্থিত হতে ছাড় দেয়নি। হ্যাঁ, তারা আমাকে তখনই ছাড় দিয়েছে, যখন তারা অনুভব করতে পেরেছে যে, আমি অসুস্থ ও অপারগ হয়ে পড়েছি!
হায় আল্লাহ! ওই মুহূর্ত কতইনা ভয়ানক, যে মুহূর্তে উমর মুখতার খুবই ধির কদমে এবং অদ্ভুত বীরত্বে শাহাদাত পাঠ করতে করতে ফাঁসির রজ্জুর দিকে হেঁটে হেঁটে চললেন! তখন তিনি বারবার শাহাদাতাইন পাঠ করতে লাগলেন- আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্ললাহ!
তিনি হাঁটছেন। ফাঁসির মঞ্চের দিকে। তাঁর চেহারা চমকাচ্ছে। শাহাদাতের আনন্দ আর আল্লাহর ফয়সালার খুশিতে। যখনই তিনি ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে উঠলেন, অমনি ইতালিয়ান হেলিকপ্টারগুলো ফাঁসির আঙিনার ঠিক উপরে, শূন্যের মধ্যে, খুব কাছাকাছি হয়ে, বিরাট আওয়াজে চক্কর দিতে শুরু করল! কিন্তু ফাঁসি কার্যকরের মুহূর্তে কেন এই হেলিকপ্টারের মহড়া?
যাতে পরিবেশটা আর সুন্দর না থাকে। হইচই শুরু হয়ে যায়। লিবীয় জনতা তাদের নেতা উমর মুখতারের কোনো বিদায়ী বার্তা শুনতে না পায়! কারণ, হয়তোবা তিনি বিদায়কালে তাঁর জাতীর উদ্দেশ্যে এমনকিছু বলে ফেলতে পারেন, যা তাদের শিরা-উপশিরাগুলোতে জিহাদের জজবা হাজারগুণ বৃদ্ধি করে দিতে পারে!
ফাঁসির মঞ্চে উঠলেন উমর মুখতার। অত্যন্ত ধীরেসুস্থে ও অবিচলতার সাথে ফাঁসির রজ্জু গলে পরলেন। ঠিক তখনই জল্লাদ ফাঁসির দড়িতে ধরে মারল টান! কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর পবিত্র আত্মা সন্তুষ্টজনক আর সন্তুষভাজন হয়ে ঊর্ধ্বগগন পানে করল রওয়ানা। আপন রবের সাথে মোলাকাত করতে।
উমর মুখতার যখন দৃপ্ত কদমে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে চলছিলেন, সেই ভয়ানক মুহূর্তে ভীতবিহ্বল জনতা তাঁর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল। উমরের হাত দুটো ছিল বাঁধা। লোহার বেড়ি দিয়ে। তাঁর চেহারায় তখন পরম তৃপ্তির মুচকি হাসি দ্যুতি ছড়াচ্ছিল। এই মুচকি হাসি ছিল তাঁর জাতীকে বিদায়মুহূর্তে শেষবারের মতো মুচকি হাসি!
ফাঁসির সময় যারা তার একেবারে কাছে ছিল, ফাঁসির মঞ্চে সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় তাদের কেউ একজন উমরকে ধীরকণ্ঠে নামাজের আজানের মতো আজান দিতে শুনতে পেল! জনৈক লিবীয় কর্মকর্তা তার একেবারে কাছে ছিলেন। জল্লাদ যখন তাঁর গলায় ফাঁসির রজ্জু পরাচ্ছিল, তখন ওই কর্মকর্তা উমরকে শুনতে পেলেন, তিনি সুরা আল-ফাজরের ২৭-২৮ নং আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত করছেন- ‘হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার রবের কাছে সন্তুষ্টজনক ও সন্তুষভাজন হয়ে ফিরে যাও!’
শহিদ উমর মুখতারের শাহাদাত নিয়ে অনেক কবিই শোকাবহ কাব্য রচনা করেছেন। যা একটি দাস্তান হবার মতো। তাদের মধ্যে কবিকুলের সম্রাট আহমদ শাওকির কবিতা একটু বেশিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। দু-চারটি পঙক্তি শুনুন-
‘তোমার দেহাবশেষ পুঁতে নিল তারা বানিয়ে বালুর নিশান,
যে নিশান জাগিয়ে তুলে মরুর উপত্যকা বিকেল-বিহান।
এ তো এমন জখম ও নির্মম বলি, যা চিৎকার করে যায়,
যুগ থেকে যুগান্তর টুকটুকে লাল স্বাধীনতা খোঁজে বেড়ায়।’
সূত্র : লায়ন অব দ্য ডেজার্ট : ১৩৮-১৪৬
মূল : ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
অনুবাদ : আইনুল হক কাসিমী

অসভ্য সমাজেতো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়া জার্মানীর বায়োলজিকাল রিসার্চার বলেছেন- এক মাসে একজন ফুটবলার কয়েক মিলিয়ন ইউরো আয় করে। আর একজন রিসার্চার আয় করে মাত্র ১৮০০ ইউরো। এক ছবিতে একজন ম্যুভি স্টার যা আয় করে - সারা জীবন গবেষণায় একজন গবেষক তার একশত ভাগের একভাগও আয় করেনা। আর এখন জীবন বাঁচাতে আপনি হন্যে হয়ে ভাইরাসের প্রতিষেধক খুঁজছেন। যান না এখন মেসি, রোনাল্ডো, টমক্রুজের কাছে। ওরাই আপনার কিউর বের করে দিবে।

নেসেসিটির চেয়ে লাক্সারী যে পৃথিবীতে বড় হয়ে যায়, জীবন বাঁচানো মানুষদের চেয়ে বিনোদনের মানুষ সেলিব্রেটি হয়ে যায়, হাসপাতালের চেয়ে স্টেডিয়ামের গুরুত্ব বেড়ে যায়- সেই অসভ্য সমাজেতো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই।

"প্রথমে উট বাঁধো অতঃপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো"

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ "আল্লাহর হুকুম ছাড়া যেহেতু গাছের একটি পাতাও নড়ে না, সেহেতু আল্লাহর হুকুম ছাড়া করোনা ভাইরাসও কাউকে আক্রান্ত করবে না"- এগুলো ১০০% সত্য কথন এবং সঠিক ঈমানী চেতনা বলেই বিশ্বাস করি। তবে আল্লাহর উপর ভরসা করার পর সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন আছে কী? এক্ষেত্রে একটি হাদিস বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। একদা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দেখলেন এক বেদুইন উট না বেঁধেই তড়িঘড়ি করে নামাজ পড়তে আসছে। নবী করিম (সাঃ) বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করলেন, "উট বেঁধে নামাজ পড়তে আসছ না কেনো?" বেদুইন উত্তর দিলো, "আল্লাহর উপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে, তিনিই আমার উট দেখে রাখবেন।" শুনে মহানবী (সাঃ) নির্দেশ দিলেন, "প্রথমে উট বাঁধো অতঃপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো" (তিরমিযি)।
হাদিসটির শিক্ষা অনুযায়ী, যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সকল অপশান কাজে লাগাতে হবে। তারপর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু আমরা অনেকেই বিনা চেষ্টায় সব কিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে ভালো ফলাফলের অপেক্ষায় থাকি। এক্ষেত্রে অনেকের বক্তব্য হচ্ছে, "আল্লাহ ভরসা, আল্লাহই দেখে রাখবেন, আমার বা আপনার কিবা করার আছে?" অথচ যে কোন সমস্যার সমাধানে বা অবস্থার পরিবর্তনে আমাদের প্রচেষ্টা অপরিহার্য। পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে" (সূরা আর-রাদঃ১১)। অতএব আসুন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মহান আল্লাহর উপর ভরসার পাশাপাশি তাঁর অনুশাসন মেনে চলি এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শসহ WHO ও IEDCR এর নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করি। করোনার স্রষ্টা আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকুলের প্রতি সহায় হোন। আমীন।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০

কাবা শরিফের প্রধান ইমাম সুদাইসির আবেগঘন টুইট

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ শায়খ ড. আব্দুর রহমান সুদাইসি। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির প্রধান ইমাম তিনি। দিন দিন কাবা শরিফ ও মসজিদে নববি মুসল্লিহীন হয়ে যাওয়ায় আগেবপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তার আবেগমাখা প্রর্থণা সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ টুইটারে তিনি উল্লেখ করেন-
- হে আল্লাহ! আপনার ঘর থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করবেন না।
- হে আল্লাহ! আমাদের পাপের কারণে পবিত্র মসজিদের নামাজের জামাআত থেকে বঞ্চিত করবেন না।
- হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমাদের আবার ফিরিয়ে নিন।
- হে আল্লাহ! আমাদের তাওবা কবুল করুন।
- হে আল্লাহ! আমাদের এবং মুসলিম উম্মাহকে সব ধরণের মহামারি ও দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন।
কাবা শরিফের প্রধান ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান আস-সুদাইসির আবেগঘন এ আহ্বানগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এভাবেই ওঠে এসেছে। আল্লাহর কাছে তিনি আরও আহ্বান করেন-
- হে আল্লাহ! মুসিবত দিন দিন কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। তুমি ছাড়া আমাদের ফরিয়াদ শোনার আর কেউ নেই হে আল্লাহ!, তুমি ছাড়া আর কে আছে? হে আল্লাহ! যার কাছে আমরা সাহায্য চাইবো।
- হে আল্লাহ! আমাদের এ অবস্থার উপর দয়া করুন। আমাদের অক্ষমতাগুলো দূর করে আমাদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! তুমিই আমাদের অভিভাবক।
শায়খ সুদাইসি আবেগঘন সেরা যে আবেদনে মুসলিম হৃদয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে তাহলো-
হে আল্লাহ! এই বিপদ মহামারির কারণে তোমার ঘরে যেতে না পারার ব্যাথা আর সইতে পারছি না। হে মহান শক্তিমান, দয়া করে এই মহামারি দূর করে দাও।’
এদিকে কাবা শরিফের আজান পরিবর্তন সম্পর্কে টুইটে তিনি আরও লেখেন, ‘আজ থেকে আমরা মুয়াজ্জিনকে এ শব্দ বলতে শুনবো যে, ‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’। অর্থাৎ নিজ নিজ জায়গায় নামাজ পড়ে নাও’।
আরেক টুইটে তিনি লেখেন-
‘তুমি থাকতে কার কাছে অভিযোগ করব আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কাছে হাত পাতবো হে আল্লাহ! তুমিই তো একমাত্র মাবুদ। তোমাকে ছেড়ে আমরা কার এবাদত করব? তোমার উপরই আমাদের সব আশা-ভরসা। হে আল্লাহ! আমাদের সেসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত কর, যারা নেয়ামত পেলে শোকর আদায় করে। বিপদে সবর করে। গোনাহ হয়ে গেলে তওবা করে।
প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের এ বিপদ মুহূর্তে তিনি বেশি বেশি এ দোয়া পড়তে গুরুত্বারোপ করেন। আর তাহলো-
لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِالله
উচ্চারণ : ‘লা হাউলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।’
অর্থ : ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই, কোনো ভরসা নেই, যিনি মহান ও সর্বশক্তিমান।’
এ দোয়া সম্পর্কে তিনি টুইটে লেখেন-
‘লা হাওলা’ পড়ার মাধ্যমে কত বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং আল্লাহর প্রশান্তি, দয়া ও মদদ পাওয়া যায় তা যদি মানুষ জানতো তবে এ দোয়া এমনভাবে পড়তো যে, মুহূর্তের জন্য বিরাম নিতো না। বরং চলতে ফিরতে, উঠতে বসতে সব সময় ‘লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম’ পড়তো।
করোনা থেকে মুক্তিতে তিনি আল্লাহর কাছে এভাবে আবেদন করেন-
হে আল্লাহ! তোমার কাছেই আমানত রাখছি এই পবিত্র নগরি হারাম শরীফ ও তার বাসিন্দাদের। নারী পুরুষ যুবক-বৃদ্ধ-শিশু, ঘর-বাড়ি, আকাশ-মাটি সবকিছুই তোমার কাছে আমানত রাখলাম। দয়া করে তুমি এগুলোকে মহামারি থেকে হেফাজত কর। তোমার মহান কুদরতে তুমি করোনাভাইরাস দূর করে দাও।’
পরিশেষে সবার জন্য সাহস যোগাতে আশ্বস্থ করে লেখেন-
বিপদ যত বড় হোক, তা চিরদিনের নয়। বরং বিপদ যত বড় হোক না কেন, আল্লহর রহমত তার চেয়ে অনেক বড়। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমাদের মুক্তি অতি কাছেই। সুতরাং হতাশ হবেন না। অধৈর্য হবেন না। অস্থিরতা প্রকাশ করবেন না। আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকুন। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর নিজের সবকিছু সমার্পণ করুন। অন্যকেও আল্লাহর ওপর ভরসা করতে নিশ্চিন্ত করুন। আমিন।

এমন মৃত্যু কারো ভাগ্যে যেন না হয়।

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ যিনি বাংলাদেশে করোনায় মারা গেলেন, সেই ব্যক্তিও কি কখনো ভেবেছিলেন, তার লাশের পাশে আসবে না কোনো স্বজন? তার জানাজায় থাকবে না কোন মুসল্লী? শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভীড় করবে না কেউ? এমন মৃত্যু কি কখনো তার কল্পনায় ছিল? হ্যাঁ, এটি এখন বাস্তবতা। ফেসবুকে বিদেশে করোনায় মৃতের লাশ সৎকারের দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছি অনেকেই। এটি ফেসবুক নয়, বাস্তব এবং বাংলাদেশের দৃশ্য। যে দৃশ্য দেখে কেউ স্থির থাকতে পারে না।
প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম মৃত ব্যক্তির দাফন হয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে। এই ব্যক্তির দাফন-কাফনে তার স্বজনদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি হয়নি জানাজাও। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম লাশের দাফনের ব্যবস্থা করেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট দূর থেকে শুধু তদারকি করেছেন।
কে জানে, এমন দুর্ভাগ্য আপনার-আমার হবে না?
উল্লেখ্যঃ বিদেশ থেকে আগত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়েছিলেন এই বৃদ্ধ। একমাত্র সচেতনতাই পারে আমাদের এই দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে...
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাই কে হেফাজত করুন। আমিন।

পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; এগুলো সবই বিশ্বজগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ সুরা হাদিদ পড়তে পারেন। মনে হবে যেন এখনকার সময়ের জন্যই আল্লাহ নাজিল করেছেন। কুরআনের সবচেয়ে বড়ো শক্তি হলো এই আসমানী কিতাবটি সবসময়ই অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। আল্লাহ বলেছেন,
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি শক্তিধর; প্রজ্ঞাময়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম। তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশ্য এবং অদৃশ্য। তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। (১-৩)
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে সম্পদের মালিক করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। অতএব, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ব্যয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। (আয়াত ৬)
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি এখনো আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত হওয়ার এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয়টি কোমল হওয়ার মতো সময় আসেনি? তারা যেন অতীতের কিতাবধারী ব্যক্তিদের মতো না হয়ে যায়। তাদের ওপর কিতাব নাজিল হওয়ার পর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়ে যায়। এরপর অতঃপর তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাদের অধিকাংশই পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল। (১৬)
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি। অপরদিকে যারা কাফের ও আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। (১৯)
তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়। এগুলোর উদাহরণ এমনই এক বৃষ্টির মতো, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।
পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; এগুলো সবই বিশ্বজগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। এটা এজন্যে বলা হচ্ছে, যাতে তোমরা যা হারাও তার জন্য দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তার জন্যও অধিক উল্লসিত না হও। আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (২২-২৩)
এখান থেকে আমরা যা শিখতে পারি...
১. আল্লাহর ক্ষমতার বিষয়ে পূর্ণ আস্থা রাখা। যুক্তি আর বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা শেষ হবে। একটা সময় গিয়ে বিজ্ঞান চুপ হবে। কিন্তু আল্লাহর অবস্থান ও বাণী কখনোই ম্লান হবে না।
২. ঈমান মজবুত করতে হবে। নিজেদের আয় থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় বাড়াতে হবে।
৩. ইসলাম ও আল কুরআন সত্য। এটা মানলেও আমরা এগুলোর ভেতরে নেই। আমাদের অন্তরটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই সত্য জানার পরও আমরা পাপ করছি। এভাবে চলতে থাকলে তা ভয়ংকর পরিণতির দিকে আমাদেরকে নিয়ে যাবে।
৪. আল্লাহর নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করা যাবে না। এগুলোকে নিয়ে ফান করার সুযোগ নেই।
৫. যা আজ সুন্দর লাগছে, তাই আগামীকাল পঁচা খড়কুটোর মতো হয়ে যাবে। এই দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবন আনন্দ আয়োজন প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
৬. যা আমরা হারাবো, তা ভাগ্যে ছিলনা বলে মেনে নেওয়া এবং তার জন্য দু:খ না করা। আর যা পাবো তা নিয়ে অধিক উল্লাস না করা। কেননা আল্লাহ যে কোনো সময় তা কেড়ে নিতে পারেন।
৭. আল্লাহ কোনো ঔদ্ধত্য ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। তাই এই দুইটি বিষয় থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকতে হবে।
(A lot blessing to Ali Ahmad Mabrur)

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০

পবিত্র ক্বাবা শরীফে তাওয়াফ বন্ধের ঘটনাসমূহ

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ৮৬৫ সালে ইসমাইল ইবনে ইউসুফ নামের এক উন্মাদ হজ্জ্বে এসে হাজারের উপর মানুষকে হত্যা করেছিল। সেই সময়ে কাবা টেম্পোরারিলি বন্ধ হয়।

কাবায় তাওয়াফ বন্ধ হয় ৯৩০ সালে। কারমাতিয়া নামের এক্সট্রিমিস্ট শিয়া গ্রূপ ছিল, যারা ঘোষণা দিয়েছিল যে কাবার চারদিকে তাওয়াফ করা জাহেলী আরবদের প্রথা, তাই ওরা কাবা ধ্বংস করতে আসে। লড়াই হয়, এবং ওরা কাবার সামনের কালো পাথরটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ২২ বছর সেটা ওদের দখলে ছিল, এবং অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ওরা ওটাকে ঘিরেই পূজা শুরু করে দিল। পরে এটিকে উদ্ধার করা হয়, এবং তারপর থেকে আবারও কাবার সামনে প্রতিস্থাপন করা হয়।

আবারও কাবায় তাওয়াফ বন্ধ হয়েছিল ১২৫৮ সালে। মঙ্গলরা তখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। বাগদাদে দুই মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করে ফোরাত নদীর পানির রঙ পাল্টে ফেলেছিল। ইসলামের খলিফাকে হত্যা করে তারা। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কারোর সাহস হয়নি বাড়ির বাইরে এক কদমও ফেলার। তাই ওমরাহ এবং হজ্ব সেই বছরের জন্য বাতিল করা হয়।

১৮১৪ সালে প্লেগ ছড়িয়ে পরে এবং আরব অঞ্চলেই আট হাজারের উপর মানুষ মারা যান। সেই সময়ে কাবার তাওয়াফ বন্ধ করা হয়।

১৮৩১ ইন্ডিয়া থেকে কিছু হাজি, ওমরাহকারী এক ছোঁয়াচে রোগ নিয়ে আসেন, যার ফলে কাবায় উপস্থিত এক তৃতীয়াংশ মানুষ সেই রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান। আবারও কাবা বন্ধ করতে হয়।

১৮৯২ কলেরা ছড়িয়ে পরে। ১৯৭৯ সালে সন্ত্রাসী হামলা ঘটে। এইভাবে ১৯৮৭ সর্বশেষ ম্যানেনজিসাইটিস আউটব্রেক ঘটে, এবং কাবা বন্ধ করা হয়। এছাড়াও কাবা গৃহে অগ্নিকাণ্ডের ফলেও কাবা তাওয়াফ বন্ধ ছিল।

তারমানে দেখা যাচ্ছে, নানান কারণেই ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে কাবা তাওয়াফ বন্ধ করতে হয়েছে। তার মানে, ভবিষ্যতেও বহুবার বন্ধ করা হবে। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন? যেই আল্লাহ এত সর্বশক্তিমান, তিনি কেন তাঁর ঘরকে প্রটেক্ট করেন না? আবাবিল পাখি পাঠাবার ঘটনাতো আমরা কুরআনেই পাই।

দেখুন, আপনার যদি এই ধারণা হয়ে থাকে, তাহলে আপনার ঈমানে সমস্যা আছে। মানে, ইসলাম সম্পর্কে আপনার পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেই বলেই এমন চিন্তা আপনার মাথায় আসছে। ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর শরিক কেউ নেই। এই বাক্য আমরা সবাই জানি, মানি, কিন্তু উপলব্ধি করছি না। এই বাক্যের মানে আল্লাহ ছাড়া পৃথিবীর ও পৃথিবীর বাইরের সবকিছুই নশ্বর। আর কারোরই কোন ক্ষমতা নেই। না নবীর (সঃ), না কাবা গৃহের, না কোন আসমানী ফেরেশতার, না অন্য কারোর। সব ক্ষমতার মালিক আল্লাহ নিজে। এই ব্যাপারটি আপনাকে বুঝতেই হবে। কারন এটি না বোঝার কারণেই যেদিন আমাদের নবী (সঃ) মারা গেলেন, সেদিন মদিনার মুনাফেকরা বলতে শুরু করেছিল এ কেমন নবী যে মারা যায়? ওদের বিশ্বাস ছিল যেহেতু আল্লাহ একজনকে নবী নির্বাচন করেছেন, তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন, জরামুক্ত থাকবেন, অসুস্থ হবেন না, ক্ষুধা তৃষ্ণা ইত্যাদি কিছুই পাবে না ইত্যাদি। আমাদের ধর্ম এটি শিক্ষা দেয় না। আমাদের নবী একজন মানুষ ছিলেন, যাকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর বাণী প্রচার(তবলিগ) করতে। আল্লাহর ইচ্ছা এবং সাহায্য ছাড়া তাঁর ও কোন ক্ষমতা ছিল না কাউকে মুসলিম বানাবার। যে কারনে পৃথিবীতে তাঁর সবচেয়ে আপন মানুষ, প্রিয় ব্যক্তিত্ব আবু তালিব মুসলিম হননি। রাসূলকেও যুদ্ধের সময়ে লড়তে হয়েছে, খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খনন করতে হয়েছে, ক্ষুধার যন্ত্রণায় পেটে পাথর বাঁধতে হয়েছে। এসবের পেছনে কী কারন ছিল? যাতে লোকে তাঁর পূজা শুরু করে না দেয়। যদি দেখা যেত লোকজন ক্ষুধায় মরছে, এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) হাওয়া থেকেই পোলাও কোর্মা রোস্ট নামিয়ে দিচ্ছেন, তাহলে লোকে তাঁর পূজা শুরু করে দিত। হ্যা, মোজেজা ঘটেছে, কিন্তু সেগুলোও আল্লাহর নির্দেশেই, আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী। সর্বক্ষেত্রে ঘটেনি।

তেমনি কাবার ব্যাপারটিও তাই। আমাদের বুঝতে হবে কাবার কোন নিজস্ব শক্তি নেই, ক্ষমতা নেই। ওটা স্রেফ একটি ঘর। সব ক্ষমতা আল্লাহর, যিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলেই আমরা ওখানে ওকে ঘিরে চক্রাকারে হাঁটি। লোকজন এইটাই মানতে পারেনা। ওরা কাবার গিলাফ ছিঁড়ে বাড়ি নিয়ে গিয়ে পানিতে ধুয়ে খায়। মানত করে, দোয়া করে, মাটিতে পড়ে গেলে তুলে মাথায় ঠ্যাকায়। এমন অনেক কিছুই ঘটে যা অতি ভক্তির ফলে শির্কের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কাজেই, আমাদের বুঝতে হবে কাবা গৃহের কোন ক্ষমতা নেই। মূল ক্ষমতা তাঁর মালিকের।

আমাদের দেশে প্রায়ই এমন ছবি শেয়ার হতে দেখবেন যে সুনামিতে গোটা দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু মসজিদের কোনই ক্ষতি হয়নি। চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মানুষ মরে গেছে, কিন্তু মসজিদের দেয়ালে কলেমা লেখার কিছু হয়নি বলে লোকে সুবহানাল্লাহ বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলছে। এরা যে কাবা ঘরের তাওয়াফ বন্ধ দেখলে হার্ট এটাক করবে, সেটাইতো স্বাভাবিক।

জেনে রাখুন, ইসলামের দৃষ্টিতে, আল্লাহর সৃষ্ট একজন মানুষের প্রাণের মূল্য, কাবা গৃহের হাজারটা ইটের মূল্যের চেয়ে বহুগুন বেশি।

শেষ করি নবীজির (সঃ) মৃত্যুর সময়ে আবু বকরের দেয়া দুই লাইনের দেয়া ভাষণ দিয়ে, যেখানে তিনি বলেন, "যারা মুহাম্মদের (সঃ) পূজা করতো, তাঁরা জেনে নিক তিনি মারা গেছেন। এবং যারা আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁরা জেনে নিক আল্লাহ অবিনশ্বর, চিরঞ্জীব।"

মুসলিম হলে অবশ্যই জেনে রাখবেন, সবই আল্লাহর হুকুমে হচ্ছে, সবকিছুর নিয়ন্ত্রনে তিনি আছেন, এবং সবই আমাদের শিক্ষার জন্যই হচ্ছে। কাজেই নিজের ঈমান তাজা করুন। ভুয়া আজগুবি কথাবার্তা শোনার অভ্যাস ত্যাগ করুন। মুসলিম হলে ইসলামকে সঠিকভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করুন।

বাকি আল্লাহ ভরসা।
মূল পোস্ট লিখক কে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন আমীন।

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০

নবীজী (সঃ) এর ধর্য্য এবং ইহুদীর ইসলাম গ্রহণ

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ এক ইহুদী হুজুর নবী কারীম (ﷺ) এঁর দরবারে প্রবেশ করলযখন তিনি সাহাবাগনকে চারপাশে নিয়ে বসেছিলেন। সে সাহাবাগনের সারি ভেদ করে নবীজীরﷺ সামনে দিয়ে দাঁড়াল। গিয়ে নবীজীরﷺ কে খুব রূক্ষ ভাষায় বলল, "হে মুহাম্মদ! আমার যে পাওনা তোমার কাছে আছে তা পরিশোধ কর। তোমরা বনু হাশিম ঋন আদায়ের ক্ষেত্রে খুব সময় নাও।"
নবীজীﷺ এই ইয়াহুদীর কাছ থেকে কয়েক আওসাক খেজুর ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু তখনও সেই খেজুর ফিরিয়ে দেয়ার সময় আসেনি। নির্ধারিত সময়ের আগেই সে উপস্থিত হয়ে গেছে ঋন ফিরে পেতে। তার এই বেয়াদবিমূলক আচরন দেখে হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) তলোয়ার বের করে বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন আমি এই বেয়াদবের গর্দান উড়িয়ে দিই!"

নবীজীﷺ বললেন, "হে ওমর! তুমি ওকে উত্তম পন্থায় ঋন আদায়ের নসিহত দাও, আর আমাকে উত্তমভাবে ঋন আদায় করার নসিহত দাও। হে ওমর! তুমি যাও বায়তুল মালের আমার অংশ থেকে এই ইহুদীকে তার পাওনা খেজুর আদায় করে দাও। আর তুমি তাকে কিছু বেশি দেবে।

তখন বায়তুল মালের দায়িত্বে ছিলেন মূলত: হজরত বিলাল রা:, কিন্তু নবীজীﷺ ওমর রা: কেই নির্দেশ দিলেন, যাও তুমি নিজ হাতে বায়তুল মালের আমার অংশ থেকে ঋন আদায় কর। কারন তুমি এই ইহুদী পাওনাদারের সাথে দুর্ব্যবহার করেছ।
ওমর রা: ঐ ইহুদীকে নিয়ে বায়তুল মালে প্রবেশ করলেন নবীজীর ﷺ ঋন পরিশোধের জন্য। ঋন পরিশোধের পর কিছু অতিরিক্ত খেজুরও তাকে দিলেন।

ঐ ইহুদী বললেন, "এই অতিরিক্ত খেজুর কেন?"
ওমর রা: জবাব দিলেন, "আমি আপনার সাথে মনে হয় রুক্ষ ব্যবহার করেছি সেজন্য।"
ঐ ইহুদী বললেন, "হে ওমর আপনি আমাকে চিনেছেন?"
ওমর রা: বললেন, না।
ঐ ইহুদী বললেন, "আমি জায়েদ ইবনু সা'নাহ।"
ওমর রা: বললেন, "আপনি কি সেই বিখ্যাত ইহুদী পন্ডিত?"
ঐ ইহুদী বললেন, "হ্যাঁ আমিই সেই ইহুদী পন্ডিত। আমি তাওরাত কিতাবে শেষ নবীর যত গুণ আছে সব মিলিয়ে দেখেছি, আর সেসব গুণই মুহাম্মদের ﷺ মধ্যে বিদ্যমান। শুধুমাত্র একটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখতে পারিনি। আজ তাও পেয়ে গেলাম। আমি তাওরাতে পেয়েছিলাম, "শেষ নবীর ধৈর্য্য ক্রোধের উপরে জয়লাভ করবে।" আমি সময়ের আগেই ঋন নিতে এসেছি, আবার মুহাম্মদের ﷺ সাথে খারাপ ব্যবহারও করেছি। কিন্তু তিনি এতটুকুও রাগ করেননি। বরং আরো বদান্যতা দেখিয়েছেন বেশি দিয়ে। হে ওমর! আমি পাওনা খেজুর নিতে আসিনি। বরং শেষ নবীর ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিতে এসেছিলাম। ঐ পাওনা খেজুর আমি আল্লাহর রাস্তায় গরীব সাহাবীদের জন্য সদকাহ করে দিলাম। চলুন আমাকে নবিজীরﷺ কাছে নিয়ে চলুন।" এই বলে তিনি নবীজীরﷺ কাছে এসে কালিমা শাহাদাৎ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন।
পরবর্তীতে তিনি একজন উত্তম সাহাবী হিসেবে জীবন কাটান এবং তাবুকের যুদ্ধে শহীদ হন।
(সহিহ ইবনে হিব্বান, ১/৫২১, ইমাম তাবরানী ফি মুজামিল কাবির
৫/২২২, মুসতাদরাকুল হাকিম, ৩/৬০৪)
( মুসলিমদের স্বর্ণালি ইতিহাস)

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র শুভেচ্ছা.

  বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  প্রতিবছর ঈদ আসে আমাদের জীবনে আনন্দ আর সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তাই এ দিন সকল কালিমা আর কলুষতাক...